ফয়সালদের পালাতে সহায়তাকারী ফিলিপও পশ্চিমবঙ্গে গ্রেপ্তার

আপডেট : ১৫ মার্চ ২০২৬, ০৭:৩৪ এএম

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান শরীফ হাদি হত্যার প্রধান সন্দেহভাজন ফয়সাল করিম মাসুদ ও সহযোগী আলমগীর হোসেনকে সীমান্ত পার হতে সহায়তায় নাম আসা ফিলিপ সাংমাকেও গ্রেপ্তার করেছে পশ্চিমবঙ্গের পুলিশ। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের (এসটিএফ) বরাতে তাকে গ্রেপ্তারের খবর দিয়েছে আনন্দবাজার পত্রিকা।

ফয়সাল করিম ও আলমগীরকে গ্রেপ্তারের এক সপ্তাহের মাথায় গতকাল শনিবার ভোরে রাজ্যের শান্তিপুর এলাকা থেকে ফিলিপকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি। আনন্দবাজার বলছে, গতকালই তাকে আদালতে হাজির করে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

এর আগে গত শনিবার রাতে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগণা জেলার বনগাঁ থেকে ফয়সাল ও আলমগীরকে গ্রেপ্তার করে এসটিএফ। পরদিন আদালতের নির্দেশে তাদেরকে ১৪ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। এর এক সপ্তাহের মাথায় বনগাঁয়েরই নিকটবর্তী এলাকা শান্তিপুর থেকে ফিলিপকে গ্রেপ্তারের তথ্য দিল এসটিএফ।

হাদি হত্যায় তদন্তে নেমে বাংলাদেশের পুলিশ এর আগে ফয়সালদের পালাতে সহায়তার অভিযোগে গ্রেপ্তার সিবিউন দিউ ও সঞ্জয় চিসিমের জিজ্ঞাসাবাদের সময় এই ফিলিপ সাংমার কথা বলেছিলেন। তখন তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ বলেছিল, এই ব্যক্তি সন্দেহভাজন জড়িতদের পালাতে সহায়তা করেছিল।

এসটিএফের বরাতে আনন্দবাজার লিখেছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের তরফে তদন্ত সংশ্লিষ্টারা বলেছেন- ফয়সাল ও ফয়সালদের পালাতে সহায়তাকারী গ্রেপ্তার আলমগীর এই ‘দালাল ফিলিপের সহায়তায়’ সীমান্ত পার হয়েছিল। ‘এই দালাল’ বাংলাদেশের হালুয়াঘাটে থাকতেন। হাদি হত্যার নাম সামনে আসার পরই ফয়সাল ও আলমগীর যোগাযোগ করেন ফিলিপের সঙ্গে এবং তার সাহায্যেই অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতের মেঘালয়ে ঢুকে পড়েন।

ফিলিপকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সেখানকার পুলিশের বরাতে আনন্দবাজার আরও লিখেছে, তিনি ‘টাকার বিনিময়ে’ বাংলাদেশের হালুয়াঘাট সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে মানুষ পারাপার করার কথা স্বীকার করেছেন। একইভাবে ফয়সাল ও আলমগীর তার সাহায্যে বাংলাদেশ ছেড়েছিলেন।

আনন্দবাজারের প্রতিবেদনের বলা হয়েছে, হাদি হত্যার পর সন্দেহভাজনদের ধরতে পুলিশের তোড়জোড়ের মধ্যে ফিলিপও হালুয়াঘাট সীমান্ত দিয়ে ভারতে চলে যান। সেখানে গিয়ে দেশটির বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে নিজের অবস্থান পাল্টেছেন ফিলিপ।

বাংলাদেশে আদালতের নির্দেশনার পর বর্তমানে হাদি হত্যা মামলার তদন্ত করছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তবে এ ইউনিটের তরফে ফিলিপের গ্রেপ্তারের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত