ইরান-ইসরাইল সংঘাতের অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে তেহরান এখন কঠোর ও নজিরবিহীন কিছু পদক্ষেপের কথা চিন্তা করছে বলে জানিয়েছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ফয়াদ ইজাদি। তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ফ্যাকাল্টি অফ ওয়ার্ল্ড স্টাডিজ’ এর এই অধ্যাপক কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানান।
অধ্যাপক ইজাদি সাক্ষাৎকারে জানান, যুদ্ধের প্রতিটি পয়সা উসুল করার দিকেই এখন ইরানি কর্মকর্তাদের মূল নজর। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ইরান অর্থনৈতিকভাবে ধুঁকবে আর বাকিরা সবাই আনন্দ করবে সেই দিন এখন শেষ।
যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল খাতকে লক্ষ্যবস্তু বানাতে পারে কি না এমন আশঙ্কার জবাবে ইজাদি বলেন, ইরানিরা বিষয়টি নিয়ে চিন্তিত হলেও তারা পাল্টা কৌশলে বিশ্বাসী। ইরানি নেতৃত্বের বর্তমান অবস্থান হলো, যারা এই যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি ঘটিয়েছে, শেষ পর্যন্ত তাদেরই এর চড়া মূল্য দিতে হবে। তিনি জানান, সরকারি কর্মকর্তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে প্রতিপক্ষ ইরানের ওপর যে ক্ষতি চাপিয়ে দিচ্ছে, তার প্রতিটি সেন্ট যেন ফেরত পাওয়া যায় তা নিশ্চিত করা।
ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার প্রস্তাবনা হিসেবে ফয়াদ ইজাদি দুটি বিকল্পের কথা উল্লেখ করেন। প্রথমটি হলো একটি ‘আঞ্চলিক পুনর্গঠন তহবিল’ গঠন করা, যেখানে যারা ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে তাদের মাধ্যমেই অর্থ ফেরত দিতে হবে। আর দ্বিতীয়টি হলো কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর ওপর কর আরোপ করা। মূলত যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ আদায়ে এই জলপথকে অর্থনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
