পাবনায় বিএনপির দু’গ্রুপের সংঘর্ষ, গৃহবধূ নিহত

আপডেট : ২৩ মার্চ ২০২৬, ০৩:১৮ পিএম

পাবনা জেলার সুজানগরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিএনপি সমর্থিত দু’গ্রুপের সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় গুলিতে চায়না খাতুন (৪০) নামে এক গৃহবধূ নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন।

সোমবার (২৩ মার্চ) সকাল ৮টার দিকে সুজানগর উপজেলার মানিকহাট ইউনিয়নের ভিটবিলা পশ্চিমপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত গৃহবধূ ওই গ্রামের শুকুর আলীর স্ত্রী। সুজানগর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার সাদিক আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, এলাকার আধিপত্য বিস্তার নিয়ে স্থানীয় বিএনপি সমর্থিত দু’গ্রুপের বিরোধ চলছিল। রবিবার দিবাগত রাতে দু’গ্রুপের ছেলেদের মধ্যে মারামারি হয়। এ নিয়ে গত রাত থেকেই তাদের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল।

সোমবার সকালে ইসলাম প্রামাণিক গ্রুপের লোকজন লাঠিসোটা নিয়ে এলাকায় জড়ো হচ্ছিল। এমন সময় রাজা গ্রুপের লোকজন লাঠি সোটা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাদের ওপরে হামলা চালিয়ে গুলিবর্ষণ ও বাড়ি ভাঙচুর করে। গুলিতে গৃহবধূ চায়না খাতুন ঘটনাস্থলেই মারা যান। 
এ ছাড়া গুরুতর আহত ১০ জনকে সুজানগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে মানিকহাট ইউনিয়নের ভিটবিলা গ্রামের ইসলাম প্রামাণিক বলেন, আমার ভাগ্নে ফরহাদ আওয়ামী লীগের সমর্থক ছিল। এজন্য রবিবার রাতে ভিটবিলা বাজারে তাকে মারধর করেন রাজা গ্রুপের লোকজন। আমি খবর পেয়ে তখনি সেখানে গিয়ে ঘটনা শুনে তাদের এ বিষয়ে মারামারি না করার অনুরোধ করি। কিন্তু তারা উল্টো আমার ওপরও হামলা করে মারধর করেন। খবর পেয়ে আমার গ্রামের লোকজন জড়ো হয়ে সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নেন মুরুব্বিদের সঙ্গে বসে আলোচনা করে এ বিষয়ে সমঝোতা করা হবে।

তিনি আরও বলেন, সকালে আমরা বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় রাজার গ্রুপের লোকজন লাঠিসোটা অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত আমাদের গ্রামের লোকজনের ওপরে গুলি ও হামলা চালায়। এতে গুলিতে স্পটে মারা গেছেন চায়না খাতুন। আরও ৮-১০ জন আহত হন। তাদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

হাটখালী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রাফিউল ইসলাম রাজা বলেন, ঘটনার বিষয়ে আমি কিছু জানি না। ঘটনার সময় আমি স্পটেও ছিলাম না। আমার এক আত্মীয়ের বিয়ের দাওয়াত খেতে আসছি। এখানে আমার নাম জড়ানোটা ষড়যন্ত্রমূলক। গুলিবর্ষণ হয়েছে কিনা বা গুলিতে চায়না খাতুন মারা গেছেন কিনা আমি জানি না। আমি শুনেছি চায়না খাতুন স্ট্রোক করে মারা গেছেন। আপনারা ভালো করে তদন্ত করে দেখেন আমি সেখানে ছিলাম কিনা, আমার নেতৃত্বে হামলা হয়েছে কিনা। আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

সুজানগর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার সাদিক আহমেদ জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনাস্থল থেকে চায়নার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে। কি বিষয় নিয়ে হামলার ঘটনা সে বিষয়ে তদন্ত চলছে। পরে বিস্তারিত জানানো যাবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত