যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় বিপর্যস্ত ইরানে এবার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। দেশটির গেরাশ অঞ্চলে ওই ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে বলে জানা গেছে। রিখটার স্কেলে ওই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৪.৩। এতে তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের কোনো খবর জানা যায়নি। উৎপত্তিস্থলে ভূমিকম্পের গভীরতা ছিল ১০ কিলোমিটার। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) এ তথ্য জানিয়েছে।
গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালায়। ওই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। তবে ইরানও পাল্টা মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে হামলা চালিয়েছে। সংঘাতের কারণে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত কুয়েতে মার্কিন দূতাবাস বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। মার্কিন দূতাবাস বলেছে, সব নিয়মিত ও জরুরি কনস্যুলার সাক্ষাৎকার বাতিল করা হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ‘মাঝারি ও মাঝারির থেকে কিছুটা উন্নত’ মানের যেসব সামরিক রসদ মজুত আছে, শুধু তা দিয়েই চিরকাল যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া সম্ভব। ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, আমাদের কাছে এই অস্ত্রের প্রায় অসীম মজুত আছে। যুক্তরাষ্ট্র অস্ত্রে সমৃদ্ধ এবং বড় বিজয় নিশ্চিত করতে প্রস্তুত আছে। একইসঙ্গে ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন, তাঁর পূর্বসূরী জো বাইডেন ইউক্রেনকে অনেক বেশি পরিমাণে অত্যাধুনিক মার্কিন অস্ত্র সরবরাহ করে ফেলেছেন। সাবেক প্রেসিডেন্ট বাইডেনের মেয়াদের শেষ দিকে ইউক্রেনকে দীর্ঘ পাল্লার এটিএসিএমএস ক্ষেপণাস্ত্র দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। এই ক্ষেপণাস্ত্র ১৯০ মাইল বা ৩০০ কিলোমিটার পর্যন্ত দূরত্বে আঘাত হানতে সক্ষম।
এদিকে সৌদি আরবে অবস্থিত মার্কিন মিশনগুলোতে সব কনস্যুলার সেবা বাতিলের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস এ ঘোষণা দিয়েছে। দূতাবাসের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আজ মঙ্গলবার নির্ধারিত সব নিয়মিত ও জরুরি সাক্ষাৎকার বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি জেদ্দা, রিয়াদ ও দাহরামসহ বিভিন্ন মিশনে ‘নিরাপদ অবস্থানে থাকার’ নির্দেশনা কার্যকর রয়েছে। দূতাবাসে হামলার বিষয়টি উল্লেখ করে বিবৃতিতে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত দূতাবাস এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সকল নাগরিককে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা পরিকল্পনা অনুযায়ী চলার পরামর্শ দিয়েছে দূতাবাস। আজ মঙ্গলবার ভোরে রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসে দুটি ড্রোন দিয়ে হামলা চালানো হয়, এর ফলে ভবনটিতে সামান্য আগুন ধরে যায় এবং আংশিক ক্ষয়ক্ষতি হয়। আর এর পরই সৌদি আরবে মার্কিন মিশনগুলোতে সেবা বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হলো।
এছাড়া ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র ধ্বংস করে দেওয়ার দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড। একইসঙ্গে ইরানের প্রতিরক্ষা ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলো ধ্বংস করার দাবি করেছে তারা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি পোস্টে সেন্ট্রাল কমান্ড লিখেছে, ‘মার্কিন বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র, ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎক্ষেপণ কেন্দ্র এবং সামরিক বিমানঘাঁটি ধ্বংস হয়েছে।’