কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে এক নারী শিক্ষক নিহত হয়েছেন। নিহত আসমা সাদিয়া রুনা সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক ছিলেন। গতকাল বুধবার বিকেল ৪টার দিকে ক্যাম্পাসের থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনের সমাজকল্যাণ বিভাগে ওই শিক্ষিকার ২২৬ নম্বর কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। একই সময় ওই কক্ষ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের কর্মচারী ফজলুর রহমানকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বরাতে পুলিশ বলছে, ফজলুর রহমান শিক্ষক আসমা সাদিয়াকে ছুরিকাঘাতের পর আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।
শিক্ষক ও কয়েকজন শিক্ষার্থী সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সমাজকল্যাণ বিভাগের ইফতার মাহফিল ছিল। এজন্য বেলা ৩টায় অফিস শেষ হলেও শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বিভাগে অবস্থান করছিলেন। বিকেল ৪টার দিকে ক্যাম্পাসের আনসার সদস্যরা বিভাগের চেয়ারম্যানের কক্ষে চেঁচামেচির আওয়াজ শুনতে পান। পরে আনসার সদস্যরা বাইরে থেকে দরজা ধাক্কাধাক্কি করেন। এমন সময় ইফতার আয়োজনের দায়িত্বে থাকা বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী ধাক্কাধাক্কির কারণ জানতে ওই শিক্ষিকার কক্ষের সামনে উপস্থিত হন। পরে দরজা ভেঙে শিক্ষক আসমা সাদিয়ার নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন। এ সময় কর্মচারী ফজলুর রহমান নিজের গলায় ছুরিকাঘাত করছিলেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে প্রক্টরিয়াল বডি ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তাদের উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়। হাসপাতালে নেওয়ার কিছু সময় পরে ওই শিক্ষিকাকে মৃত ঘোষণা করেন আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. হোসাইন ইমাম। তিনি বলেন, ‘অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে হাসপাতালে আনার আগেই তার অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন ছিল। তার গলা, হাতে-পায়ে ছুরির আঘাতের ক্ষত পাওয়া গেছে।’
বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ফজলুর রহমান ৮-৯ বছর ধরে চুক্তিভিত্তিক (দিন হাজিরা) সমাজকল্যাণ বিভাগে কর্মরত ছিলেন। মজুরি বাড়ানো নিয়ে মাসখানেক আগে তার সঙ্গে শিক্ষক আসমা সাদিয়ার বাগ্বিতণ্ডা হয়। পরে তাকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে বদলি করা হয়। সমাজকল্যাণ বিভাগটি দ্বিতীয়তলায়। রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ তৃতীয়তলায়। অনেকের ধারণা, ক্ষোভের জেরেই এ ঘটনা ঘটতে পারে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, ‘আমরা পুলিশ প্রশাসনকে নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। এ সময় একজনের নিথর দেহ ও একজনকে নড়াচড়া অবস্থায় উদ্ধার করি। পরে দ্রুত কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠালে জানতে পারি কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষককে মৃত ঘোষণা করেছেন।’
ইবি থানার ওসি মাসুদ রানা বলেন, আমরা ঘটনা জানতে পেরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। পরে ওই কক্ষ থেকে দুজনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতাল পাঠাই। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষককে মৃত্যু ঘোষণা করেন। আরেকজন ওটিতে চিকিৎসাধীন।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন, এ ঘটনা অকল্পনীয় ও অপ্রত্যাশিত। জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের সহযোগিতায় অবশ্যই বিচার করা হবে।
