বিজয় আহমেদের কবিতা

আপডেট : ০৫ মার্চ ২০২৬, ১২:১১ এএম

তিন আসমানের কিসসা

 

সে রাত হয়েছে পার রাত আসে আরো

নিখোঁজ শাহজাহান হায় কোথায় মরেছে

ভাই কাঁদে ভাবি কাঁদে পাড়াপড়শি সাথে

কোন সে পরীর জাদু বেভুলো করেছে।

 

জোয়ান পুরুষ তবু কেন করে ভুল

আকাশের মেঘ যেন পরীদের চুল;

গল্প ছড়া রূপকথা ওড়ে গাঁয়ে গাঁয়ে

কোথায় প্রবীণ মাছ জাগে কার পায়ে?

 

প্রতিবেশী বন্ধুজনে যায় নদীপাড়ে

বাগাড়ের কাছে প্রশ্ন করে ঠারেঠুরে

‘কোথায় শাহজাহান বলো হঠাৎ হারাল?’

নিশ্চুপ থাকে গো মাছ। উত্তর জানে না

কান্দে দল বেঁধে সবে, ক্রন্দন থামে না

গ্রাম গোহালিয়া নিজ মানুষ চেনে না।

 

জনে জনে শুধু গল্প জমে জমে ক্ষীর

শাহজাহান স্মৃতি হলো চার-স্টলে ভিড়;

পরী তারে তুলে নিল জনে জনে বলে

ঊনত্রিশ হাঁস তার পিছু পিছু চলে।

 

ময়মুরব্বিরা দোয়া-দরুদেতে মাতে

নামাজের শেষে, আহা, ফজর প্রভাতে।

কেউ বলে গরু দাও পীরের মাজারে

কেউ বলে তাকে খোঁজো রংপুরে?

কেউ বলে আসবে সে ফকিরের বেশে

দুই অমাবস্যা তিন পূর্ণিমার শেষে

সোনালাগা ভোরে কোনো এক শুক্রবারে

আহা, গ্রাম গোহালিয়া যদি পায় তারে!

 

যদি পায় তারে ফিরে গ্রামের মানুষে

নামাবে না ধুলায় কভু রাখবে বুকে-পিঠে

ছয় ভাই তারে দেবে ভীষণ পাহারা

ভীষণ ডালিম লাল দুঃখে আত্মহারা।

 

চাঁদ ওঠে যেনতেন নাই যেন হাসি

সুরহীন গ্রামজুড়ে একা বাজে শুধু বাঁশি।

লেবু ফুলে ঘ্রাণ নাই পক্ষীরা নির্জন

ভাদ্রের পূর্ণিমা কাঁদে শোকে নিমজ্জন।

 

বাঁশঝাড় যদিবা কাঁপে ঝোড়ো হাওয়া এলে

গোহালিয়া গ্রাম ভাবে পুত্র বুঝি এলো

সচকিত রাত হায় থাকে অপেক্ষায়

কোন সে রূপসী পরী কেন তারে খেল।

 

দুই

 

গ্রাম-ভূমি, জনে জনে পুত্র শোকে কাঁদে

আঁতিপাঁতি করে খোঁজে প্রবীণ বাগাড়ে;

‘যেখানে জন্মেছে নদী দুই পাড় ধরে’

নাই তো তাহার খোঁজ জঙ্গল কি চরে।

তিন

 

এক ভাই খুঁজে ফিরে পাঁচ ভাই মিলে

পূর্ব ও পশ্চিম আর উত্তর দক্ষিণে;

আরও এক দিক আছে আসমানে জান্নাত

আল্লার নিকটে কেঁদে তাই পাখনা খোঁজে।

 

পাঁচ ভাই পাঁচ দিকে অবিরাম ছোটে

এক দিন দুই দিন কি গো সাত দিন ধরে

চার ভাই ভূমি ধরে জেলা-উপজেলা

নদীপাড় গ্রাম চর-চরাঞ্চল ফেঁড়ে।

 

আর ভাই ডানা মেলে পাখিদের সাথে

যেন সাত ভাই চম্পা রূপকথা এই

নদীরে জিগায় তারা; পাখিরে শুধায়

মৌমাছির পেট চিরে ভাই কে কি পায়?

 

পুষ্পিত ফুলের ঘ্রাণে ভাইয়ের তালাশ

করে, দোয়েলের বাসা তছনছের শেষে

খুঁজে ফেরে ভাই পুরো বাংলাদেশে।

ধানের মধুতে রেখে ঠোঁট নেয় ঘ্রাণ

দেখে লুকিয়েছে কি না ভাইকে কেউ জাদুটোনা করে।

চার

 

পাঁচ ভাই মিলে দেয় পাঁচ জেলা পাড়ি

বাথান বা চর রোগ-শোক কান্না ছাড়ি

এভাবে যায় গো কেটে আরও সাত দিন;

পক্ষী ডেকে কয় যাও দক্ষিণের ঢালে

তিন গাছ পরে অন্য গাছের আড়ালে

ছোট্ট পাখি এক জানে ‘কোথায় শাহজাহান?’

কথা শুনে দুরুদুরু কাঁপে পাঁচ ভাইয়ের পরান;

সূর্যাস্তের আগে আগে দক্ষিণের ঢালে

গিয়ে দেখে ছোট পাখি মরে আছে কী যেন আকালে।

হায় হায় কাঁদে শোনো ভাইয়ের পরান।

হায় হায় কাঁদে শোনো ভাইয়ের পরান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত