লঞ্চের কেবিনে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের প্রতিবাদে হাতিয়ায় ভিন্ন ভিন্ন প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে এনসিপি ও বিএনপি। মুখোমুখি মিছিলে উভয় পক্ষের মাঝে হাতাহাতি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে অত্যন্ত ১০ জন আহত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সন্ধ্যায় উপজেলা সদরে এ প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলে ধর্ষক সাকিব উদ্দিন ও নুরুজ্জামান মিঠুর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করা হয়।
আহতরা হলেন- হাতিয়া উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক ইসমাইল হোসেন ইলিয়াস, হাতিয়া পৌরসভা যুবদল নেতা আশিক ও সাখাওয়াত হোসেন হিরো , হাতিয়া পৌরসভা ছাত্রদলের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম দুখু। অপরদিকে হাতিয়া উপজেলা যুব শক্তির আহ্বায়ক ইউসুফ রেজা, ছাত্র শক্তির আহ্বায়ক নেয়ামত উল্লাহ নীরব ও সমর্থক জহির উদ্দিন। বাকি তিনজনের নাম তাৎক্ষণিক জানা যায়নি।
জানা যায়, গত ৮ মার্চ রবিবার দুপুরে হাতিয়ার তমরদ্দি লঞ্চঘাট থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া ফারহান-০৪ লঞ্চের ৩২৮ নম্বর কেবিনে কলেজছাত্রীকে তুলে দেন তার বাবা। ঠিক একই সময় ওই লঞ্চঘাট থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে লঞ্চে ওঠে মোহাম্মদ সাকিব উদ্দিন ও মোহাম্মদ নুরুজ্জামান মিঠু। লঞ্চ ছাড়ার কিছু সময় পর তারা ওই কলেজছাত্রীর কেবিনের দরজায় নক করেন।
এরপর তারা কৌশলে কেবিনে প্রবেশ করে তার বেডে বসে। কথাবার্তার একপর্যায়ে সাকিব উদ্দিন তাকে বিভিন্ন ধরনের কুপ্রস্তাব দেয়। এতে রাজি না হলে অভিযুক্তরা তার গলা ও মুখ চেপে ধরে। এ সময় মিঠু তার মোবাইল ফোনটি কেড়ে নিয়ে কেবিন থেকে বের হয়ে যায়। পরে সাকিব উদ্দিন কেবিনের দরজা বন্ধ করে কলেজছাত্রীকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, এ সময় ভুক্তভোগী চিৎকার করার চেষ্টা করলে সাকিব উদ্দিন ঘটনাটি কাউকে জানালে তাকে মেরে ফেলার হুমকি দেয় এবং তারা কেবিন থেকে বের হয়ে যায়। রাত ৮টায় সাকিব ও মিঠু আবারও কেবিনে প্রবেশ করলে ভুক্তভোগী চিৎকার করার চেষ্টা করেন। তখন তাকে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করে তারা তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে আবারও তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।
বর্তমানে ধর্ষণের শিকার ওই শিক্ষার্থী ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এই ঘটনায় অভিযুক্ত দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে কোতোয়ালি থানা পুলিশ। এর আগে সোমবার সকালে ভুক্তভোগীর ভাই কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করেন।
গ্রেপ্তারকৃত ধর্ষকরা হল হাতিয়া উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম বড়দেইল গ্রামের সাহাব উদ্দিনের ছেলে মোহাম্মদ সাকিব উদ্দিন (২৬) ও একই ইউনিয়নের সাত নম্বর ওয়ার্ডের জোড়খালি গ্রামের আবুল কালামের ছেলে মোহাম্মদ নুরুজ্জামান মিঠু (৩২)।
নোয়াখালীর হাতিয়ার তমরুদ্দি লঞ্চঘাট থেকে ঢাকায় আসার পথে রাজধানীর এক কলেজ শিক্ষার্থীকে লঞ্চের কেবিনে ধর্ষণের মামলায় এক আসামি আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। আরেক আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ডের আদেশ দিয়েছে আদালত।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ঢাকার আদালতে গ্রেপ্তার দুজনের মধ্যে মোহাম্মদ নুরুজ্জামান মিঠুর (৩২) ‘স্বীকারোক্তিমূলক’ জবানবন্দি দেওয়ার তথ্য দেন প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই আবুল কালাম আজাদ। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সিদ্দিক আজাদ তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। একই আদালত অপর আসামি মোহাম্মদ সাকিব উদ্দিনকে (২৬) পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে।
পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) আজাদ বলেন, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতয়ালী থানার পরিদর্শক মোহাম্মদ মশিউল আলম এদিন আসামিদের আদালতে হাজির করেন। নুরুজ্জামান স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হওয়ায় তা রেকর্ড এবং সাকিবের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন তিনি। গত রবিবার দুপুরে হাতিয়ার তমরদ্দি লঞ্চঘাট থেকে ঢাকাগামী ফারহান-৪ লঞ্চে আসার পথে ‘ধর্ষণের’ শিকার হওয়ার অভিযোগ করেন ১৭ বছর বয়সি ওই ছাত্রী।
এ ঘটনায় তার ভাই সোমবার (৯ মার্চ) রাতে ঢাকার কোতোয়ালী থানায় সাকিব ও নুরুজ্জামানের নামে মামলা করেন। সোমবার রাতে মামলা হওয়ার পর তাদের গ্রেপ্তার করার তথ্য দেন ঢাকার কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ্ মো. ফয়সাল আহমেদ।
তিনি বলেন, ‘আমরা অভিযোগ পাওয়ার পর ভুক্তভোগীকে নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করাই এবং বিস্তারিত শুনে আসামিদের গ্রেপ্তারে মাঠে নামি। পরে টানা অভিযান চালিয়ে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলার এজাহারের বরাতে ওসি বলেন, ‘মেয়েকে একটি কেবিনে উঠিয়ে দিয়ে চলে যান তার বাবা। ওই লঞ্চে সাকিব ও নুরুজ্জামান নামে দুজন উঠে রাতে ওই শিক্ষার্থীর কেবিনে যায় এবং নির্যাতন চালায়।’
গোবিন্দগঞ্জে জামায়াত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি
টাইগারদের খেলা দেখতে মিরপুরে জাইমা রহমান