গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে চাঞ্চল্যকর ২টি ক্লুলেস হত্যাকাণ্ড নিয়ে বিপাকে পরেছে পুলিশ। একের পর এক হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হলেও কোন তথ্য না থাকায় এবং তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারে নানা জটিলতা থাকায় হত্যাকাণ্ডের কোন তথ্যই উদ্ধার করা সম্ভব হচ্ছে না বলে দাবি করেছে পুলিশের একটি সূত্র।
তবে যে কারণেই হোক একের পর এক সিনেমাষ্টাইলে দিনের বেলায় এসব হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়ায় আতংকিত হয়ে পরেছে সাধারণ মানুষ। তারা দ্রুত হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করে আইনের মুখোমুখি করার দাবি জানিয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, গত ২২ ফেব্রুয়ারি পাশের বাড়ির সেপটিক ট্যাংক থেকে উপজেলার তালুককানুপুর ইউনিয়নের উত্তরপাড়া গ্রামের (চৌধুরীপাড়া) নজরুল ইসলামের একমাত্র মেয়ে, তালতলা উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থীর এসমেতারা ওরফে নুরমার (১৫) গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
ওই দিনে সকাল ১০টায় তাকে বাড়িতে রেখে কাজে গিয়েছিল বাবা-মা। এরপর দুপুর ১টার দিকে কাজ থেকে ফিরে মেয়ে নুরমাকে বাড়িতে না পেয়ে গ্রামের বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করে তার বাবা-মা। একপর্যায়ে বটির সঙ্গে রক্তমাখা এবং পাশের বাড়ির সেফটি ট্যাংকির পাশে রক্তের দাগ দেখে স্থানীয়দের সহায়তায় ঢাকনা খুলে সেপটিক ট্যাংকে তার মরদেহ পরে থাকতে দেখতে পায়।
পরে স্থানীয় থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে তার গলাকাটা মরদেহটি উদ্ধার করে। এরপর গত ১৭ দিন পেরিয়ে গেলেও পুলিশ এ ঘটনায় কোন কুল কিনারা করতে পারেনি। নৃশংস ভাবে খুন হওয়া নুরমা খাতুনের মোবাইল ফোন থাকলে জটিলতার কারণে তা থেকে কোন তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। তবে এখন পর্যন্ত পুলিশ এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কোন তথ্য উদ্ধার করতে না পারায় ক্ষোভ ত্রুমেই দানা বাঁধছে।
এদিকে, নুরমা হত্যার হত্যাকাণ্ড নিয়ে উপজেলা জুড়ে আলোচনা সমালোচনা শেষ হতে না হতেই মাত্র ৬দিন পর গত ২৮ ফেব্রুয়ারি হাত-পা বেঁধে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে শামসুন্নাহার রুমা (৩৯) নামে একজন স্কুল শিক্ষককে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।
পুলিশ বেলা সাড়ে ৪টার দিকে নিজবাড়ি পৌর এলাকার চক গোবিন্দপুর গ্রাম থেকে তার মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ। শামসুন্নাহার রুমা উপজেলার চন্ডিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ছিলেন। এ ঘটনার পর ৯ দিন পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত ঘটনার সাথেও জড়িত কাউকে ধরতে পারেনি পুলিশ।
পরিবার ও এলাকাবাসীর দাবি, রুমা হত্যাকাণ্ডের ৯ দিন পেরিয়ে গেলেও তথ্য প্রযুক্তির যুগেও পুলিশ এ ব্যাপারে কোন তথ্য উদ্ধার করতে না পারায় উদ্বেগ বাড়িয়ে দিচ্ছে।
স্থানীয় পরিবেশবাদী সংগঠক শিক্ষক আহম্মদ উল্লা বলেন, পুলিশ সারা দেশে অনেক ক্লুলেস হত্যাকাণ্ডের তথ্য উদ্ধার করে আসামিদের গ্রেপ্তার করেছে। কিন্তু নুরমা হত্যাকাণ্ডের পর প্রায় দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলে কাউকে আটক অথবা হত্যাকাণ্ডের কোন ক্লু উদ্ধার করতে পারেনি। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক।
সম্প্রতি উপজেলা পরিষদ চত্বরে আয়োজিত এক মানববন্ধনে উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বলেন, শিক্ষক হিসেবে শামসুন্নাহার রুমা অত্যন্ত অমায়িক এবং শান্ত প্রকৃতির ছিলেন। তার মৃত্যু মেনে নেওয়া যেকোন স্বজনের জন্য খুব কষ্টের। তারা অবিলম্বের শিক্ষিকা রুমা হত্যাকাণ্ডের তথ্য উদ্ধার ও অপরাধীকে বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানান।
মানববন্ধনে নিহত রুমার পিতা অবসরপ্রাপ্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সোলাইমান আলী ও তার পুত্র উপল দ্রুত হত্যাকারীকে গ্রেপ্তার করে বিচারের দাবি জানান।
গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি/তদন্ত) পবিত্র কুমার বলেন, পুলিশ অধিক গুরুত্ব দিয়ে এই হত্যাকাণ্ড দুটি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে তদন্ত কাজ অব্যাহত রেখেছে। তবে এখন পর্যন্ত তেমন কোন তথ্য নেই।
গোপালগঞ্জে ৩ ভাই ও দুলাভাইয়ের হামলা-মামলায় অতিষ্ঠ গ্রামবাসী
যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদন ছাড়া ইরানের নতুন নেতা ‘টিকবে না’: ট্রাম্প