খামেনির মৃত্যুতে উত্তাল ইরান, নেতৃত্বের সংকটে দেশ

আপডেট : ০৭ মার্চ ২০২৬, ০৭:৪৬ পিএম

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা অব্যাহত থাকার মধ্যেই অভ্যন্তরীণ চাপে পড়েছে ইরানের অন্তর্বর্তী নেতৃত্ব পরিষদ। দেশটির কয়েকজন প্রভাবশালী কট্টরপন্থি ধর্মগুরু দ্রুত নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের মাধ্যমে নেতৃত্ব সংকট সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে।

শনিবার (৭ মার্চ) ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ধর্মীয় মহলের একটি অংশের এই আহ্বান থেকে বর্তমান অন্তর্বর্তী নেতৃত্ব ব্যবস্থা নিয়ে তাদের মধ্যে অস্বস্তি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর ইরানের সংবিধান অনুযায়ী তিন সদস্যের একটি অস্থায়ী কাউন্সিল দেশের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের দায়িত্ব পালন করছে।

এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেছিলেন, ইরানে নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা রাখা উচিত। তবে এই দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, প্রভাবশালী ধর্মগুরু নাসের মাকারেম শিরাজি বলেছেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত একজন নতুন সর্বোচ্চ নেতা নিয়োগ করা অত্যন্ত জরুরি। তিনি বলেন, দেশের বিষয়গুলো আরও সুসংগঠিতভাবে পরিচালনার জন্য দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া দরকার।

এর আগে গত সপ্তাহে আরও দুজন জ্যেষ্ঠ শিয়া ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ ফতোয়া জারি করে বিশ্বের মুসলমানদের খামেনি হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার আহ্বান জানান। মাকারেম শিরাজি বলেন, যতক্ষণ না এই অপরাধীদের পৃথিবী থেকে নির্মূল করা হচ্ছে, ততক্ষণ এ প্রচেষ্টা চালানো মুসলমানদের জন্য ফরজ (ধর্মীয় কর্তব্য)।

অন্যদিকে গ্র্যান্ড আয়াতুল্লাহ হোসেন নূরী হামেদানি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত ধর্মীয় সংস্থা অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টের সদস্যদের দ্রুত খামেনির উত্তরসূরি বেছে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করার আহ্বান জানিয়েছেন।

ইরানের সংবিধান অনুযায়ী, নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট, একজন জ্যেষ্ঠ ধর্মীয় নেতা এবং বিচার বিভাগের প্রধানকে নিয়ে গঠিত তিন সদস্যের একটি কাউন্সিল অস্থায়ীভাবে সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব পালন করে।

সংবিধানে বলা আছে, সর্বোচ্চ তিন মাসের মধ্যে নতুন নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। তবে বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ৮৮ সদস্যের বিশেষজ্ঞ পরিষদ কত দ্রুত বৈঠক ডেকে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। বিভিন্ন সূত্র বলছে, কিছু ধর্মগুরু ইতিমধ্যে এ বিষয়ে অনলাইনে প্রাথমিক আলোচনা শুরু করেছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত