ভৈরবে প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত উবার চালক ইমন 

আপডেট : ২৪ মার্চ ২০২৬, ১১:৪৯ এএম

কিশোরগঞ্জের ​ভৈরবে পূর্বশত্রুতার জেরে প্রতিপক্ষের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ইমন খান (১৯) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। সোমবার (২৩ মার্চ) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার আগানগর ইউনিয়নের লুন্দিয়া গ্রামে এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড ঘটে।

নিহত ইমন খান লুন্দিয়া গ্রামের পাগলা বাড়ির ঈসা মিয়ার ছেলে। তিনি এলাকায় ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাতে ইমন তার বাবার মোবাইল ফোনের জন্য মিনিট কার্ড কিনতে বাড়ি থেকে বের হন। যাওয়ার পথে আগে থেকে ওত পেতে থাকা প্রতিপক্ষ শেখ বাড়ির একদল যুবক তার পথরোধ করে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে ইমানকে এলোপাথাড়ি আঘাত করে আহত করে ফেলে চলে যায়। পরে পরিবারের সদস্যরা খবর পেয়ে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।

স্থানীয়রা আরও জানায়, আগানগর ইউনিয়নের ‘পাগলা বাড়ি’ ও ‘শেখ বাড়ির’ মধ্যে গত ৭-৮ বছর ধরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলছিল। পাগলা বাড়ির পক্ষে নেতৃত্ব দিচ্ছেন আব্দুল মজিদ বড় মিয়া ও শহিদ মিয়া এবং শেখ বাড়ির পক্ষে রয়েছেন মাইনু শেখ ও আক্কাছ শেখ। এর আগেও দুই পক্ষের মধ্যে ৪-৫ বার বড় ধরনের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সেই পুরনো শত্রুতার জেরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে ইমনের বাবা ইছা মিয়া বলেন, ছেলে ভাত খেতে চাইছিল। আমি বলছি মিনিট কার্ড এনে ভাত খেতে। আমি আমার ছেলেকে মিনিট আনতে বাজারে পাঠিয়েছিলাম। পূর্ব শত্রুতার কারণে শেখ বাড়ির ১৫ থেকে ২০ জন মিলে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে হত্যা করেছে। আমি এর বিচার চাই। এর আগেও অনেকবার আমাদের ভাই ভাতিজাদের শেখ বাড়ির লোকজন মারধর করে হত্যার চেষ্টা করে আহত করেছে।

শেখ বাড়ির মজনু শেখ ও গোলাপ শেখ গংদের অভিযুক্ত করে নিহতের চাচা হাজি আব্দুস সাদেক বলেন, আমার ভাতিজাকে মজনু ও গোলাপ গংদের নেতৃত্বে হত্যা করা হয়েছে। আমি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বিচারের দাবি জানাই।

ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক উম্মে হাবিবা জুঁই জানান, ইমন খানের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে আমরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করি। কিন্তু পরিবারের সদস্যরা অ্যাম্বুলেন্স যোগে তাকে ঢাকায় নেওয়ার প্রস্তুতি সম্পন্ন করার আগেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

ভৈরব থানা পুলিশ পরিদর্শক রাকিব বিন ইসলাম জানান, ​খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতাল থেকে নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত