মাটি কাটাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে নিহত ১

আপডেট : ১৫ মার্চ ২০২৬, ০৩:৪৭ পিএম

ফেনীর ছাগলনাইয়ায় কৃষিজমির মাটি কাটা নিয়ে বিরোধে আবু আহমেদ (৩৭) ওরফে হোনা মিয়া নামে এক শ্রমিক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও দুইজন। 

শনিবার (১৪ মার্চ) রাত ২টার দিকে উপজেলার পাঠাননগর ইউনিয়নের কনট্রাক্টর মসজিদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। উত্তেজিত লোকজন হামলায় জড়িত সন্দেহে ছাত্রদল কর্মীসহ ৭ জনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে। 

নিহত আবু আহমেদ পূর্ব পাঠাননগর গ্রামের আবুল কাসেমের ছেলে।

আহতরা হলেন- একই গ্রামের জয়নাল আবেদিনের ছেলে আলাউদ্দিন সুজন (৩০) এবং নিহতের বড় ভাই নুরুল আলম কালা (৪০)। গুরুতর আহত অবস্থায় সুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। নুরুল আলম কালা ফেনী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

আহত আলাউদ্দিন ররিবার (১৫ মার্চ) সকালে জানান, তিনি পাঠাননগর ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য। আবু আহমেদ তার সম্পর্কে চাচাতো ভাই। তিনি মাটি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত এবং শ্রমিকের কাজ করতেন। পাঠাননগর ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য নুর আহমদ মিয়া পাঠাননগরে এক ব্যক্তির কাছ থেকে মাটি কেনেন।  

শনিবার রাত ২টার দিকে জমি থেকে মাটি কেটে পিকআপ ভ্যান দিয়ে অন্যত্র বিক্রি করছিলেন। কনট্রাক্টর মসজিদ এলাকায় গাড়ির টোকেনম্যানের দায়িত্বে ছিলেন আবু আহমেদ। এ সময় কামরুল হাসান জাহিদ তার কয়েকজন সহযোগী নিয়ে কনট্রাক্টর মসজিদ এলাকায় আসেন। তিনি মাটি কাটায় বাধা দিয়ে দুটি পিকআপভ্যান আটক করে ফেসবুকে লাইভ করেন। এ সময় আবু আহমেদ মোবাইল কেড়ে নিয়ে তার সঙ্গে তর্কে জড়ান।

আলাউদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, তিনি আবু আহমেদের থেকে কিছু দূরে ছিলেন। ছাগলনাইয়া থেকে আসা ১০ থেকে ১২ জন মিলে তর্কাতর্কির একপর্যায়ে আবু আহমেদকে লাথি আর কিল-ঘুসি মারতে থাকেন। এ সময় তাকে বাঁচাতে গিয়ে তিনিও মারধরের শিকার হন। পরে তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন জাহিদসহ সাতজনকে আটক করে পুলিশে খবর দেয়। আর হতাহতদের হাসপাতালে পাঠান স্থানীয়রা।

ফেনী সদর হাসপাতালের চিকিৎসক জানান, হাসপাতালে আনার আগেই মারা যান আবু আহমেদ। লাশ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

ছাগলনাইয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মিয়া জানান, খবর পেয়ে ফোর্স নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে যান তিনি। পুলিশ যাওয়ার আগেই হতাহতদের ফেনী সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। স্থানীয়দের সহায়তায় আটকদের নেওয়া হয় থানায়।

তিনি জানান, মাটি কাটাকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। তবে আরও বিস্তারিত জানা যাবে তদন্তে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানান তিনি। 

ছাগলনাইয়া উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক কাজী জসিম উদ্দিন বলেন, অবৈধ মাটি কাটার সঙ্গে জড়িত কেউ যুবদলের না। তারা ভুয়া পরিচয় দিয়েছেন। অপরাধীর পরিচয় অপরাধী। অপরাধ করলে সাজা পেতেই হবে। সে যেই হোক। দলের পরিচয় দিয়ে পার পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আমি এ হত্যাকাণ্ডের তদন্ত সাপেক্ষে সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে ছাগলনাইয়া উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ফসলি জমির মাটি কাটার এক ‘মহোৎসব’ শুরু হয়। এই মাটির ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ ও লভ্যাংশের ভাগাভাগি নিয়ে স্থানীয় প্রভাবশালী ও দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধের জের ধরেই শনিবার রাতে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে লিপ্ত হয়, যার ফলে হোনা মিয়া প্রাণ হারান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত