চট্টগ্রামে গলা কাটা সেই শিশু পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করল

আপডেট : ০৩ মার্চ ২০২৬, ০৯:৫৮ এএম

চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুণ্ডে পাহাড়ি এলাকায় শ্বাসনালি কাটা সেই সাত বছরের শিশু জান্নাতুল নিশা ইরা মারা গেছে। তিনদিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে সে মারা যায়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার চাচা মো. রমিজ।

রবিবার (১ মার্চ) রাতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শিশুটির গলায় অস্ত্রোপচার করা হয়। সোমবার শিশুটিকে ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেলে (ওসিসি) নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায়  সে মারা যায়।

এর আগে রবিবার সকালে সীতাকুণ্ড পৌর সদরের বোটানিক্যাল গার্ডেন ও ইকোপার্কের ভেতরে দুর্গম পাহাড়ি এলাকা থেকে ওই শিশুকে উদ্ধার করা হয়। ইকোপার্কের ভেতরের চন্দ্রনাথ মন্দির সড়ক সংস্কারের কাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা শিশুটিকে উদ্ধার করে। প্রথমে শিশুটিকে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে চট্টগ্রামে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

পুলিশ জানায়, শিশুটিকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছিল। তবে কে বা কারা এ ঘটনা ঘটাতে চেয়েছিল, তা তাৎক্ষণিক জানাতে পারেনি পুলিশ। এদিকে পরিবারের সদস্যরাও এ ঘটনার বিচার চেয়েছে। তবে কে বা কারা এ ঘটনায় সম্পৃক্ত তা জানেন না বলে জানিয়েছে তারা। শিশুর পরিবার জানায়, সে কীভাবে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় গেছে, সেটি জানা যায়নি।

শিশুটির চাচা রমিজ বলেন, আমার ভাই ও আমাদের বাসার মধ্যে আধা কিলোমিটার দূরত্ব রয়েছে। রবিবার সকালে ইরা ঘর থেকে বের হয়। ধারণা করছি, আমাদের বাড়িতেই আসার জন্য বের হয় আমার ভাতিজি। কিন্তু পাহাড়ে কীভাবে গেল, জানা নেই। মঙ্গলবার ভোরে সে মারা যায়। আমরা এ ঘটনার তদন্ত ও বিচার চাই, খুনিদের শাস্তি চাই।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, রবিবার সকাল ১০টার দিকে বোটানিক্যাল গার্ডেন ও ইকোপার্কের ভেতরে থাকা সহস্রধারা ঝরনার আরও অন্তত ৫০০ মিটার উত্তরে পাহাড়ি পথের ধারে শিশুটি গলাকাটা অবস্থায় পড়ে ছিল। এসময় তার গলা থেকে রক্ত ঝরছিল। সেখানে সড়কটির সংস্কারের কাজে থাকা শ্রমিকেরা শিশুটিকে আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে তাকে উদ্ধার করেন। তাদের পরনের কাপড় দিয়ে গলা পেঁচিয়ে রক্ত বন্ধ করার চেষ্টা করেন। পরে তারা দ্রুত স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান শিশুটিকে।

এ বিষয়ে সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিনুল ইসলাম জানান, ওই শিশু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। এর আগে শিশুর মা থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা করেছেন। আমরা অপরাধীকে শনাক্তের চেষ্টা করছি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত