ট্রাম্পের ইরান হামলায় সমর্থন নেই বেশিরভাগ নাগরিকের

আপডেট : ০৩ মার্চ ২০২৬, ১২:৩৮ এএম

ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা নিয়ে দেশটির জনগণের প্রতিক্রিয়া খুব একটা ইতিবাচক নয়। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যে হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হয়েছেন, তার ব্যাপারে প্রতি চারজন নাগরিকের মাত্র একজন এতে সমর্থন জানিয়েছেন। গত রবিবার শেষ হওয়া রয়টার্স/ইপসোসের এক জনমত জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে। অন্যদিকে, প্রায় অর্ধেক আমেরিকান যার মধ্যে প্রতি চারজন রিপাবলিকানের একজন অন্তর্ভুক্ত মনে করেন যে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামরিক শক্তি ব্যবহারে বড্ড বেশি আগ্রহী। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের প্রায় ২৭ শতাংশ বলেছেন, তারা এ হামলার পক্ষে, যেখানে ৪৩ শতাংশ মানুষ বিপক্ষে মত দিয়েছেন এবং ২৯ শতাংশ মানুষ নিশ্চিত ছিলেন না। জরিপটি দেখিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ৫৬ শতাংশ মানুষ মনে করেন, ট্রাম্প ওয়াশিংটনের স্বার্থকে এগিয়ে নিতে সামরিক শক্তি ব্যবহারে বড্ড বেশি আগ্রহী। ডেমোক্র্যাটদের বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ (৮৭ শতাংশ) এই মত পোষণ করেন। পাশাপাশি ২৩ শতাংশ রিপাবলিকান এবং কোনো দলের সঙ্গে যুক্ত নন এমন ৬০ শতাংশ মানুষও একই কথা বলেছেন। এ অভিযানে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের তিন সেনা নিহত এবং আরও পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন। যদিও ৫৫ শতাংশ রিপাবলিকান এ হামলার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন এবং ১৩ শতাংশ বিরোধিতা করেছেন, তবে রয়টার্স/ইপসোস জরিপে দেখা গেছে যে, ট্রাম্পের দলের ৪২ শতাংশ সদস্য বলেছেন, যদি এই ইরান অভিযানের ফলে ‘মধ্যপ্রাচ্যে তাদের সেনারা নিহত বা আহত হয়’, তবে তাদের সমর্থনের কমবে।

ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সিয়াল অ্যাপ্রুভাল রেটিং (জনপ্রিয়তা) সামান্য কমে ৩৯ শতাংশে এসে দাঁড়িয়েছে, যা ১৮-২৩ ফেব্রুয়ারি পরিচালিত রয়টার্স/ইপসোস জরিপের চেয়ে এক শতাংশ কম। ইরানে এ হামলাগুলো যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রথম প্রাইমারি শুরু হওয়ার ঠিক তিন দিন আগে শুরু হয়েছে। এই নির্বাচনই নির্ধারণ করবে যে, ট্রাম্পের রিপাবলিকানরা আগামী দুই বছর কংগ্রেসে তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে পারবে কি না। রয়টার্স/ইপসোস জরিপগুলো ধারাবাহিকভাবে দেখাচ্ছে যে নির্বাচনের আগে ভোটারদের প্রধান উদ্বেগ হলো অর্থনীতি, যা বৈদেশিক বিষয়ের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় ৪৫ শতাংশ মানুষ যার মধ্যে ৩৪ শতাংশ রিপাবলিকান এবং ৪৪ শতাংশ স্বতন্ত্র ভোটার বলেছেন, যদি যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাস বা তেলের দাম বাড়ে, তবে তারা ইরানের বিরুদ্ধে এই অভিযানের প্রতি সমর্থন কমিয়ে দেবেন। তেল ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, রবিবার ওভার-দ্য-কাউন্টার ট্রেডে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি ব্যারেল প্রায় ৮০ ডলারে পৌঁছেছে। বিশ্লেষকরা ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন যে সাম্প্রতিক এ সংঘাতের কারণে তেলের দাম ১০০ ডলার পর্যন্ত উঠে যেতে পারে। রয়টার্স/ইপসোসের এই সর্বশেষ জরিপটি দেশ জুড়ে ১ হাজার ২৮২ জন প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকের কাছ থেকে অনলাইনের মাধ্যমে মতামত সংগ্রহ করেছে। এতে ভুলের মাত্রা ছিল ৩ শতাংশ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত