ব্রাজিলের সিরি আ-তে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী করিন্থিয়ানসের বিপক্ষে হারতে বসা ম্যাচে ড্র নিয়ে মাঠ ছেড়েছে সান্তোস। ভিলা বেলমিরোতে রবিবার রাতের এই হাইভোল্টেজ ড্রার্বি ১-১ গোলে ড্র হয়েছে। ম্যাচে দীর্ঘ ইনজুরি কাটিয়ে ফেরা নেইমারের পারফরম্যান্স নিয়ে কাটাছেঁড়া চললেও, শেষ মুহূর্তে গোল করে সান্তোসকে রক্ষা করেছেন গাবিগোল।
ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চললেও লিড পায় করিন্থিয়ানস। মেম্ফিস ডিপাইয়ের দুর্দান্ত এক গোলে অসহায় হয়ে পড়েন সান্তোস গোলরক্ষক গ্যাব্রিয়েল ব্রাজাও। পিছিয়ে পড়া সান্তোস ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিতে মরিয়া হয়ে উঠলেও উল্টো বিপদে পড়ে লুয়ান পেরেসের লাল কার্ডে। মাত্র দুই মিনিটের ব্যবধানে দুটি হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন তিনি, যা সান্তোসকে ৯ জনের দলে পরিণত করার উপক্রম করেছিল। রনি একাই পুরো মাঠ চষে বেড়িয়েছেন দলের ঘাটতি মেটাতে।
ব্রাজিলীয় সুপারস্টার নেইমারের জন্য এই ম্যাচটি ছিল বিশ্বকাপের আগে নিজেকে প্রমাণের এক বড় পরীক্ষা। যদিও সমতাসূচক গোলটি তৈরিতে তিনি ভূমিকা রেখেছিলেন, তবে পুরো ম্যাচে তার ছন্দে কিছুটা জড়তা লক্ষ্য করা গেছে। ডায়েরিও দো পেইক্স-এর মতে, নেইমার অনেকটা জোর করেই নিজেকে ফিট প্রমাণের চেষ্টা করছিলেন, যা অনেক ক্ষেত্রে সফল হয়নি।
পুরো ম্যাচে মাত্র ৩টি শট নিতে পেরেছেন তিনি, যার মধ্যে দুটি ফ্রি-কিকই ছিল লক্ষ্যভ্রষ্ট। এমনকি ২৯টি পাসের মধ্যে ৯টিই ছিল ভুল পাস। পরিসংখ্যান বলছে, ব্যক্তিগত নৈপুণ্য দেখাতে গিয়ে বেশ কিছু ভালো আক্রমণ নষ্ট করেছেন এই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার। বিপক্ষ দলের কড়া মার্কিংয়ে তাকে তিনবার ফাউল করা হলেও, বল দখলে রাখতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে তাকে।
পয়েন্ট ভাগাভাগি করার পর মেজাজ হারিয়েছেন নেইমার। ঘরের মাঠ ‘ভিলা বেলমিরো’র পিচ এবং পানি নিষ্কাশন সব্যবস্থার বেহাল দশা নিয়ে সরাসরি ক্লাবের কর্মকর্তাদের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন তিনি,'আমাদের ভালো খেলার সামর্থ্য ছিল। কিন্তু মাঠের অবস্থা কেমন হবে সেটা খেলোয়াড়দের নিয়ন্ত্রণে থাকে না; এটা ডিরেক্টর এবং ম্যানেজমেন্টের বিষয়। ডার্বির মতো দিনে আপনি পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা নষ্ট হতে দিতে পারেন না, যা খেলাকে ধীরগতির এবং আমাদের জন্য খারাপ করে তোলে। এটা আমাদের খারাপ খেলার অজিুহাত নয়, কিন্তু এটি ফুটবলের সৌন্দর্য অবশ্যই নষ্ট করে। তবে দুইজন খেলোয়াড় কম নিয়ে এই ড্র খুব একটা খারাপ ফল নয়।”
কার্লো আনচেলত্তির অধীনে ক্রোয়েশিয়া ও ফ্রান্সের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচের স্কোয়াড ঘোষণার আগে এটিই ছিল নেইমারের শেষ ম্যাচ। আনচেলত্তি মাঠে না থাকলেও তার সহকারী মিনো ফুলকো এবং গোলকিপিং কোচ ক্লদিও টাফারেল গ্যালারিতে উপস্থিত ছিলেন। জাতীয় দলে ফেরা প্রসঙ্গে নেইমার বলেন, “আমি সেই লক্ষ্যেই কাজ করছি। আমার ইচ্ছা জাতীয় দলে ফিরে বিশ্বকাপ খেলা। তবে সেটা কোচিং স্টাফদের সিদ্ধান্তের বিষয়। আমি দলে থাকি বা না থাকি, সবসময় সেলেসাওদের জন্য শুভকামনা থাকবে।”
