মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে বৈশ্বিকভাবে জ্বালানি তেলের সরবরাহ কমে যাওয়ায় দেশে তীব্র সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এর ফলে গত সোমবার ও মঙ্গলবার থেকেই রাজধানীর ফিলিং স্টেশনগুলোর সামনে যানবাহনচালকদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। আজ বুধবার (১১ মার্চ) সকালেও সেই একই দৃশ্য বজায় রয়েছে; জ্বালানি তেলের জন্য রাজধানীর পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন শত শত মানুষ।
সরেজমিনে দেখা গেছে, আজ সকাল থেকেই মোটরসাইকেল ও গাড়ি চালকরা তেলের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করছেন। ভোগান্তি এড়াতে কেউ ফজরের নামাজ শেষে, আবার কেউ সাহরি খেয়েই পাম্পের সামনে এসে লাইনে দাঁড়িয়েছেন। এমনকি অনেক চালক গভীর রাত থেকেই তেলের অপেক্ষায় লাইনে প্রহর গুনছেন। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর তেল না পেয়ে অনেকের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে।
ফিলিং স্টেশনের কর্মীরা জানিয়েছেন, তেলের মজুত কিছুটা স্বাভাবিক হতে শুরু করলেও বর্তমানে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত পরিমাণ মতো জ্বালানি সরবরাহ করা হচ্ছে। অর্থাৎ, পাম্প থেকে চাইলেই কেউ আনলিমিটেড তেল নিতে পারছেন না। পাম্প কর্তৃপক্ষের দাবি, সরবরাহ চেইন বজায় রাখতে তারা সরকারি নিয়ম কঠোরভাবে মেনে চলছেন।
এদিকে সাধারণ চালকদের অভিযোগ, এই সংকটকে পুঁজি করে কেউ কেউ অবৈধভাবে তেল মজুত করছে। তেলের এই তীব্র কৃত্রিম সংকট ও ভোগান্তি নিরসনে সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত ও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। সাধারণ মানুষের মাঝে তৈরি হওয়া আতঙ্ক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে বিশ্বজুড়ে তেল ও গ্যাসের উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। সরবরাহ ব্যবস্থা কঠিন হয়ে পড়ায় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেড়ে যাওয়ায় দেশে ‘আতঙ্কের কেনাকাটা’ শুরু হয়েছে। প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত তেল কেনার এই হিড়িক হঠাৎ চাহিদা বাড়িয়ে দিয়েছে, যা সরকারি মজুতের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।
ইরান যুদ্ধের প্রথম খসড়া প্রস্তাবে জাতিসংঘে ভোট