খামেনির বাঙ্কারে ইসরায়েলের নজিরবিহীন হামলা!

আপডেট : ০৭ মার্চ ২০২৬, ১২:০৫ এএম

ইরানের রাজধানী তেহরানে ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়ে দেশটির প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির বিশাল আন্ডারগ্রাউন্ড বাংকার সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিয়েছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। শুক্রবারের (৬ মার্চ) এই অভিযানে প্রায় ৫০টি ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান থেকে অন্তত ১০০টি বোমা ফেলা হয়। আইডিএফের দাবি, বাংকারটি তেহরানের প্রাণকেন্দ্রে ইরানি শাসনব্যবস্থার মূল কমপ্লেক্সের নিচে অবস্থিত ছিল।

প্রকাশিত আকাশচিত্র ও ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, খামেনির ওই কমপ্লেক্সের ওপর একের পর এক শক্তিশালী বোমা আঘাত হানছে এবং বিস্ফোরণের ফলে তেহরানের আকাশ কালো ধোঁয়ায় ঢেকে গেছে। ইসরায়েলের দাবি, বাংকারটি খামেনি যুদ্ধের সময় নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে ব্যবহারের জন্য তৈরি করেছিলেন, কিন্তু সেটি ব্যবহারের সুযোগ পাওয়ার আগেই তিনি নিহত হন। একাধিক প্রবেশপথ ও কক্ষ বিশিষ্ট এই সুড়ঙ্গপথটি খামেনির মৃত্যুর পরও জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তারা ব্যবহার করে আসছিলেন।

শুক্রবার কেবল তেহরান নয়, লেবাননের রাজধানী বৈরুতেও ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। ২০২৪ সালের যুদ্ধবিরতির পর লেবাননে এটিই ছিল ইসরায়েলের সবচেয়ে বিধ্বংসী হামলা। ইসরায়েলি বাহিনীর পক্ষ থেকে এলাকা ছাড়ার সতর্কতা জারির পর বৈরুতের উপশহর ও দক্ষিণ লেবানন থেকে হাজার হাজার মানুষ প্রাণভয়ে পালিয়েছেন। এই হামলার বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

এদিকে, সমুদ্রপথেও সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা সাগরে একটি ইরানি ‘ড্রোন ক্যারিয়ার’ বা ড্রোনবাহী জাহাজে হামলা চালিয়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রকাশিত ফুটেজে ‘আইআরআইএস শহীদ বাঘেরি’ নামের একটি বিশাল জাহাজকে জ্বলতে দেখা গেছে। ১৮০ মিটার দীর্ঘ রানওয়ে বিশিষ্ট এই রূপান্তরিত কন্টেইনার জাহাজটি ২০২৫ সালে উদ্বোধন করা হয়েছিল। এর আগে, চলতি সপ্তাহে শ্রীলঙ্কা উপকূলে একটি ইরানি ফ্রিগেট ডুবিয়ে দেয় মার্কিন সাবমেরিন, যাতে ৮৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

ইসরায়েলি ও মার্কিন হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের অন্তত ৪টি দেশে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব এবং বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে এই হামলাগুলো করা হয়। সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রিয়াদের দক্ষিণে অবস্থিত প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটি লক্ষ্য করে ছোঁড়া তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তারা আকাশেই ধ্বংস করেছে। কাতার ও বাহরাইনেও ইরানি হামলা প্রতিহত করার খবর পাওয়া গেছে।

চলমান এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ২৩০ জনের বেশি ইরানি নাগরিক নিহত হয়েছেন। লেবাননে প্রাণ হারিয়েছেন ১২০ জনের বেশি এবং ইসরায়েলে অন্তত ১২ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া কুয়েতে গত রবিবার ৬ জন মার্কিন সেনা নিহত হন। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সতর্ক করে বলেছেন, এই যুদ্ধের তীব্রতা সামনের দিনগুলোতে আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। বর্তমানে এই সংঘাতের প্রভাবে বৈশ্বিক আকাশপথ ও তেল সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মক সংকটের মুখে পড়েছে।

সূত্র: ডেইলি মেইল

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত