ঢাবি ছাত্রশক্তি নেতার গ্রামের বাড়িতে আগুন

আপডেট : ১৩ মার্চ ২০২৬, ০৯:১৮ পিএম

ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখা ছাত্রশক্তির এক নেতার গ্রামের বাড়িতে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে বসতঘরের বেড়া কুপিয়ে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করেছেন পরিবারের সদস্যরা। শুক্রবার (১৩ মার্চ) ভোররাতে উপজেলার ডোমঘাটা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর নাম মো. সাইফুল্লাহ। তিনি ঢাবি শাখা ছাত্রশক্তির সাংগঠনিক সম্পাদক এবং ধোবাউড়া উপজেলার ডোমঘাটা গ্রামের আলী হোসেন ব্যাপারীর ছেলে।

স্থানীয় সূত্র ও পরিবারের সদস্যরা জানান, বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ৩টা ১০ মিনিটের দিকে সাইফুল্লাহর বাড়ির একটি লাকড়ির রান্নাঘরে আগুন ধরিয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হলেও বিষয়টি টের পেয়ে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা মিলে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। এতে একটি ঘর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

সাইফুল্লাহ বলেন, বৃহস্পতিবার রাত ৩টা ১০ মিনিটের দিকে আমার বাড়ির রান্নাঘরে আগুন দেওয়া হয়। বসতঘরেও কুপিয়ে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে বড় ধরনের ক্ষতির আগেই আগুন নিভিয়ে ফেলা সম্ভব হয়েছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, এই ঘটনার সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের কর্মীরা জড়িত। এ ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

ধোবাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ভোরেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। প্রাথমিকভাবে একটি লাকড়ির ঘরে আগুন লাগার ঘটনা পাওয়া গেছে। বসতঘরের টিনের বেড়ায় তিনটি কোপের দাগও দেখা গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

এদিকে শুক্রবার সকালে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরউদ্দীন পাটওয়ারী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সার্কেলের পুলিশ সুপারের সঙ্গে আলোচনা করে সাইফুল্লাহর পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। এ বিষয়ে তিনি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে একটি স্ট্যাটাসও দেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ৯ মার্চ ভোরে সেহরির সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী রাহিদ খান পাভেলকে ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার সন্দেহে মারধরের অভিযোগ ওঠে ছাত্রশক্তির কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, হাসিব, শুভ, সাইফুল্লাহ ও মহিউদ্দিনের নেতৃত্বে ২০ থেকে ২৫ জন তাকে প্রায় দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা মারধরের পর শাহবাগ থানায় সোপর্দ করেন। সে ঘটনার সময় সাইফুল্লাহ তার ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্টে লিখেছিলেন, ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ ধরেছি। শাহবাগ থানায় নিয়ে যাচ্ছি। লীগ প্রশ্নে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। পরে তিনি পোস্টটি মুছে ফেলেন।

তবে সাইফুল্লাহ বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাহিদ খানকে মারধরের ঘটনার সঙ্গে তার গ্রামের বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনার কোনও সরাসরি সম্পৃক্ততা আছে কি না, তা তিনি নিশ্চিত নন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত