শারীরিক অসুস্থতা আর রোগব্যাধির কাছে হার মেনে পৃথিবীর যাত্রা শেষ করলেন শামিমা সাত্তার মিমু। গত শুক্রবার রাত ১১টায় ঢাকার নিজ বাসভবনে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এক সময়ের এই কৃতী অ্যাথলেট। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৬ বছর।
শামিমা সাত্তার মিমু একাধারে সফল অ্যাথলেট, দক্ষ প্রশিক্ষক, আন্তর্জাতিক বিচারক এবং ক্রীড়া প্রশাসক ছিলেন। দীর্ঘদিন বাংলাদেশ অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। এছাড়া বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিকেএসপি’র উপপরিচালক (প্রশিক্ষণ) হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন শামিমা সাত্তার। ২০০০ সালে অ্যাথলেটিকসে অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার পান তিনি। বাংলাদেশ স্পোর্টস প্রেস অ্যাসোসিয়েশনও (বিএসপিএ) তাকে সেরা অ্যাথলেটের পুরস্কার দিয়েছে। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শামিমা সাত্তার মিমু দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ ও ভার্টিগো সমস্যায় ভুগছিলেন। কয়েক মাস আগে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে হাঁটাচলা ও মানুষ চিনতে সমস্যা দেখা দিয়েছিল। পরে কিছুটা সুস্থ হয়ে তিনি আবারও ক্রীড়াঙ্গনে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছিলেন, কিন্তু সেই প্রত্যাবর্তন আর দীর্ঘ হলো না। শামিমা সাত্তার মিমু ছিলেন স্বাধীনতা-উত্তরকালে বাংলাদেশের অ্যাথলেটিকসে এক উজ্জ্বল নাম। জাতীয় অ্যাথলেটিকসে হাই জাম্প ইভেন্টে দীর্ঘদিন আধিপত্য বজায় রেখেছিলেন। এ ছাড়া স্প্রিন্টেও একাধিক পদক জিতেছেন। ক্রীড়াক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০০ সালে তিনি জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার পান।
তার মৃত্যুতে বিকেএসপি, বিসিবি, অ্যাথলেটিকস ফেডারেশন, বিএসপিএ, বাফুফে, কাবাডি ফেডারেশন, আর্চারি ফেডারেশনসহ বিভিন্ন ক্রীড়া সংগঠন ও বিশিষ্ট ক্রীড়া ব্যক্তিত্বরা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।