ছুটির দিনে জমজমাট কেনাকাটা

আপডেট : ১৪ মার্চ ২০২৬, ০৭:৫২ এএম

ঈদ ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে রাজধানীর বিপণি বিতানগুলোতে বাড়ছে ক্রেতাদের উপস্থিতি। গতকাল শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় ফুটপাত থেকে শুরু করে অভিজাত মার্কেট সব জায়গায় ছিল উপচেপড়া ভিড়। কেউবা একা, কেউ আবার পরিবার-পরিজন, বন্ধুদের সঙ্গে এসেছিলেন ঈদের কেনাকাটা করতে। দোকানিরাও পার করছেন ব্যস্ত সময়। রাজধানীর বসুন্ধরা শপিং মলে ঘুরে দেখা গেছে, পোশাক, জুতা ও প্রসাধনীর দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় লেগেই আছে। বিশেষ করে পাঞ্জাবি, শাড়ি, থ্রি-পিস, কুর্তা ও শিশুদের পোশাকের দোকানগুলোতে ক্রেতাদের চাপ বেশি।

রিচম্যান শোরুমের বিক্রয়কর্মী মোহাম্মদ সোহেল বলেন, ‘ঈদ সামনে হওয়ায় ক্রেতাদের ভিড় প্রতিদিনই বাড়ছে। অন্যবারের তুলনায় এবার ভিড়টা একটু বেশি, কারণ আড়ং-এর সব কিছু এক জায়গাতেই পাওয়া যায়। আমরা ক্রেতাদের সব চাহিদা পূরণ করার চেষ্টা করে থাকি।’ তার মতে, সারা দিনই ভিড় থাকে, সন্ধ্যার পর থেকে রাত পর্যন্ত একই রকম ভিড় থাকে।

‘ঈদের আগে পরিবারের সবার জন্য নতুন পোশাক কিনতে এসেছি। পোশাকের মান অন্যদের থেকে ভালো বলে মনে হয়। তাছাড়া প্রতিবছর একটা হলেও পাঞ্জাবি কিনে থাকি’ জানাচ্ছিলেন ব্যাংক কর্মকর্তা রাকিব হাসান।

‘সাধারণ দিনের তুলনায় ছুটির দিনে দোকানে ক্রেতাদের উপস্থিতি অনেক বেড়ে যায়। বিশেষ করে তরুণ ক্রেতাদের ভিড় তখন বেশি লক্ষ করা যায়। তাদের মধ্যে নতুন ডিজাইন ও আধুনিক স্টাইলের পোশাকের চাহিদা তুলনামূলকভাবে বেশি। আমরা সব সময় ক্রেতাদের কথা মাথায় রেখে নতুন কালেকশন নিয়ে আসি’ ইয়েলো দোকানের বিক্রেতা আরিফ হোসেন এসব কথা বলছিলেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান বলছিলেন, ‘ঈদের সময় নতুন পোশাক আনন্দের একটি অংশ। এবারও ঢাকাতে ঈদ করব, প্রতিটা দিনের জন্য আলাদা পোশাক কিনেছি, আজ এসেছি জুতা কিনতে; পছন্দ হলেই কিনে ফেলব। দাম আগের মতোই মনে হচ্ছে।’

‘বসুন্ধরা শপিং মলে এক জায়গায় অনেক ধরনের প্রসাধনী পাওয়া যায়। তাই প্রতিবারের মতোই এই জায়গাতে এসেছি। প্রায় ১০ বছর ধরে এখানেই আসি কিনতে। এইবার নিজের ও পরিবার সবার জন্যেই জামা-কাপড় কিনেছি। সব কিছু ঠিক থাকলে গ্রামে ঈদ করতে যাব’ জানান তানভীর আহমেদ। শাড়ি কিনতে আসা গৃহিণী সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, পরিবারের সবার জন্য কেনাকাটা করতে এসেছি। ঈদের আগে মার্কেটের এই ভিড়টাই উৎসবের আলাদা আমেজ তৈরি করে। অন্যদিকে রাজধানীর সব থেকে ব্যস্ততম জায়গা নিউ মার্কেট ও গাউছিয়া মার্কেটে গিয়ে দেখা গেছে, মানুষ তার পছন্দের পোশাক কিনতে ভিড় করছে। বিশেষ করে তরুণ-তরুণীদের মধ্যে ঈদের আনন্দটা বেশি লক্ষ করা গেছে। পিছিয়ে নেই বাচ্চারাও। বিক্রেতারা জানান, ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে বিক্রিও তত বাড়ছে। অনেক নারী নিজের পছন্দমতো পোশাক ও সাজসজ্জার সামগ্রী কিনতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এসেছেন।

রোজার শুরু দিকে বেচা-কেনা কম থাকলেও এখন বেশি হচ্ছে। এবার মেয়েদের কানের দুল, চুড়ির প্রতি আগ্রহ বেশি। ছুটির দিন আজ অন্যদিনের থেকে বেশি মানুষ। ঈদকে সামনে রেখে ধানম-ি হকার্স মাকেটে বেড়েছে ক্রেতাদের ভিড়। নারীরা শাড়ি কিনতে ব্যস্ত।

সিদ্দিক বাজারের এক বিক্রেতা আলিম বলেন, ‘ঈদ উপলক্ষে শাড়ির চাহিদা অনেক বেড়েছে। বিভিন্ন ধরনের শাড়ি ১,০০০ থেকে ১৫০০০-২০০০০ টাকার মধ্যে আছে। আজ বেশ ভিড় দেখা যাচ্ছে ক্রেতারাও কিনছেন তাদের পছন্দের শাড়ি। শাড়ির দাম তুলনামূলক বেশি বলে মনে হচ্ছে। অনেক ধরনের শাড়ি দেখেছেন, তার মধ্য থেকে একটা কিনবেন বলে জানান শিউলি আক্তার।

মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, বিভিন্ন দোকানে রঙিন ও আধুনিক ডিজাইনের পাঞ্জাবি সাজিয়ে রাখা হয়েছে। সাদা, অফ-হোয়াইট, মেরুন ও নীল রঙের পাঞ্জাবির চাহিদা বেশি এবার। দোকানভেদে পাঞ্জাবির দাম ১,০০০ টাকা থেকে শুরু করে ৫,০০০ টাকা পর্যন্ত। ক্রেতারা বলেন, ঈদে নতুন পাঞ্জাবি পরার আলাদা আনন্দ। তাই নিজের ও পরিবারের সবার জন্য পাঞ্জাবি কিনতে নিউ মার্কেটে এসেছেন। নূরজাহান মার্কেটের নিচ তলাতে দেখা গেছে, বাচ্চাদের কেনাকাটাতেও অনেক বেশি ভিড়। অনেক বাবা-মা তার প্রিয় সন্তানের জন্য কেনাকাটা করতে এসেছেন। রাফিয়া নামের এক বাচ্চা তার মায়ের সঙ্গে এসেছে। তার মা বলেন, জামার সঙ্গে মিল রেখে জুতা ও আরও কিছু জিনিস কিনবেন। নিউ মার্কেটের ১ নম্বর গেটের কাছে মেয়েদের জুতার বাহারি আয়োজন দেখা গেছে। সেখানে তরুণীদের ভিড় দেখা যায়।  ইডেন কলেজের ছাত্রী  বলেন, এখানে নিজের পছন্দ মতো জুতা বাছাই করা যায়। তাছাড়া দামেও কিছুটা কম। ৩০০ থেকে শুরু করে ৭০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যায়।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত