খারগ দ্বীপ নিয়ে প্রতিবেশী দেশকে কড়া হুঁশিয়ারি ইরানের!

আপডেট : ২৬ মার্চ ২০২৬, ০২:১০ পিএম

ইরানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোর অবস্থান পারস্য উপসাগরের খারগ দ্বীপে। গোয়েন্দা তথ্য ইঙ্গিত দিচ্ছে, সেই দ্বীপটিই নাকি দেশটির ‘শত্রুরা’ দখলে নেওয়ার ষড়যন্ত্র করছে। তেহরানের অভিযোগ, এতে সহযোগিতা করছে উপসাগরীয় একটি দেশ। যা দেশটিকে ক্ষুব্ধ করে তুলেছে।

এর পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, এ ধরনের প্রচেষ্টা হলেই এ অঞ্চলের সংশ্লিষ্ট দেশটির ‘গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো’র ওপর লক্ষ্যভিত্তিক হামলা চালানো হবে।

ইরানের অন্যতম এই শীর্ষ কর্মকর্তা যদিও খারগ দ্বীপ দখলের ষড়যন্ত্রে যুক্ত উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশটির নাম জানায়নি।

গালিবাফ সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে লিখেছেন, ইরান চোখ কান খোলা রেখে শত্রুদের নড়াচড়া নজরদারি করছে। তিনি আরও লিখেছেন, যদি তারা কোনো ধরনের পদক্ষেপ নেয় তাহলে আমরা এ অঞ্চলের ওই দেশটির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে টানা হামলা চালাব।

গালিবাফের সতর্কবার্তা এমন সময় এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করে যাচ্ছেন যে যুদ্ধ শেষ করতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে আলোচনায় রয়েছে। যদিও তেহরান তা অস্বীকার করেছে।

এদিকে ইরানের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে নতুন হুমকিও দিয়েছে হোয়াইট হাউস। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বুধবার বলেছেন, ইরানকে পরাজয় মেনে নিতে হবে।

তিনি আরও বলেছেন, যদি ইরান বর্তমান পরিস্থিতির বাস্তবতা মেনে নিতে ব্যর্থ হয়, যদি তারা বুঝতে না পারে যে তারা সামরিকভাবে পরাজিত হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও হবে, তাহলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিশ্চিত করবেন যে তাদের ওপর আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে আরও কঠোরভাবে আঘাত হানা হবে।

‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ধাপ্পাবাজি করেন না, এবং তিনি কঠোর পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত’, যোগ করেন তিনি।

ওয়াশিংটন একদিকে শান্তি আলোচনার দাবি করছে, অন্যদিকে ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর যুদ্ধের হুমকি দিচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে পেন্টাগন উপসাগরীয় অঞ্চলে হাজার হাজার সেনা পাঠাচ্ছেন, যা ইতোমধ্যে রওনা হওয়া দুইটি মার্কিন মেরিন দলের সঙ্গে যোগ দেবে।

মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের প্রায় ২,০০০ সৈন্যকে ওই অঞ্চলে মোতায়েনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, দুটি মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিটের মধ্যে প্রথমটি-একটি বিশাল উভচর এসাল্ট জাহাজে করে-আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই ওই অঞ্চলে পৌঁছাতে পারে বলে জানা গেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত