মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের প্রভাব পড়েছে চট্টগ্রামের প্রবাসী অধ্যুষিত সন্দ্বীপ উপজেলায়। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে উদ্বেগ ও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন প্রবাসী শ্রমিকদের পরিবারগুলো। প্রতিদিন কোথাও না কোথাও মিসাইল, ড্রোন ও বিমান হামলার খবর ছড়িয়ে পড়ায় নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা বেড়েছে তাদের স্বজনদের মধ্যে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে হামলা ও উত্তেজনা বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি অস্থির হয়ে উঠেছে। সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনসহ বিভিন্ন দেশে কাজ করছেন সন্দ্বীপের বিপুল সংখ্যক মানুষ। চলমান সংঘাতের কারণে এসব দেশে কর্মরত প্রবাসীদের কর্মস্থলেও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
গত এক সপ্তাহেই যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে কর্মরত অবস্থায় দুই সন্দ্বীপ প্রবাসীর মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলেন বাহরাইনে কর্মরত মহসীন তারেক ও কুয়েতে কর্মরত জাহেদ হোসেন। এছাড়া বাহরাইনে নাজিম নামের আরেক প্রবাসী গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। নিহত দুজনই ছিলেন নিজ নিজ পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তাদের মৃত্যুতে পরিবারগুলোতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া ও ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা।
এদিকে চলমান উত্তেজনার কারণে বিভিন্ন এয়ারলাইনস ফ্লাইট বাতিল করায় দেশে ফিরতে না পেরে অনেক প্রবাসী মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন বিমানবন্দরে আটকে আছেন।
সন্দ্বীপ উপজেলার মুছাপুরের দুবাইগামী প্রবাসী হাসান জানান, ফ্লাইট বাতিলের কারণে অনেকেই নির্ধারিত সময়ে দেশে ফিরতে পারছেন না।
স্থানীয়দের মতে, সন্দ্বীপে এমন খুব কম পরিবার আছে যেখানে মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত কেউ নেই। প্রবাসীদের পাঠানো অর্থই অধিকাংশ পরিবারের প্রধান আয়ের উৎস। উপজেলা ভিত্তিক হিসেবে সারা দেশে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স আসে চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলা থেকে। দেশের মোট বৈদেশিক রেমিট্যান্সের একটি উল্লেখযোগ্য অংশও আসে এখানকার প্রবাসীদের মাধ্যমে।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতায় অনেক প্রতিষ্ঠানে কাজও সীমিত করে দেওয়া হয়েছে।
কুয়েত ড্রাইডকে কর্মরত সন্দ্বীপের প্রবাসী নুর হোসেন জানান, আগে যেখানে দিনরাত ২৪ ঘণ্টা কাজ চলত, সেখানে এখন পরিস্থিতি বিবেচনায় দিনে মাত্র ৮ ঘণ্টা কাজ করা হচ্ছে।
এ অবস্থায় প্রবাসীদের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে যেমন উদ্বেগ বাড়ছে, তেমনি কাজের সময় কমে যাওয়ায় আয় হ্রাস পাওয়ার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে। এতে ভবিষ্যতে রেমিট্যান্স প্রবাহ কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। প্রবাসীদের আয়ের ওপর নির্ভরশীল সন্দ্বীপের হাজারো পরিবার এতে আর্থিক সংকটে পড়তে পারে।
পবিত্র রমজান মাস চলছে সামনে ঈদ। এমন সময় মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে গেলে প্রবাসী পরিবারগুলোর দুশ্চিন্তা আরও বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে প্রবাসীদের নিরাপত্তা এবং তাদের পরিবারের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
