ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার পর থেকে জ্বালানির বাজারে অস্থিরতা শুরু হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়া হামলায় এলএনজি ও জ্বালানি তেলের সরবরাহে সংকট তৈরি হওয়া, হরমুজ প্রণালীতে জাহাজের স্বাভাবিক চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। এর আচ বাংলাদেশেও লাগতে শুরু করেছে। যার প্রভাবে দ্বিগুণ দাম দিয়ে এলএনজি কিনতে হচ্ছে।
গতকাল বুধবার সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে তিন কার্গো এলএনজি আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির আহ্বায়ক অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের দেওয়া প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, তিনটির মধ্যে একটি কার্গোর মধ্যে প্রতি ইউনিটের/এমএমবিটিইউ এলএনজির দাম ২১ দশমিক ৫৮ ডলার ধরা হয়েছে। এতে কার্গোটির এলএনজিতে মোট খরচ পড়বে ৯০৭ কোটি ৮৪ লাখ ৬৪ হাজার টাকা। তবে অন্য দুই কার্গোতে প্রতি ইউনিটের/এমএমবিটিইউ এলএনজির দাম ধরা হয়েছে ২০ দশমিক ৭৬ মার্কিন ডলার করে। এতে করে প্রতিটি কার্গোতে খরচ পড়বে ৮৭৩ কোটি ৩৪ লাখ ৯৯ হাজার টাকা।
জানা গেছে, গত বছরের ডিসেম্বরের মাঝামাঝিতে বাংলাদেশ যে এলএনজি স্পট মার্কেট থেকে কিনেছে সেগুলোতে ইউনিট-প্রতি দাম পড়েছে ৯ দশমিক ৯৯ মার্কিন ডলার। যেমন গত ডিসেম্বরের ১৫ তারিখে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভায় স্পট মার্কেট থেকে এক কার্গো এলএনজি আমদানির ব্যয় অনুমোদন দেওয়া হয়। সে সময় প্রতি ইউনিটের/এমএমবিটিইউ এর দাম ধরা হয় ৯ দশমিক ৯৯ মার্কিন ডলার। এতে করে এক কার্গো এলএনজির দাম গিয়ে দাঁড়ায় ৪২০ কোটি ৯ লাখ ৬৯ হাজার টাকায়। সে সময় যুদ্ধ না থাকায় দামও স্বাভাবিক ছিল।
কিন্তু বর্তমানে যুদ্ধের প্রভাবের কারণে এলএনজির দাম দ্বিগুণ হয়ে পড়েছে। যে কারণে জ¦ালানির পেছনে দ্বিগুণ ব্যয় করতে হচ্ছে।
ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তিনটি, স্থানীয় সরকার বিভাগের ১টি, বিদ্যুৎ বিভাগের একটি এবং জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের একটি দর প্রস্তাবের অনুমোদন দেওয়া হয়।
এর মধ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একটি প্রস্তাবে ৮০ লাখ লিটার রাইস ব্রান অয়েল কেনা হবে। যেগুলো ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)-এর মাধ্যমে ভর্তুকি মূল্যে বিক্রি করা হবে। এই তেল কিনতে সরকারের খরচ হবে ১৩৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা। চারটি লটে তেলগুলো সরবরাহ করবে চারটি ভিন্ন ভিন্ন প্রতিষ্ঠান। প্রতিলিটার তেলের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৬৯ দশমিক ৭৫ টাকা। স্থানীয়ভাবে উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে এই তেল কেনা হচ্ছে।
একইভাবে অন্য একটি প্রস্তাবের মাধ্যমে আরও এক কোটি লিটার রাইস ব্রান কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। যেখানে ৫টি লটে তেল নেবে সরকার। তবে এখন প্রতিলিটার তেলের দাম ধরা হয়েছে ১৭০ দশমিক ৭৫ টাকা। যা আগের প্রস্তাবের তুলনায় লিটারে এক টাকা করে বেশি। এই লটের খরচ ধরা হয়েছে ১৭০ কোটি ৪১ লাখ ৮০ হাজার টাকা।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তৃতীয় প্রস্তাবের মাধ্যমে অবশ্য ১ কোটি ৩০ লাখ ৩২ হাজার লিটার পরিশোধিত পাম অলিন কেনার প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকার। যেখানে লিটারপ্রতি ১৬৫ দশমিক ৩০ টাকা হিসেবে ১৮১ কোটি ২৯ লাখ ৬ হাজার টাকা খরচ পড়বে।
এছাড়া স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন রাস্তার একটি প্যাকেজ, বিদ্যুৎ বিভাগের একটি প্রস্তাবে বিদ্যুৎ কেনার প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এছাড়া অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের একটি প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। যেখানে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশন (বিটিএমসি)-এর নিয়ন্ত্রণাধীন মাগুরা টেক্সটাইল মিলটি পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ পদ্ধতিতে চালু করার লক্ষ্যে বেসরকারি অংশীদার নির্বাচনের জন্য চুক্তি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।