যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের জন্য সম্পূর্ণরূপে প্রস্তুত ইরান

আপডেট : ১০ মার্চ ২০২৬, ০৮:৩৪ এএম

চলমান উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতের জন্য ইরান সম্পূর্ণরূপে প্রস্তুত বলে ঘোষণা করেছে। দেশটির সর্বোচ্চ নেতার পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক উপদেষ্টা কামাল খারাজি সোমবার (৯ মার্চ) এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এই কঠোর অবস্থানের কথা জানান। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে কূটনীতির মাধ্যমে সংকট সমাধানের কোনো সম্ভাবনা তিনি দেখছেন না।

তেহরানে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কামাল খারাজি বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন মার্কিন প্রশাসন বারবার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করায় আলোচনার পথ রুদ্ধ হয়ে গেছে। তিনি অভিযোগ করেন, এর আগেও দুই দফা আলোচনার সময় ইরান যখন সমঝোতায় ছিল, তখনই তাদের ওপর আঘাত হানা হয়েছে। এই অবিশ্বাসের কারণেই তেহরান এখন যুদ্ধের পথকেই বেছে নিয়েছে।

ইরানের এই কর্মকর্তার মতে, চলমান এই যুদ্ধ কেবল বিশ্বব্যাপী বড় ধরনের অর্থনৈতিক সংকটের মাধ্যমেই শেষ হতে পারে। তিনি জানান, যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার ফলে জ্বালানি সংকট ও মূল্যস্ফীতি প্রকট আকার ধারণ করছে। কামাল খারাজি মনে করেন, অর্থনৈতিক চাপ যখন অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছাবে, তখনই বিশ্ব সম্প্রদায় এবং উপসাগরীয় দেশগুলো মার্কিন আগ্রাসন বন্ধে বাধ্য হয়ে হস্তক্ষেপ করবে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান র‍্যাপিডান এনার্জি গ্রুপের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলমান সংঘাতের ফলে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। এটি ১৯৫৬-৫৭ সালের সুয়েজ খাল সংকটের সময়ের রেকর্ডের চেয়েও প্রায় দ্বিগুণ। ইরানের কৌশল হলো, এই অর্থনৈতিক চাপকে কাজে লাগিয়ে আন্তর্জাতিক পক্ষগুলোকে আলোচনার টেবিলে ফেরানো অথবা যুক্তরাষ্ট্রকে সংঘাত থেকে সরাতে বাধ্য করা।

এদিকে ইরানের রেভোল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা এই অঞ্চলের মার্কিন ঘাঁটি ও কৌশলগত স্বার্থ সংশ্লিষ্ট এলাকায় হামলা চালাতে ইতোমধ্যে তাদের সামরিক সক্ষমতার ৬০ শতাংশ ব্যবহার করছে। যুদ্ধের দশম দিনে এসে ইরানের এই কঠোর অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত