হারার আগেই হারবেন না আফঈদারা

আপডেট : ০৩ মার্চ ২০২৬, ০১:৫৮ এএম

সামনে প্রবল প্রতিপক্ষ চীন। অনেক প্রতিবন্ধকতা জয় করা একঝাঁক নারী ফুটবলার নিয়ে পিটার বাটলারকে আজ লড়তে হবে এক অসম লড়াই। যে ম্যাচ দিয়ে এশিয়ান কাপে অভিষেক হবে ঋতুপর্ণা চাকমা, আফঈদা খন্দকারদের। এশিয়ার সেরা মঞ্চে অগ্নিপরীক্ষার আগে আলোচিত ডেভিড অ্যান্ড গোলিয়াথ সিনেমার প্রসঙ্গ টেনে আনলেন বাংলাদেশ কোচ।

সিডনির কমব্যাংক স্টেডিয়ামে বাটলারের শিষ্যদের আজ হতে হবে সাহসী এবং আত্মবিশ্বাসী। রুখতে হবে চীনা আক্রমণ। ‘আমরাও পারি’ বিশ্বাসটা অটুট থাকলে থামানো যাবে ঝড়। বিশ্বাসটা টুটে গেলে লহমায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হতে হবে।

এমনই এক ম্যাচের আগে ভীষণ নির্ভার বাটলার। হাসি-ঠাট্টায় মেতে থাকলেন সংবাদ সম্মেলনের পুরোটা সময়। একবারও রাগলেন না। আমি কখনোই রাগী না এমন অদ্ভুতুড়ে দাবিও করে বসলেন এক ফাঁকে। বাস্তবতা মেনে শিষ্যদের ওপর বিশ্বাস রাখতে বললেন। আবার প্রতিপক্ষের বাজে দিনের প্রত্যাশা করে অদ্ভুত-অলৌকিক প্রত্যাশার কথাও বললেন।  চীনকে যোজন এগিয়ে রেখে তিনি হারার আগেই না হারার মন্ত্র বুনে মাঠে নামার কথা বলেছেন।

এক সাংবাদিকের প্রশ্নে খুব হাসলেন কাল বাটলার। প্রশ্নটা ছিল এমন ‘চীনকে সত্যিই কি হারানো সম্ভব?’ কোচের সঙ্গে হাসিতে মাতলেন দেশি-বিদেশি সাংবাদিকরা। হাসির পালা শেষে বাটলার বললেন, ‘আমি একজন বাস্তববাদী মানুষ। মনে রাখতে হবে ফুটবলে প্রস্তুতিই সব; আপনি যদি ঠিকঠাক প্রস্তুতি না নেন, তবে ভালো ফলাফল আশা করতে পারেন না। এটাই সত্য। আমার মনে হয় এই বিষয়ে যথেষ্ট বলা হয়েছে, এখন আমাদের এসব পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।’

এরপর যোগ করেন, ‘তারা (চীন) সত্যিই অনেক ভালো দল। তারা কেবল ফুটবল পরাশক্তিই নয়, তাদের বিনিয়োগও অনেক বেশি এবং তাদের খেলোয়াড়রাও বেশ দক্ষ। আন্তে) তাদের খুব ভালো প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। এটি আসলে ডেভিড অ্যান্ড গোলিয়াথ কিংবা ‘বিউটি অ্যান্ড দ্য বিস্ট’-এর মতো একটি লড়াই। আমাদের বাস্তববাদী হতে হবে, আমরা আসলে তাদের পর্যায়ের দল নই।’

আফঈদা দলের পাশাপাশি নেতৃত্ব দেবেন রক্ষণভাগেরও। বাটলার প্রিয় হাই-লাইন ডিফেন্স তত্ত্বে দলকে আত্মস্থ করতে চাচ্ছেন অনেকদিন ধরেই। এই কৌশল বাস্তবায়নে বড় ভূমিকা রাখতে হবে আফঈদাসহ রক্ষণভাগকে। বাংলাদেশ অধিনায়ক কোচের তত্ত্ব মেনে ভয়ডরহীন ফুটবল খেলার কথা বলেছেন, ‘আমাদের চেষ্টা থাকবে অবশ্যই ভালো কিছু করার। চায়না সব দিক দিয়েই ভালো। এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন এবং শক্তিশালী টিম হিসেবে তারা খেলছে। চায়নার সঙ্গে খেলতে পারাটাও আমাদের সৌভাগ্যের। এ ম্যাচ থেকে আমরা অনেক কিছু শিখব। তবে ভালো দল বলেই অবশ্যই মাঠের লড়াইয়ে ছাড় দেব না বা ছেড়ে দেব না। আমরা অবশ্যই লড়াই করব। আমাদের কোনো চাপ নেই। কোচ যে হাই-লাইন ডিফেন্স কৌশলে খেলাতে চান সেভাবে খেলেই আমরা ভালো কিছু করব।’

চীনের কোচ আন্তে মিলিচিচ সিডনির ঘরের ছেলে। দীর্ঘ খেলোয়াড়ি জীবন শেষে অস্ট্রেলিয়াতেই নিজেকে কোচ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। শিরোপা ধরে রাখার মিশনটা অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বলেই হয়তো মিলিচিচকে বিভীষণ করে নিয়েছে চীন। লক্ষ্যটা যখন দশম শিরোপার, তখন পুঁচকে বাংলাদেশকে এক ইঞ্চি ছাড় দেওয়ার প্রশ্নই আসে না। সেটা দেবেনও না মিলিচিচ। বাংলাদেশকে স্তুতিতে ভাসিয়েছেন ঠিক, তবে মাঠে কোনো বন্ধুতা দেখাবে না তার দল, ‘ওরা খুব রোমাঞ্চকর একটা দল। অনেক প্রতিভাবান ও তরুণ খেলোয়াড় আছে। ফুটবল জ্ঞান প্রখর, বেশ গতিশীলও। আমি মনে করি তারা অনেক ভালো দল। আমাদের দিক থেকে তাদের প্রতি পূর্ণ সম্মান থাকবে। তবে আমরা শুধুই নিজেদের খেলায় মনোযোগ দিতে চাই। নিজেদের কাজগুলো ঠিকঠাক করতে চাই। কোনো ছাড় দেওয়ার সুযোগ আসলে নেই। বিশ্ব ফুটবলে অনেক কিছুই ঘটতে পারে। তাই সতর্ক থেকে টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচটা খেলতে হবে।’

এই অসম লড়াই দেখতে আজ মাঠে থাকবে প্রায় শ-পাঁচেক সমর্থক। সিডনি প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে বাংলাদেশ দল নিয়ে আগ্রহের শেষ নেই। আগেভাগেই ছুটি নিয়ে রেখেছেন অনেকে। কষ্টে অর্জিত টাকায় কিনেছেন টিকিট। আফঈদার লড়াইয়ের প্রত্যয় আর বাটলারের অলৌকিক কিছুর আশা মিলে গেলে এই ভক্তদের পয়সা উসুল। নইলে ভূরি ভূরি গোলের সঙ্গে সঙ্গী হবে একরাশ হতাশা।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত