ঈদের আগে চুলে নতুন কালার

আপডেট : ১৪ মার্চ ২০২৬, ০১:২০ এএম

লুকে আনুন ভিন্নতা

ঈদ মানেই নতুন পোশাক, নতুন সাজ আর একটু ভিন্নভাবে নিজেকে উপস্থাপন করার আনন্দ। তাই ঈদের আগে অনেকেই চুলে নতুন রঙ করে নিজের লুকে আনতে চান পরিবর্তন। হেয়ার কালার এখন শুধু ফ্যাশন নয়, বরং ব্যক্তিত্ব প্রকাশেরও মাধ্যম। তবে চুলে রঙ করার আগে কিছু বিষয় জানা জরুরি, যাতে চুল সুন্দর দেখানোর পাশাপাশি সুস্থও থাকে

কোন কালার ট্রেন্ডে

বর্তমানে প্রাকৃতিক শেডের হেয়ার কালার বেশি জনপ্রিয়। চকলেট ব্রাউন, কপার ব্রাউন, ক্যারামেল, হানি ব্লন্ড এবং বারগান্ডি রঙ এখন বেশ চলতি। এ ছাড়া অনেকেই পুরো চুলে রঙ না করে হাইলাইট বা ওমব্রে স্টাইল বেছে নিচ্ছেন, যা দেখতে স্টাইলিশ এবং তুলনামূলকভাবে সহজে মানিয়ে যায়। সব মিলিয়ে বলা যায়, ঈদের আগে চুলে নতুন রঙ করলে লুকে আসতে পারে দারুণ পরিবর্তন। তবে সঠিক রঙ নির্বাচন এবং প্রয়োজনীয় যত্ন নিলেই হেয়ার কালার হয়ে উঠবে সৌন্দর্যের নিখুঁত অংশ। ন্যাচারাল লুক আনার জন্য নিচের রঙগুলো আমাদের মেয়েদের স্কিন টোনে ভালো স্যুট করে।

চুলে কালার করার আগে

চুলে কালার করার আগে প্রথমেই নিজের চুলের ধরন ও অবস্থা বুঝতে হবে। যদি চুল খুব বেশি শুষ্ক বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে আগে কিছুদিন চুলে পুষ্টি দেওয়া ভালো। এ ছাড়া নতুন কোনো রঙ ব্যবহারের আগে অ্যালার্জি টেস্ট করে নেওয়া উচিত। বিশেষজ্ঞরা বলেন, কালার করার অন্তত একদিন আগে চুলে তেল বা হেয়ার মাস্ক ব্যবহার করলে চুল কিছুটা সুরক্ষিত থাকে।

কোন কালার কার জন্য ভালো

সব রঙ সবার সঙ্গে মানানসই হয় না। সাধারণত গায়ের রঙ ও মুখের গড়নের সঙ্গে মিলিয়ে হেয়ার কালার নির্বাচন করলে লুক আরও আকর্ষণীয় হয়। উজ্জ্বল বা ফর্সা ত্বকের সঙ্গে বারগান্ডি, অ্যাশ ব্রাউন বা চকলেট ব্রাউন ভালো মানায়। আবার শ্যামলা ত্বকের জন্য কপার, ক্যারামেল বা গোল্ডেন ব্রাউন রঙ বেশ জনপ্রিয়। যারা খুব বেশি পরিবর্তন চান না, তারা হালকা হাইলাইটও করতে পারেন।

চুলে হেয়ার কালারের ধরন

চুলে রঙ করার ক্ষেত্রে এখন নানা ধরনের হেয়ার কালার পাওয়া যায়। এর মধ্যে হারবাল বা প্রাকৃতিক হেয়ার কালার তুলনামূলক নিরাপদ, কারণ এতে রাসায়নিকের ব্যবহার কম থাকে। অ্যামোনিয়া–ফ্রি হেয়ার কালারও বেশ জনপ্রিয়, যা চুলের ক্ষতি কম করে এবং দীর্ঘদিন রঙ ধরে রাখে। অনেকেই সাময়িক পরিবর্তনের জন্য টেম্পোরারি বা সেমি–পার্মানেন্ট কালার ব্যবহার করেন, যা কয়েকবার শ্যাম্পু করলেই উঠে যায়। আর স্থায়ী পরিবর্তনের জন্য পার্মানেন্ট হেয়ার কালার ব্যবহৃত হয়। তবে যেকোনো কালার ব্যবহারের আগে চুলের ধরন ও স্ক্যাল্পের সংবেদনশীলতা বিবেচনা করা এবং ভালো মানের পণ্য বেছে নেওয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

কালার করা চুলের যত্ন

চুলে রঙ করার পর যত্ন নেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণ শ্যাম্পুর বদলে কালার-প্রটেক্ট শ্যাম্পু ব্যবহার করলে রঙ দীর্ঘদিন টিকে থাকে। পাশাপাশি নিয়মিত কন্ডিশনার ও হেয়ার সিরাম ব্যবহার করলে চুল মসৃণ থাকে। অতিরিক্ত হিট স্টাইলিং এড়িয়ে চলা এবং মাঝে মাঝে হেয়ার মাস্ক ব্যবহার করলে চুলের স্বাস্থ্য ভালো থাকে। প্রথমেই সপ্তাহে ২-৩ বার তেল দিয়ে শ্যাম্পু করার হ্যাবিট তৈরি করতে হবে। যেদিন কালার করবেন তার ৩ দিন আগে হট অয়েল ট্রিটমেন্ট করবেন। হট অয়েল ট্রিটমেন্ট যেদিন করবেন তার পরদিন অর্থাৎ কালার করার ২ দিন আগে চুল লাস্ট শ্যাম্পু করবেন। এতে চুলের ন্যাচারাল অয়েল চুলে ছড়িয়ে ইভেন কালার ডিস্ট্রিবিউশনে হেল্প করবে। অবশ্যই এই শ্যাম্পু করতে হবে কোন ক্লারিফাইং শ্যাম্পু দিয়ে। এ ধরনের শ্যাম্পু চুলের অন্যান্য সিলিকন বা অয়েল বা কালার বিল্ডআপ দূর করবে। চুলে কোনো কাট দেওয়ার ইচ্ছা থাকলে সেটা আগে করে ফেলুন। কালার করার ২ মাস পড়ে যেন হঠাৎ চুল কাটার ইচ্ছা না হয়! এতে জটিল কালার লুকটা আর আপনার টাকাই নষ্ট হবে। চুলের হেলথ ঠিক রাখার জন্য রিবনডিং করা চুলে ব্লিচ করবেন না। চুল রিবনডেড হলে যেকোনো মূল্যে ব্লিচ এভয়েড করুন। রিবনডিং করার ১ বছরের ভেতরে কোনো ধরনের কালার করা উচিত নয়। এতে চুল নষ্ট হয়ে যায়। যদি কেউ চুলে মেহেদি দেন। তাহলে চুলের মেহেদির কালার চলে যাওয়ার পর চুলে কালার করবেন। না হলে চুলের কালার পুরোপুরি আসবে না।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত