মালদ্বীপে সিলিন্ডার বিস্ফোরণে নিহত বগুড়ার নুরনবী, বাড়িতে শোকের মাতম

আপডেট : ১৪ মার্চ ২০২৬, ০৪:১৬ পিএম

পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতা প্রত্যাশায় নুরনবী সরকার ২০১৬ সালে পাড়ি জমিয়ে ছিলেন মালদ্বীপের দিঘুড়া আইল্যান্ডে। কথা ছিল আগামী ঈদুল আযহার পর ১০ বছরের প্রবাস জীবন শেষ করে বাড়ি ফিরবেন। নতুন সংসার গড়ার কথা তার। কিন্তু ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস নুরনবী তার আগেই ফিরছেন বাড়িতে। তবে, জীবিত নয়, তার মরদেহ আসবে।

গত শুক্রবার  (১৩ মার্চ) সাহরির সময় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে নিহত ৫ বাংলাদেশি আগুনে দগ্ধ হয়ে মারা যান। এরমধ্যে একজন বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার নুরনবী সরকার (৩০)। শুক্রবার তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। নিহত নুরনবী সরকার শিবগঞ্জ উপজেলার ময়দানহাটা ইউনিয়নের জামালপুর এলাকার আব্দুস সালামের ছেলে। 

শনিবার সকালে ওই এলাকায় গিয়ে দেখায় যায়, নিহত নুরনবীর স্বজনদের আহাজারিতে পুরো এলাকা জুড়ে এখন শোকের মাতম। মরদেহ দ্রুত দেশে এনে আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের নিকট হস্তান্তরের দাবি স্থানীয়দের।

নিহত নুরনবীর পরিবার সুত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালে আগে নিজের ও পরিবারে ভাগ্যোন্নয়নের জন্য মালদ্বীপে পাড়ি জমায় নুরনবী সরকার। প্রায় ১০ বছর পর প্রবাস জীবন শেষে আগামী কোরবানি ঈদের পর বাড়ি ফেরার কথা ছিলো তার। দীর্ঘদিন পর বাড়ি ফেরার খবরে আনন্দিত পরিবারের সদস্যরা নিচ্ছিলেন নানান ধরনের প্রস্তুতি। এরই মধ্যে খবর আসে নুরনবী জীবিত ফিরছেন না। দেশে ফিরবে তার মরদেহ। হঠাৎ এমন খবরে দিশেহারা পরিবারের সদস্যরা। জানেন না কোন প্রক্রিয়ায় আনতে হবে মরদেহ।

নিহত নুরনবীর বাবা আব্দুস সালাম বলেন, ছেলে আমার প্রবাসে গেছে পরিবারের অভাব অনটন দূর করার জন্য। পরিবারের স্বচ্ছলতা ফিরেছে। কিন্তু সন্তান তো ফিরছে মৃত হয়ে।

তিনি আরও বলেন, মরদেহ দেশে আনার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া এখনো শুরু হয়নি। তাদের সাথে যোগাযোগ করেনি স্থানীয় প্রশাসনের কেউই। যতদ্রুত সম্ভব আপনারা সরকারের সাথে যোগাযোগ করে আমার সন্তানের মরদেহ আনার ব্যবস্থা করে দেন।

এলাকাবাসির দাবি, প্রবাসে থেকে পরিবার ও দেশের জন্য স্বপ্ন বোনা নুরনবী সরকারের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে দ্রুত তার মরদেহ দেশে আনা হোক তার মরদেহ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত