আগাম টিকিট বিক্রি বন্ধ রাখছে বাস কাউন্টারগুলো

আপডেট : ০৯ মার্চ ২০২৬, ০৮:০৭ পিএম

সোমবার (৯ মার্চ) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রাজধানীর মহাখালী বাস টার্মিনালে যাত্রীদের উপস্থিতি ছিল খুবই কম। ফলে বেশিরভাগ কাউন্টারে কর্মীদের অলস সময় কাটাতে দেখা যায়।

ঢাকা–রৌমারী রুটে চলাচলকারী সিয়াম এন্টারপ্রাইজের কাউন্টার মাস্টার মোজাফ্‌ফর জানান, জ্বালানি তেল সংগ্রহ করতে না পারায় তাদের বাস নিয়মিত ছাড়তে পারছে না। ফলে যাত্রীও কমে গেছে।

একই অবস্থা দেখা গেছে ঢাকা–সিরাজগঞ্জ রুটে চলাচলকারী ‘সেবা লাইন’ পরিবহনের কাউন্টারে। দুপুরের দিকে সেখানে কোনো কর্মীকে পাওয়া যায়নি। পরে বাইরে কাউন্টার ম্যানেজার মো. রাশেদের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, পর্যাপ্ত জ্বালানি না পাওয়ায় তাদের অনেক গাড়ি বন্ধ রয়েছে।

তিনি বলেন, একটি বাসের আপ-ডাউন করতে প্রায় ৮০ লিটার তেল প্রয়োজন হয়। কিন্তু পাম্প থেকে মিলছে মাত্র ৩০ থেকে ৩৫ লিটার। এই পরিমাণ তেল দিয়ে নিয়মিত বাস চালানো সম্ভব হচ্ছে না।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব পড়েছে। এর প্রভাব বাংলাদেশেও পড়তে শুরু করেছে। সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) ফিলিং স্টেশনগুলোতে জ্বালানি সরবরাহের নির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণ করেছে।

তবে পরিবহন সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, নির্ধারিত সীমার তুলনায় আরও কম তেল পাওয়া যাচ্ছে। পাশাপাশি জ্বালানি সংগ্রহ করতেও নানা জটিলতার মুখে পড়তে হচ্ছে। এ কারণে কিছু বাস চলাচল বন্ধ রাখা হচ্ছে। এমনকি আসন্ন ঈদযাত্রার আগাম টিকিট বিক্রিও স্থগিত করছে অনেক কোম্পানি।

মহাখালী বাস টার্মিনালের বিভিন্ন পরিবহন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা জানান, জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে তারা অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। অনেক কোম্পানি সীমিতসংখ্যক বাসের টিকিট ছেড়েছে, তবে বাকি বাসগুলোর টিকিট দিতে তারা এখনই আগ্রহী নন। কারণ যাত্রার সময় তেল সংকট দেখা দিলে যাত্রীদের সঙ্গে সমস্যায় পড়তে হতে পারে।

ঢাকা–সিলেট ও ঢাকা–হবিগঞ্জ রুটে চলাচলকারী বিলাস পরিবহনের প্রায় ৭০টি বাস রয়েছে। এর মধ্যে ৩০টি এসি বাস, যার কয়েকটি মার্সিডিজ বেঞ্জ। ঈদের আগাম টিকিট বিক্রি শুরু হলেও বর্তমানে তা বন্ধ রাখা হয়েছে।

কাউন্টার ম্যানেজার মো. শিবলু বলেন, ঈদের টিকিট ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় এখন বিক্রি করা হচ্ছে না। কারণ যাত্রার সময় তেল না থাকলে বড় সমস্যা তৈরি হতে পারে।

একই পরিস্থিতির কথা জানিয়েছে একতা পরিবহনও। এই কোম্পানির বাস ঢাকা থেকে বগুড়া ও নওগাঁ রুটে চলাচল করে। প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ৫০ থেকে ৬০টি এসি ও নন-এসি বাস রয়েছে।

কাউন্টার মাস্টার মো. আবদুল্লাহ বলেন, কিছু বাসের টিকিট আগেই বিক্রি হয়ে গেছে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতির কারণে নতুন করে টিকিট দেওয়া হচ্ছে না।

ঢাকা–সিলেট রুটে চলাচলকারী এনা পরিবহনও আপাতত টিকিট বিক্রি বন্ধ রেখেছে। কাউন্টার মাস্টার জিয়াউদ্দিন জানান, টিকিট থাকলেও জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় তা বিক্রি করা হচ্ছে না।

একই মন্তব্য করেছেন ঢাকা–রংপুর, কুড়িগ্রাম, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড় রুটের কাউন্টার মাস্টার তুষার। তার মতে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবার টিকিট বিক্রি শুরু করা হবে।

এসআর ট্রাভেলসের কাউন্টার মাস্টার মুকুল জানান, তাদের যেসব আগাম টিকিট ছাড়া হয়েছিল, সেগুলো ইতোমধ্যে বিক্রি হয়ে গেছে। তবে নতুন করে আর টিকিট দেওয়া হচ্ছে না।

পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জ্বালানি সংগ্রহ করতে এখন অনেক সময় ও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। সেবা লাইনের ম্যানেজার মো. রাশেদ জানান, একটি বাস চালাতে কখনো এক জায়গা থেকে ৩০ লিটার, আবার অন্য জায়গা থেকে ৩৫ লিটার তেল সংগ্রহ করতে হচ্ছে। এতে সময়ও বেশি লাগছে।

তিনি আরও বলেন, এখন টিকিট বিক্রি করে পরে তেলের অভাবে বাস চালাতে না পারলে যাত্রীদের সঙ্গে বিরূপ পরিস্থিতি তৈরি হবে। এতে কোম্পানির ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই আপাতত কাউন্টার ও অনলাইন-দুই জায়গাতেই টিকিট বিক্রি স্থগিত রাখা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত