পাঁচ গোল দিয়েও অস্বস্তি পিএসজির

আপডেট : ১৩ মার্চ ২০২৬, ০৬:২০ এএম

চ্যাম্পিয়নস লিগে বুধবার চেলসির বিপক্ষে পিএসজির দুর্দান্ত আক্রমণভাগ তাদের নড়বড়ে রক্ষণভাগকে বাঁচিয়েছে। ঘরের মাঠে পিএসজি ৫-২ ব্যবধানে জিতলেও, শেষ মুহূর্তের গোলগুলো তাদের মাঝারি মানের রক্ষণাত্মক পারফরম্যান্সকে আড়াল করে দিয়েছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে রক্ষণভাগে পিএসজি খুবই দুর্বল অবস্থায়; শেষ সাত ম্যাচে তারা ১২টি গোল হজম করেছে, যার মধ্যে ঘরের মাঠেই গত তিন ম্যাচে খেয়েছে সাতটি গোল।

ক্লাব বিশ্বকাপে চেলসির কাছে হেরে যাওয়া পিএসজিকে এগিয়ে দেয় ব্র্যাডলি বারকোলা। কিন্তু ২৮ মিনিটে চেলসির সমতাসূচক গোলটি ছিল মূলত খেলোয়াড়দের রক্ষণাত্মক পাহারার অভাবের ফলাফল। যখন রাইটব্যাক মালো গুস্তো সম্পূর্ণ অরক্ষিত অবস্থায় এনজো ফার্নান্দেজের পাসের নাগাল পান এবং গোলরক্ষক মাতভেই সাফোনভকে পরাস্ত করে শট নেন লেফটব্যাক নুনো মেন্দেসকে কোথাও দেখা যাচ্ছিল না। সাফোনভ বলটিতে যথেষ্ট শক্তভাবে হাত ছোঁয়াতে ব্যর্থ হন। উসমান দেম্বেলের গোলে আবার পিছিয়ে পড়ার পর, সমতা টানেন এনজো ফার্নান্দেজ।

৩৯ মিনিটে কোল পামারের শট ঠেকান সাফোনোভ এবং সেখান থেকেই আক্রমণে উঠে আবার এগিয়ে যায় পিএসজি। নিজেদের অর্ধ থেকে দিজিরে দুয়ের পাস ধরে এগিয়ে যান দেম্বেলে। বক্সে ঢুকে চেলসি ডিফেন্ডার ওয়েসলি ফোফানাকে কাটিয়ে নিচু শটে দূরের পোস্ট দিয়ে লক্ষ্যভেদ করেন ব্যালন দ’র জয়ী।

সেই স্বস্তি বিরতি থেকে ফিরে বেশিক্ষণ থাকেনি স্বাগতিকদের। ৫৭তম মিনিটে স্কোরলাইন ২-২ করেন এনজো ফার্নান্দেজ। বাঁ দিক দিয়ে দারুণভাবে বক্সে ঢুকে পাস দেন পেদ্রো নেতো, আর অনায়াসে লক্ষ্যভেদ করেন অরক্ষিত আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার।

৭৪ মিনিটে ইয়োর্গেনসেনের হাস্যকর ভুলে ম্যাচে তৃতীয়বার এগিয়ে যায় পিএসজি। সতীর্থের ব্যাকপাস পেয়ে আরেক সতীর্থের উদ্দেশে দেওয়ার চেষ্টা করেন চেলসি গোলরক্ষক, তার একটু সামনেই থাকা বারকোলা পা বাড়িয়ে আটকে দেন বল, কাভারাৎস্কায়ার পা ঘুরে বল পেয়ে লব শটে গোলরক্ষকের মাথায় ওপর দিয়ে জালে পাঠান ভিতিনিয়া।

আবার পিছিয়ে পড়লেও, ৮৫ মিনিট পর্যন্ত ভালোভাবেই লড়াইয়ে ছিল চেলসি। তবে ৮৬ মিনিটে দারুণ এক গোলে সফরকারীদের ম্যাচ থেকে এক রকম ছিটকে দেন কাভারাৎস্কায়া। উইলিয়াম পাচোর পাস ধরে বক্সের বাইরে জায়গা বানিয়ে ডান পায়ের বুলেট গতির শটে জালে পাঠান জর্জিয়ার ফরোয়ার্ড।

দুয়ের বদলি নামা কাভারাৎস্কায়া যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে চেলসির কফিনে পঞ্চম পেরেক ঠুকে দেন। আশরাফ হাকিমির পাস পেনাল্টি স্পটের কাছে পেয়ে নিচু শট নেন অরক্ষিত এই খেলোয়াড়। বল গোলরক্ষকের হাত ছুঁয়ে জালে জড়ায়।

আগামী মঙ্গলবার স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে হবে ফিরতি লেগ। ঘরের মাঠে খেলা হলেও, তিন গোলের ব্যবধান ঘোচানো ভীষণ কঠিন হবে চেলসির জন্য।

বোডোর স্বপ্নযাত্রা চলছেই নরওয়েজিয়ান ক্লাব বোডো/গ্লিম্ট তাদের রূপকথার মতো অভিষেক চ্যাম্পিয়নস লিগ যাত্রা অব্যাহত রেখেছে। বুধবার স্পোর্টিং লিসবনকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের পথে বিশাল এক পদক্ষেপ নিয়েছে তারা।

ম্যাচের ৩১ মিনিটে পেনাল্টি থেকে সোনড্রে ব্রুনস্ট্যাড ফেট বোডোকে এগিয়ে দেন। প্রথমার্ধের ইনজুরি টাইমে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ওলে ডিড্রিক ব্লমবার্গ। ৭১ মিনিটে ক্যাসপার হগ আসরে নিজের টানা পঞ্চম গোলটি করলে গ্যালারিতে বন্য উল্লাস শুরু হয়।

এই জয়ের মাধ্যমে আসরে টানা পঞ্চম জয়ের এক অসাধারণ কীর্তি গড়ল নরওয়েজিয়ান ক্লাবটি। লিগপর্বে ম্যানচেস্টার সিটি এবং আতলেতিকো মাদ্রিদকে হারিয়ে চমক দেখানোর পর নকআউট প্লে-অফ রাউন্ডে ইন্টার মিলানকে হোম ও অ্যাওয়ে উভয় ম্যাচেই হারিয়েছিল এই নবাগত দলটি।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত