লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে প্রকৃত জেলে কার্ড থাকার পরও ভিজিএফের চাল থেকে বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগীরা। তাই ফের যাচাই-বাছাইয়ের দাবি জানিয়েছেন তারা।
জেলেদের নিবন্ধিত তালিকা হালনাগাদে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তারা জানায়, প্রকৃত জেলেদের বাদ দিয়ে রিকশাচালক, ব্যবসায়ী, প্রবাসী এমনকি বিত্তবানদের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী জেলে মো. মিরাজ বলেন, গত কয়েক বছর যাবৎ জেলে কার্ডের চাল পেয়েছেন। এখন পাচ্ছেন না। তার কার্ড বাতিল করা হয়েছে। তিনি প্রকৃত জেলে। ছোট বেলা থেকে নদীতে মাছ ধরে জীবন-জীবিকা চালাচ্ছেন।
আপর জেলে মোসলেহ উদ্দিন বলেন, ২০২০ সাল থেকে টানা জেলে চাল পেয়েছেন। এবার পাচ্ছেন না। তিনি পরিবার তান্ত্রিক জেলে পেশায় জড়িত রয়েছেন।
শেখ ফরিদ বলেন, নদীতে মাছ ধরে পরিবার চালাচ্ছেন। নদীতে তার বাড়ি-ঘর ভেঙে গেছে। জেলে কার্ড থাকার পরও চাল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তিনি।
ইতোমধ্যে বরিবার (৮ মার্চ) উপজেলা মৎস্য অফিসে উপজেলার সাহেবের হাট ইউনিয়নে বেশ কয়েকজন জেলে সঠিক ‘জেলে কার্ড’ নিয়ে হাজির হয়ে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।
জেলে নুরুল ইসলাম, বাবুল, আনোয়ার হোসেন, শাহাব উদ্দিন, আব্দুর জাহের এদের সবার জেলে কার্ড রয়েছে। মাঝি ও নৌকা থাকার পরও জেলে কার্ড বাতিল হয়েছে। তারা প্রকৃত জেলে চাল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে দাবি তাদের।
উপজেলার সাহেবের হাট ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার মো.মাকসুদ বলেন, জেলে যাচাই-বাছাই করতে গিয়ে প্রকৃত জেলে বাদ পড়েছে। যারা দীর্ঘদিন নদীতে মাছ ধরে জীবন-জীবিকা চালাচ্ছিলেন। এমন জেলেই বেশি রয়েছে। এছাড়া যারাই যাচাই-বাছাই করেছে সম্পূর্ণ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে প্রকৃত জেলেদের বাদ দিয়েছেন এমন তথ্য পাওয়া যায়।
মৎস্য অফিস জানায়, সারা দেশে জেলে যাচাই-বাছাই হলে কিছু ভুয়া ও বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত এবং কার্ডধারী জেলে বাদ পড়েছে। উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে এবার ৭ হাজার ৭'শ জেলেকে ভিজিএফ চালের জন্য চূড়ান্ত করা হয়েছে। তবে মৎস্য অফিস বলছে উপজেলায় নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ১১ হাজার ৫'শ। স্থানীয় জেলেদের মধ্যে খোকন মাঝির দাবি, এখানে জেলের সংখ্যা প্রকৃতপক্ষে ১৫ হাজারেরও বেশি। এরমধ্যে দীর্ঘ দুই-তিন পুরুষ ধরে নদীতে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করা শত শত জেলে এবার তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন। এদের তালিকা ভুক্ত করা খুবই জরুরি।
এ বিষয়ে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তুর্য্য শাহা বলেন, জেলেদের মধ্য প্রকৃত জেলে যাচাই-বাছাই করতে গিয়ে কিছু প্রকৃত জেলে বাদ পড়তে পারে। আমরা কার্ড দেখে পূর্ণ যাচাই-বাছাই করছি। প্রকৃত জেলে থাকলে তালিকায় সংযুক্ত করা হবে। তবে জেলে কার্ড নিয়ে স্থানীয় কিছু সিন্ডিকেট থাকতে পারে। স্থানীয় কিছু পরিষদ কেন্দ্রিক সুযোগ-সুবিধাভোগী থাকতে পারে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাহাত উজ-জামান বলেন, প্রকৃত জেলে যারা তাদের পূর্ণ যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। যাচাই-বাছাই শেষে প্রকৃত জেলেতের আবার সংযুক্ত করা হবে।
