আসন্ন ২০২৬ বিশ্বকাপ শুরুর মাত্র তিন মাস আগে বিশ্ব ফুটবলে এক নজিরবিহীন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। স্বাগতিক দেশ যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলা ইরানের পক্ষে অসম্ভব—দেশটির ক্রীড়ামন্ত্রী আহমেদ দনিয়ামালির এমন বক্তব্যের পর প্রথমবারের মতো আধুনিক যুগে বিশ্বকাপ থেকে কোনো দলের নাম প্রত্যাহারের জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
যদিও ইরান ফুটবল ফেডারেশন এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত কিছু জানায়নি, তবে ফিফার নীতিনির্ধারকরা ইতোমধ্যেই বিকল্প দল নিয়ে গুরুত্বের সাথে ভাবতে শুরু করেছেন। আগামী জুনে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় যৌথভাবে আয়োজিত হতে যাচ্ছে ফুটবল বিশ্বের এই মহারণ।
প্রেক্ষাপট ও রাজনৈতিক জটিলতা
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলায় দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। ক্রীড়ামন্ত্রী দনিয়ামালি বুধবার স্পষ্ট জানান, যে দেশের সাথে ইরান যুদ্ধে লিপ্ত, সেই দেশে গিয়ে ফুটবল খেলা বর্তমান পরিস্থিতিতে অসম্ভব।
মজার ব্যাপার হলো, দনিয়ামালির এই বিবৃতির মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো জানিয়েছিলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে আশ্বস্ত করেছেন যে ইরান দলকে যুক্তরাষ্ট্রে স্বাগত জানানো হবে। কিন্তু বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতায় সেই আশ্বাস এখন ফিকে হয়ে আসছে।
আইন কী বলছে?
বিশ্বকাপের নীতিমালার ‘আর্টিকেল সিক্স’ অনুযায়ী, কোনো দেশ সরে দাঁড়ালে ফিফা তাদের ইচ্ছামতো যেকোনো দেশকে সেই শূন্যস্থান পূরণের জন্য আমন্ত্রণ জানাতে পারে। ফিফার সাবেক ফুটবল রেগুলেটরি ডিরেক্টর জেমস কিচিং রয়টার্সকে জানান, “এর কোনো আধুনিক নজির নেই। ফিফা চাইলে একই মহাদেশ থেকে দল নিতে পারে, আবার চাইলে কাউকেই না নিতে পারে। তবে বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় ইরানকে হয়তো বড় কোনো আর্থিক বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মুখে পড়তে হবে না।”
এশিয়ার সম্ভাব্য বিকল্প
বাছাইপর্বে এশিয়া অঞ্চলের ‘গ্রুপ এ’ থেকে শীর্ষস্থান দখল করে টানা চতুর্থবারের মতো বিশ্বকাপে জায়গা করে নিয়েছিল ইরান। তাই তাদের বিকল্প হিসেবে এশিয়ার কোনো দলকে সুযোগ দেওয়াটাই হবে সবচেয়ে যৌক্তিক। এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আছে ইরাক ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের নাম।
ইরাক বর্তমানে আন্তঃমহাদেশীয় প্লে-অফের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে বিমান চলাচল সীমিত হওয়ায় তাদের মেক্সিকো ভ্রমণ ও প্রস্তুতি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। আগামী ৩১ মার্চ মেক্সিকোর মাঠে বলিভিয়া বা সুরিনামের বিপক্ষে তাদের মাঠে নামার কথা।
ইরাকি কোচের প্রস্তাব
ইরাকের বর্তমান কোচ গ্রাহাম আর্নল্ড ফিফাকে একটি বাস্তবধর্মী প্রস্তাব দিয়েছেন। তার মতে, ৩১ মার্চের ম্যাচটি পিছিয়ে বিশ্বকাপের এক সপ্তাহ আগে যুক্তরাষ্ট্রে আয়োজন করা উচিত। এতে ফিফা হাতে সময় পাবে। যদি ইরান শেষ পর্যন্ত না খেলে, তবে ইরাক সরাসরি মূল পর্বে ঢুকবে এবং আরব আমিরাতকে প্লে-অফে বলিভিয়া বা সুরিনামের বিপক্ষে খেলার সুযোগ দেওয়া যাবে।
পরবর্তী পদক্ষেপ
এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখছে এবং ফিফার সাথে যোগাযোগ রাখছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ফিফা সম্ভবত এপ্রিলের শুরু পর্যন্ত অপেক্ষা করবে।
আগামী ১৫ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ইরানের বিশ্বকাপ মিশন শুরু হওয়ার কথা ছিল। এখন দেখার বিষয়, ফুটবলীয় কূটনীতি এই সংঘাতকে ছাপিয়ে যেতে পারে কি না।
অক্ষর ভীষণ রেগে গিয়েছিলেন; শেষ পর্যন্ত ক্ষমা চান সূর্যকুমার!