গাজীপুরের শ্রীপুরে সড়কের পাশে পড়েছিল প্রায় বিলুপ্ত বনবিড়ালের একটি মরদেহ। ধারনা করা হচ্ছে রাতের বেলায় সড়ক পার হতে গিয়ে অজ্ঞাত কোনো যানবাহনের চাপায় বনবিড়ালের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) রাতে মাওনা ইউনিয়নের বারোতোপা পিরুজআলী আঞ্চলিক সড়কে ভেরামতলি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। সকালে লোকজন কাজে বের হলে সড়কের পাশে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে বনবিড়ালের মরদেহটি।
খবর পেয়ে সকালে বন বিভাগের লোকজন মৃত দেহ উদ্ধারে ঘটনাস্থলে গেলেও পাননি বলে তাদের দাবি। তারা মরদেহ উদ্ধারের চেষ্টা করছেন। তারা আরও দাবি করে বলেন বনের ভিতর দিয়ে রাস্তা থাকলে এমন দুর্ঘটনা প্রায় সময়ই ঘটবে। তাতে এসব মূল্যবান প্রাণী প্রাণ হারাবে। এটা আমাদের প্রকৃতির অপূরণীয় ক্ষতি।
স্থানীয়রা জানান, সকালে লোকজন নিজ নিজ কাজে বের হলে ভেরামতলি এলাকায় মাছের খামারের পাশের সড়কে মৃত অবস্থায় এ বনবিড়ালটি পড়ে ছিল। পরে এলাকাবাসী এটি দেখতে ভির করেন। তারা বলেন, রাতে এ সড়কে চলাচলকারী কোনো একটি যানবাহনে চাপা পড়েই এটি মারা গেছে। বনবিড়ালটি বেশ বড় আকারের ছিল। দেখতেও বেশ চমৎকার রঙ। মেছো বাঘের মত লাগে। গায়ে চিতা বাঘের মত ছোপ ছোপ দাগ। তারা আরও বলেন, মাঝে মধ্যেই রাতের বেলায় এসব বনবিড়াল আশপাশের বাড়িঘর থেকে হাঁস মুরগী ধরে নিয়ে যায়।
বারোতোপা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক জয়নাল আবেদীন বলেন, সকালে রাস্তার পাশে পড়েছিল বনবিড়ালটি। ভেরামতলী সরকারি প্রাথমিক বিদালয়ের একটু সামনেই এ দুর্ঘটনাটি ঘটে। তবে বনবিড়ালের শরীরে তেমন আঘাতের চিহ্ন চোখে পড়েনি। পাশের মাছের খামারে মাছ খেতে আসছিল বনবিড়ালটি। প্রায় সময় চোখে পড়ে মাছের খামারের পাড়ে এদের আনাগুনা। ধারনা করা হচ্ছে সড়ক পার হওয়ার সময় চলন্ত হোন্ডা চাপায় মাথায় আঘাত লেগে বনবিড়ালটির মৃত্যু হয়েছে।
স্থানীয় সমাজ কর্মী সাঈদ চৌধুরী জানান- সংরক্ষিত বনে আগুন দেওয়া আর খাদ্য সংকটে বনবিড়ালসহ বিভিন্ন প্রাণী লোকালয়ে চলে আসে। বনে বাস করা অন্য প্রাণীরাও রয়েছে চরম ঝুঁকিতে। ফলে দুর্ঘটনা কিংবা মানুষের হাতে পিটুনিতে মারা পড়ে এরা। তিনি বলেন ফাল্গুন চৈত্র মাসে বনের ভিতরে পানির কোনো উৎস না থাকায় অনেক সময় পানি খেতে চলে আসে আশপাশের জলাধারে না হয় মানুষের বাড়িতে। ফলে দুর্ঘটনায় পড়ে মারা পড়ে।
শ্রীপুর উপজেলা বন কর্মকর্তা (রেঞ্জার) মোখলেছুর রহমান রানা জানান খবর পেয়ে সকালেই আমাদের বিট কর্মকর্তাকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছিল। তবে সেখানে গিয়ে মৃত বনবিড়ালের মরদেহটি খুঁজে পাননি। ধারনা করা হচ্ছে মানুষ মরদেহটি মাটিতে পুতে রেখে দিয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি মৃত বনবিড়ালের মরদেহটি উদ্ধার করতে। তিনি বলেন বনের ভিতর যত্রতত্র রাস্তা হলে এসব বন্য প্রাণী মৃত্যু ঝুঁকিতে পড়ে। তাই বনের ভিতরে কোনো রাস্তা করার সময় আরও দায়িত্বশীল হতে হবে।
চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠক বৃহস্পতিবার
৭ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করবে ত্রাণ মন্ত্রণালয়: আসাদুল হাবিব দুলু