আসামিদের শিগগির দেশে ফেরাতে তৎপর সরকার

আপডেট : ১০ মার্চ ২০২৬, ০৭:৪৪ এএম

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকান্ডে জড়িত সন্দেহে ভারতে গ্রেপ্তার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে শুটার রাহুল ও তার মোটরসাইকেল চালক আলমগীর হোসেনকে ফেরাতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছে ঢাকা। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তাদের দেশে ফেরত আনার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

সরকারি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ভারতও তাদের ফেরত দিতে অনেকটা আগ্রহী।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এ বিষয়ে বলেন, হাদি হত্যার ঘটনায় ভারতে গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য ইতিমধ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ পাঠানো হয়েছে। বন্দিবিনিময় চুক্তির আওতায় তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে আইনের মুখোমুখি করা হবে। গতকাল সোমবার কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে তিনি এসব কথা বলেন।

ভারতীয় পুলিশের স্পেশাল টাস্কফোর্স (এসটিএফ) গত রবিবার তাদের গ্রেপ্তারের বিষয়টি সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানোর পরই এটা নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে পুলিশ সদর দপ্তর। এসটিএফ দাবি করেছে, শনিবার রাতে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার বনগাঁ সীমান্ত থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

তবে ঢাকায় সরকারের কাছে এখন পর্যন্ত যে তথ্য আছে, তা যথেষ্ট নয় জানিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, কলকাতায় বাংলাদেশের উপহাইকমিশন ইতিমধ্যে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের যোগাযোগ করেছে। অভিযুক্তদের শনাক্ত করার জন্য ‘কনস্যুলার অ্যাকসেস’ চাওয়া হয়েছে। ‘কনস্যুলার অ্যাকসেস’ পাওয়ামাত্র সামনে এগোনো যাবে। গতকাল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

‘কনস্যুলার অ্যাকসেস’ ব্যবস্থায় বিদেশে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির পরিচয় ও অন্যান্য তথ্য নিশ্চিত করার জন্য বাংলাদেশ মিশনের কর্মকর্তারা সংশ্লিষ্ট দেশের সম্মতিসাপেক্ষে তাদের সঙ্গে সামনাসামনি কথা বলার সুযোগ পায়।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, কলকাতায় বাংলাদেশ উপহাইকমিশন ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। আটককৃত ব্যক্তিদের পরিচয় নিশ্চিত করার পর তাদের ফেরানোর চেষ্টা করা হবে।

এর আগে পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির বলেন, শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকা-ে জড়িত আসামি ফয়সাল ও আলমগীরকে অচিরেই ফিরিয়ে আনা হবে।

গত বছর ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজের কিছু পর রাজধানীর পুরানা পল্টনের কালভার্ট রোডে ব্যাটারিচালিত রিকশায় থাকা ওসমান হাদিকে লক্ষ্য করে মোটরসাইকেল থেকে গুলি ছোড়া হয়। তাকে মাথায় গুলি করে মোটরসাইকেলে করে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। পরে হাদিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলে ১৮ ডিসেম্বর সেখানে মারা যান তিনি।

গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তদন্ত শেষে গত ৬ জানুয়ারি হাদি হত্যা মামলার অভিযোগপত্র জমা দেয়। এতে সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি, সাবেক ছাত্রলীগকর্মী ফয়সাল করিম মাসুদসহ ১৭ জনকে অভিযুক্ত করা হয়। কিন্তু ডিবির দেওয়া চার্জশিটে অসন্তোষ প্রকাশ করে গত ১৫ জানুয়ারি আদালতে নারাজি আবেদন দাখিল করেন মামলার বাদী। আদালত সেই আবেদন গ্রহণ করে মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) নির্দেশ দেয়। মামলাটি এখন সিআইডিতে তদন্তাধীন।

গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, হাদিকে হত্যার পরই ফয়সাল ও আলমগীর ভারতে পালিয়ে যায়। এরপর থেকেই তারা ভারতীয় পুলিশের নজরদারিতে ছিল। ঈদের পর আসামিদের দেশে ফেরত পাঠানো হতে পারে।

ভারতীয় পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বাংলাদেশে চাঁদাবাজি ও খুনের মতো গুরুতর অপরাধ করে দুই ব্যক্তি অবৈধভাবে মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করে। তারা বনগাঁর সীমান্ত এলাকায় আশ্রয় নিয়ে আত্মগোপনে ছিল এবং সুযোগ বুঝে পুনরায় বাংলাদেশে ফেরার অপেক্ষায় ছিল। এ তথ্যের ভিত্তিতে তাদের গ্রেপ্তার করে ভারতীয় পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা হাদি হত্যাকা-ের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিল বলে স্বীকার করেছে।

ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের গতকাল রাজধানীর শাহবাগে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আহ্বায়ক ওসমান হাদি হত্যার ৮৭ দিন পর এ হত্যার সঙ্গে জড়িত শুটার গ্রেপ্তার হওয়াকে ইনকিলাব মঞ্চ গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছে। তিনি বলেন, শুধু গুলি করা ব্যক্তি নয়, এ হত্যার পেছনে যারা পরিকল্পনা করেছে এবং শুটারদের ভাড়া করেছে, তাদেরও দ্রুত চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনতে হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত