এবার বাহরাইনে এক বাংলাদেশি নিহত, আহত ৩

আপডেট : ০৩ মার্চ ২০২৬, ০৭:২৯ এএম

মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের পাল্টা হামলায় আমিরাতের পর এবার বাহরাইনে এক বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। তার নাম আবুল মহসিন ওরফে তারেক (৫৫)। বাড়ি চট্টগ্রামের সন্দ্বীপের আজিমপুর ইউনিয়নে। গতকাল সোমবার ভোর ৫টার (স্থানীয় সময় রবিবার রাত ২টা) দিকে এ হামলার ঘটনা ঘটে। তিনি সন্দ্বীপ উপজেলার আজিমপুর এলাকার মৃত ছায়েদুল হকের ছেলে। হামলায় আরও তিন শ্রমিক আহত হন। তাদের মধ্যে সন্দ্বীপের মুছাপুর এলাকার নাজিম উদ্দিন (৪০) রয়েছেন।

সহকর্মী ও স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, নিহত তারেক বাহরাইনের রাজধানী মানামার আরসি ড্রাইডক নামে একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। তিনি ওই প্রতিষ্ঠানের ‘স্টেনা ইমপারেটিভ’ নামের একটি জাহাজে মেরামতকাজে নিয়োজিত ছিলেন। হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণে তার জাহাজ কেঁপে ওঠে। এ সময় ড্রোনের ভাঙা একটি অংশ ছিটকে এসে তার শরীরে আঘাত করলে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। আহত হন আরও কয়েকজন।

একই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত নিহতের জেঠাতো ভাই নুর হোসেন বেলাল মোবাইল ফোনে দেশ রূপান্তরকে জানান, বিস্ফোরণের সময় তিনি কিছুটা দূরে কাজ করছিলেন। বিকট শব্দ শোনার পর ঘটনাস্থলে গিয়ে জাহাজের ভেতরে ড্রোনের ছিটকে পড়া অংশ দেখতে পান। তিনি জানান, ওই সময় কর্মীরা সাহরি খাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। হঠাৎ মুহুর্মুহু হামলায় চারদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তিনি জানান, তারেক ২৭ বছর ধরে বাহরাইনে কর্মরত ছিলেন। তিনি এক কন্যাসন্তানের জনক এবং পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন। তার চাচাতো ভাই রাউজান পূবালী ব্যাংকের ম্যানেজার মো. শামসুল ইসলাম জানান, এখনো পরিবারের সদস্যদের কাছে মৃত্যুসংবাদ জানানো হয়নি; তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বলেই জানেন।

তার পরিবারের সদস্যরা চট্টগ্রাম নগরে বসবাস করেন। সন্দ্বীপ থানার ওসি আবু জায়েদ মো. নাজমুন নূর বলেন, ‘বাহরাইনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সন্দ্বীপের এক প্রবাসী নিহত হওয়ার সংবাদ বিভিন্ন মাধ্যমে জেনেছি। এ বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।’

নিহতের একমাত্র সন্তান কলেজছাত্রী তামান্না বলেন, ‘আমি এখনো পরিষ্কার বুঝতে পারছি না, আমার বাবা বেঁচে আছে কি না। সবাই বলছে তিনি চিকিৎসাধীন। গতকালও ভিডিও কলে তার সঙ্গে কথা হয়েছে। যদি তিনি মারা যান, তাহলে সরকারের কাছে আমার দাবি থাকবে দ্রুত যেন মরদেহ দেশে আনার ব্যবস্থা করা হয়।’

মধ্যপ্রাচ্যে ২ বাংলাদেশির মৃত্যুতে সরকারের বিবৃতি : ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রতিক্রিয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা করেছে ইরান। এ ঘটনায় বাংলাদেশ সরকার মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ পুনর্ব্যক্ত এবং ঘটনাবলি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ইতিমধ্যে আমিরাত ও বাহরাইনে দুই বাংলাদেশি প্রাণ হারিয়েছেন এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। তাছাড়া বাংলাদেশের একটি জাহাজ আমিরাতের একটি বন্দরে আটকা পড়েছে। অবশ্য জাহাজের সব ক্রু সদস্য নিরাপদে আছেন বলে জানা গেছে। গতকাল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মধ্যপ্রাচ্যের প্রবাসী বাংলাদেশিদের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে দেওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

আমিরাতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে এবং বাণিজ্যিক ফ্লাইট পুনরায় শুরু হলে মৃতদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিচ্ছে। অন্যদিকে বাহরাইনে এক বাংলাদেশি নিহত এবং আরও তিনজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। মানামায় বাংলাদেশ মিশন এ বিষয়ে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানায়, কুয়েতে বেসামরিক বিমানবন্দরের আশপাশে ড্রোন হামলায় চার বাংলাদেশি আহত হয়েছেন। তারা হলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের আমিনুল ইসলাম; পাবনার সাঁথিয়ার রবিউল ইসলাম; নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের মাসুদুর রহমান এবং কুমিল্লার চান্দিনার দুলাল মিয়া। তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে তাদের অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। কুয়েতে বাংলাদেশ দূতাবাস তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে।

মন্ত্রণালয় আরও জানায়, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের ‘বাংলার জয়যাত্রা’ একটি জাহাজ বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলি বন্দরে আটকা পড়েছে। দূতাবাস জাহাজের ক্যাপ্টেনের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছে। জাহাজের সব ক্রু সদস্য নিরাপদে আছেন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত