গাইবান্ধায় ১ টাকার বাজার

আপডেট : ১৯ মার্চ ২০২৬, ০৭:৫১ এএম

গাইবান্ধায় পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ‘আমাদের গাইবান্ধা’ শিক্ষার্থীদের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের পক্ষ থেকে ২৫০ জন দুস্থ, অসহায় ও দরিদ্র, প্রতিবন্ধী মানুষের মাঝে ১ টাকায় ঈদের বাজার বিতরণ করা হয়েছে। বাজারে ১৮ প্রকার পণ্যসামগ্রী ছিল।

গতকাল বুধবার বিকেলে গাইবান্ধা শহরের স্বাধীনতার রজতজয়ন্তী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বসেছিল এই ‘১ টাকা বাজার’। মাত্র ১ টাকা দিয়ে এ বাজারে পাওয়া গেছে মুরগি, চাল-ডালসহ ১৮ প্রকার পণ্য। এগুলো হচ্ছে একটি মুরগি, দুই কেজি চাল, এক কেজি ডাল, এক লিটার সোয়াবিন তেল, এক প্যাকেট সেমাই, এক প্যাকেট লাচ্চা, এক কেজি চিনি, এক কেজি করে পেঁয়াজ, আলু, মরিচ ও মিষ্টি কুমড়া, দুধ, লেবু ও মসলা।

বাজারে গাইবান্ধা সদর উপজেলার রাধাকৃষ্ণপুর গ্রামের শারীরিক প্রতিবন্ধী আছিয়া বেগম (৫৭)। তিনি ১ টাকা দিয়ে মুরগি চাল-ডালসহ ১৮ প্রকার খাদ্যসামগ্রী পেয়ে বললেন, ‘এব্যারক্যা ইদোত কাউয়ো কিচু দ্যায় নাই। ইদেরদিন ছোলগুলেক গোসতো দিয়া ভাত, স্যামাই খিলব্যার নিয়া চিনতাত আচিনো। তোমরা ঘরে চিনতা দুর করেল্যান বাবা। এক ট্যাকায় মুরগি চাউল ডাউলসহ আঠারো পদের জিনিস পানো বাবা।’

একই বাজারে আসা গাইবান্ধা সদর উপজেলার ফুলবন্দী গ্রামের রহিমা খাতুন (৬০) বলেন, ‘একন ১ ট্যাকা কাউয়ো ভিক্ষে ন্যায় না। আর হামরা ১ ট্যাকা দিয়া ম্যালা কিচু পানো। ইদের দিন নাতি পুতিগুলেক নিয়া পেটভরে খাবার পামো।’

গাইবান্ধা শহরের পলাশপাড়ার বাসিন্দা দিনমজুর হেসকার আলী (৬২) বললেন, ‘ছাত্ররা নিজের ট্যাকা দিয়া হামারঘরোক এতো খরোচ করি দিলো, আল্লায় তামারঘরে ভালো করুক। হামরা গতোব্যার পাচি, এব্যারক্যা পানো।’

বিকেল সাড়ে ৪টায় এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন গাইবান্ধার কবি সাহিত্যিক অমিতাভ দাশ। জেলার কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের অন্যতম স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘আমাদের গাইবান্ধা’ ষষ্ঠবারের মতো এ কর্মসূচির আয়োজন করে। এ বাজারে গাইবান্ধা শহর ও আশপাশের ২৫০ জন দরিদ্র নারী-পুরুষ ১ টাকা এসব জিনিসপত্র কিনতে পান।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আমাদের গাইবান্ধার সভাপতি সায়হাম রহমান। বক্তব্য দেন আমাদের গাইবান্ধার উপদেষ্টা ও গাইবান্ধার বেসরকারি সংগঠন ছিন্নমূল মহিলা সংস্থার নির্বাহী প্রধান মুরশিদুর রহমান খান, কলেজশিক্ষক কেএম মুত্তুজা বানু, প্রথম আলোর প্রতিনিধি শাহাবুল শাহীন, আমাদের গাইবান্ধার সাধারণ সম্পাদক চিকিৎসক মো. মুসাভিভর রহমান খান, সদস্য কাজী রওনক প্রমুখ।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন আমাদের গাইবান্ধার সাংগঠনিক সম্পাদক ফাহিম শাহরিয়ার, কাজী মুহাতামিমুল ইব্রাহিম ও আল-আহাদ প্রমুখ।

জানতে চাইলে আমাদের গাইবান্ধার সাধারণ সম্পাদক মুসাভিভর রহমান খান বলেন, ‘আমরা সম্পন্ন জিনিসপত্র বিনা টাকায় দিলে অনেকটা দান করার মতো দেখায়। এতে মানুষের মধ্যে চাওয়ার প্রবণতা বাড়ে। তাই ১ টাকা হলেও যেন তারা টাকা দিয়ে কিনেছে বলে বলতে পারেন। এ ভাবনা থেকে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে এই আয়োজন করা হয়েছে।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত