দীর্ঘ ৪ বছর পর ‘সিগনেচার কালার’ মঞ্চে ফিরল বিটিএস

আপডেট : ২৪ মার্চ ২০২৬, ১০:১৪ এএম

দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে ‘গিয়াংঘোয়ামুন স্কয়ার’ ‘সিগনেচার কালার’  বেগুনি রঙের বিশাল উন্মুক্ত মঞ্চে দর্শক মাতালেন বিশ্বখ্যাত পপ ব্যান্ড বিটিএস। গত ২১ মার্চ অনুষ্ঠিত এ কনসার্টের সময় উঁচু ভবনে ডিজিটাল পর্দা, রাস্তার ধারের বিলবোর্ড, এমনকি সেভেন-ইলেভেন স্টোরের ব্যানারেও লেখা ছিল ‘ওয়েলকাম ব্যাক বিটিএস’। খবর বিবিসি

বিটিএসের সাত সদস্য আরএম, জিন, সুগা, জে-হোপ, জিমিন, ভি ও জংকুক মঞ্চে উঠার অনেক আগে থেকে সিউলের অলিগলি ‘আর্মি’রা (বিটিএস ভক্ত) ভিড় করে।

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসা  বিটিএস ভক্ত ভেরোনিকা ও আমান্ডা জানান, এই তিন বছর তাদের জন্য ছিল এক দীর্ঘ লড়াই।

আমান্ডা বলেন, বিটিএস আমাদের কাছে শুধু একটি ব্যান্ড নয়, আমাদের জীবনের অংশ।

সূর্য যখন মিলিয়ে যাচ্ছিল, তখন হাজার হাজার ভক্তের চিৎকারে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে গিয়াংঘোয়ামুন স্কয়ার। হঠাৎ সব শব্দ ছাপিয়ে বেজে ওঠে ঐতিহাসিক ‘ডিভাইন বেল’। বিটিএসের নতুন অ্যালবাম ‘আরিরং’-এর ‘নাম্বার ২৯’ ট্র্যাক দিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠান। ব্যান্ডের লিডার আরএম কোরিয়ান ভাষায় ভক্তদের অভিনন্দন জানিয়ে ইংরেজিতে ঘোষণা করেন ‘উই আর ব্যাক’।

বিজয় তোরণের মতো সাজানো মঞ্চে উঠে অ্যালবামের প্রথম পূর্ণাঙ্গ গান ‘বডি টু বডি’ গাওয়া শুরু করেন বিটিএস সদস্যরা।  নতুন গানের পাশাপাশি ‘বাটার’, ‘ডাইনামাইট’ ও ‘মিক্রোকোসমস’এর মতো হিট গান যখন বাজছিল, তখন হাজার হাজার লাইট-স্টিকের আলোয় পুরো চত্বর যেন জীবন্ত এক নক্ষত্র।

বিটিএসের এই আয়োজন কেবল একটি কনসার্ট ছিল না, ছিল দক্ষিণ কোরিয়ার ‘সফট পাওয়ার’ বা সাংস্কৃতিক শক্তির প্রদর্শনী।

সিউলের ঐতিহাসিক স্থানে এমন আয়োজন সম্পর্কে সুগা বলেন, 'আমাদের পরিচয় বিশ্ব দরবারে তুলে ধরতেই গিয়াংঘোয়ামুন বেছে নিয়েছি।

ছবি: সংগৃহীত

তবে এই বিশাল আয়োজন ঘিরে কিছু সমালোচনারও সৃষ্টি হয়েছে। শহরের কেন্দ্রস্থল স্থবির করে দেওয়া, কয়েক হাজার পুলিশ ও দমকল কর্মী মোতায়েন এবং বিপুল সরকারি সম্পদ ব্যবহারের যৌক্তিকতা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। বিশেষ করে অনুষ্ঠানটি যখন কেবল নেটফ্লিক্সে লাইভ স্ট্রিম হচ্ছিল, তখন জনসাধারণের জায়গা এভাবে ব্যবহারের অনুমতি নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন সংগীত সমালোচক জং মিন-জে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ভবিষ্যতে অন্য কোনো শিল্পী এমন সুযোগ চাইলে সরকার কী মানদণ্ডে তা বিচার করবে?

তবে ধারণা করা হয়েছিল ‘গিয়াংঘোয়ামুন স্কয়ারের’ অনুষ্ঠানে আড়াই লাখ মানুষ আসবে। কিন্তু বাস্তবে উপস্থিতি ছিল কয়েক হাজার। তবে সংখ্যার চেয়ে বড় ছিল তাদের উন্মাদনা। পাহাড়বেষ্টিত সিউলে বিটিএসের এই পারফরম্যান্স দক্ষিণ কোরিয়ার ব্যান্ডের ইমেজ আবার বিশ্ব দরবারে তুলে ধরল।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত