জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায় মাদক সেবনে বাঁধা দেওয়ায় দুই গ্রাম পুলিশসহ ৪ জনকে মারধর করেছেন হোসেন আলী (৬০) নামে এক বিএনপি নেতা। এ ঘটনা সেই বিএনপি নেতাসহ চারজনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (০৭ মার্চ) দুপুরে ইসলামপুর থানায় একটি অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী গ্রাম পুলিশ শ্রী জগেশ্বর রবিদাস। এর আগে গতকাল শুক্রবার (০৬ মার্চ) রাতে উপজেলার কুলকান্দি পাইলিংপাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগীরা হলেন, উপজেলার কুলকান্দি ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশ শ্রী জগেশ্বর রবিদাস (৫২), ৫নং ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশ শ্রী রবি চাঁন রবিদাস (৩০), জগেশ্বর রবিদাসের স্ত্রী লাকী রানী রবিদাস (৪৫) ও তার ছেলে নগেন চন্দ্র রবিদাস (২৩)।
অভিযুক্ত বিএনপি নেতা হোসেন আলী উপজেলার কুলকান্দী ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন। এছাড়াও তার দুই ছেলে ইমান আলী, সুমন ও স্ত্রী রেহানা বেগম।
ভুক্তভোগী দুই পুলিশের অভিযোগ, বিএনপি নেতা হাসেন আলী মাদক সেবন এবং জুয়া খেলাতে আসক্ত। জগেশ্বর রবিদাস সেই বিএনপি নেতাকে মাদক সেবন করতে নিষেধ করেন। এ ঘটনার জের ধরে শুক্রবার রাতে বিএনপি নেতা হাসেন আলী, তার ছেলে সুমন ও স্ত্রী রেহেনা বেগম লোহার রড ও লাঠি নিয়ে জগেশ্বর
রবিদাসের বাড়িতে এসে গালিগালাজ ও মারধর করে। এ সময় তার স্ত্রীকেও মারধর এবং শ্লীলতাহানি করা হয়।
তাদের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা সরে পড়েন। আহত অবস্থায় জগেশ্বর রবিদাস, রবিচান রবিদাস, লাকী রানী রবিদাস ও নগেন চন্দ্র রবিদাস বাবুকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। পরে সেখানে চিকিৎসা নেন। এ ঘটনায় তিনি ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও জানান।
তবে মোবাইল ফোনে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা হাসেন আলী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার সাথে তর্কাতর্কি হয়েছে। কোনো মারধরের ঘটনা ঘটেনি। একজনের সাথে তর্ক বেধে গেলেই যে থানায় অভিযোগ দেবে এটা কেমন। আপনার যা পারেন করেন। আমার ভাগিনা সাংবাদিক আছে, তার সাথে কথা বইলেন।
এ বিষয়ে কুলকান্দি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নূর ইসলাম বলেন, যে দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করবে, সে আমার বাবা হলেও আমি তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করবো। আমি কিছুক্ষন আগে বিষয়টি শুনেছি। বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে। যদি সমাধান না হয়, তাহলে দলীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবো। প্রয়োজন পড়লে তাকে বহিষ্কার করা হবে।
এ প্রসঙ্গে ইসলামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল কাইয়ূম গাজী বলেন, আগামীকাল একজন অফিসার বিষয়টি তদন্তে যাবে। ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
