যুদ্ধের দায় কার

আপডেট : ০৫ মার্চ ২০২৬, ১২:৫১ এএম

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল মিলে ইরানে যে হামলা চালাচ্ছে, তার খেসারত দিতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে কোটিরও অধিক শ্রমিকের জীবন যেমন সামরিক ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে, তেমনি তাদের রোজগারও পড়েছে অনিশ্চয়তার মধ্যে। আবার যারা ছুটিতে দেশে এসেছিলেন, বিমানের ফ্লাইট স্থগিত হওয়ার কারণে তারা ফিরতে পারছেন না সময়মতো। এদিকে ভিসার মেয়াদও শেষ হচ্ছে বলে তাদের করুণ মুখ দেখতে পাচ্ছি আমরা। কঠিন ঝুঁকিতে থাকা বাংলাদেশি শ্রমিকদের কান্না ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর কানে পৌঁছাবে না। তারা ইরানকে শায়েস্তা করতে যে মানবতাবিরোধী যুদ্ধ চালাচ্ছে, তা মানবসভ্যতাকে কোথায় নিয়ে যাবে বলা মুশকিল। আমাদের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের প্রধান দুটি খাত তৈরি পোশাক ও প্রবাসী শ্রমিকদের পাঠানো রেমিট্যান্স। এই দুটি খাত যে মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে, তার খেসারত নতুন সরকারের ওপর এসে পড়তে যাচ্ছে। এক লাখেরও বেশি শ্রমিক যদি ভিসা জটিলতায় পড়ে থাকে, সংশ্লিষ্ট দেশগুলো যদি ভিসার তারিখ না বাড়ায়, তাহলে পরিস্থিতি কী হবে তা বলা বাহুল্য। সংবাদমাধ্যমগুলোতে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ ভিসার মেয়াদ এক মাস বাড়িয়েছে। কিন্তু বিমান সংস্থাগুলোর ফ্লাইট স্থগিত করায় শ্রমিকরা সেই সুযোগ নিতে পারছেন না। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে যদি মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক সংঘাত বন্ধ না হয়, তাহলে আমাদের রপ্তানিমুখী শ্রমবাজার নাকাল অবস্থার মধ্যে পড়বে।

ইতিমধ্যে যারা নতুন শ্রমিক হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে পাড়ি দিতে বিমানবন্দরে হাজির হয়েছিলেন, যেতে না পেরে তারা কান্নায় ভেঙে পড়ছেন। এই পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন। যতক্ষণ না যুদ্ধ বন্ধ হবে, ততক্ষণ বাংলাদেশ ঝুঁকির মধ্যে থাকবে। এই হিংসাত্মক যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে যুক্তরাষ্ট্র ও শিখ-ি ইসরায়েলকে। তারাই ইরানে হামলা শুরু করেছে। ইতিমধ্যে ইরানি সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে তারা হত্যা করেছে। এটা চরম মানবতাবিরোধী অপরাধ। অন্য দেশের একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে হত্যা করা, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টকে সামরিক শক্তিতে তুলে নিয়ে আসাও যে আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী ও অপরাধ ট্রাম্প তা মানেন না। ইরান চাইলেও এ যুদ্ধ শেষ হবে না। ট্রাম্পের মূল লক্ষ্য ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে ধসিয়ে দিয়ে মাথানত করানো। তার সম্পদ লুটে নেওয়া, যা করেছে ভেনেজুয়েলায়। সে দেশের তেল শুষে নিয়ে আসছে, যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি কোম্পানি। ইরানেও ঠিক একই পদ্ধতি আরোপ করবে ট্রাম্প, যদি একটি বশংবদ সরকার কায়েম করতে পারে। চেষ্টা চলছে ইরানের রাজতন্ত্রের প্রতিনিধি যুবরাজকে দিয়ে। অথবা যে পরিষদের মাধ্যমে রাষ্ট্রকাঠামো পরিচালিত হবে, তাদের দিয়ে সেই কাজ করিয়ে নিতে পারেন ট্রাম্প।

সব থেকে ভয়াবহ হচ্ছে,  ট্রাম্পের ডিপস্টেট ষড়যন্ত্রের মূল লক্ষ্য মুসলিম দেশগুলোকে ধ্বংস করা। প্রফেসর স্যামুয়েল হান্টিংটন উদ্ভাবিত সিভিলাইজেশনের মধ্যে যে সংঘাত হবে, যা মূলত ধর্মযুদ্ধ বলে খ্যাত। তার প্রতিপক্ষ হচ্ছে  ইসলামি সিভিলাইজেশন ও দেশগুলো। মুসলমানদের ধ্বংস করতে হবে এই মননের মূলে আছে ইসলামের অগ্রগতি ও পরম্পরার প্রতি আনুগত্য। হান্টিংটনের সেই ধর্মযুদ্ধের শিকার হয়েছে ইরাক, সিরিয়া, আফগানিস্তান আর এখন ইরান। যেসব দেশের মার্কিন ঘাঁটিতে মিসাইল ছুড়ছে ইরান, তারা নামে মুসলমান হলেও, শাসকরা যুক্তরাষ্ট্রের গোলাম। শাসকরা গণবিচ্ছিন্ন। জনগণের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই। গণতন্ত্রও নেই সেব দেশে। সৌদি আরব, ইরানকে ধ্বংস করতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একীভূত। এই ধ্বংসযজ্ঞ থেকে বাঁচতে হলে যুদ্ধ থামানো জরুরি। জাতিসংঘ পারবে না। রাশিয়া ও চীন এক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা নিতে পারে। অর্থনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য সরকারকে ভিন্ন পথ খোঁজার চেষ্টা চালাতে হবে। পূর্বমুখী কূটনীতি ও জনশক্তি রপ্তানির নতুন দেশ খুঁজে বের করতে হবে তাহলে যদি এই দুর্যোগ থেকে দেশকে রক্ষা করা যায়।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত