কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার আমবাড়িয়া গ্রামের কুদ্দুস খাঁ’র ছেলে টেক্সটাইল মিলের শ্রমিক খাইরুল খাঁ নিমজ্জিত বাস থেকে বেঁচে ফেরা সৌহার্দ্য পরিবহনের বি-২ সীটের যাত্রী ছিলেন।
খাইরুল জানায়, ‘বাসটির চালক নিজেই চালাচ্ছিলেন। এ সময় চালকের সহকারী ও সুপারভাইজার বাইরে থাকায় তারা প্রাণে বাঁচলেও বাসচালক আরমান খানের লাশ উদ্ধার করেছে উদ্ধারকারীরা। আমার পাশের বি-১ সীটে বসা ছিলেন সাদা রংয়ের টি শার্ট পরা এক যুবক। খোকসা স্ট্যান্ড কাউন্টার থেকে তিনি উঠেছিলেন। বাসটি ফেরিঘাটে পৌঁছানোর পর ওই যুবক নেমেছিলেন আবার কয়েক মিনিট পর যুবকটি তার সিটে ফিরে আসলে তাকে বসতে দেয়ার জন্য আমি সীট থেকে উঠে দাঁড়ায় ঠিক ওই সময়ই বাসটি ফেরিতে ওঠতে গিয়ে হঠাৎ প্রচণ্ড এক ঝাঁকুনি লাগে। এ সময় বাসের দরজা দিয়ে ছিটকে বাইরে নদীর পানিতে পড়ে যায়। ওই সময় আমি ছাড়াও আরও বেশ কয়েকজন যাত্রী এবং কিছু ব্যাগ পানিতে ভাসতে দেখি। নদীর পানিতে ভাসতে থাকা যাত্রীরা সাঁতরে ফেরি ও পন্টুনে দাঁড়ানো লোকজনের সাহায্যে পানি থেকে উঠে জীবন বাঁচায়’। তবে আমার পাশের সীটের ওই টি শার্ট পড়া যুবকের আর কোন দেখা পায়নি। আমার যতটুকু মনে পড়ে এই বাসের প্রায় প্রতিটি সিটেই যাত্রী ছিলো তাদের অধিকাংশই নারী যাত্রী এবং তাদের সঙ্গে শিশু ছিল। কমপক্ষে ৪০ জন নারী ও শিশু ডুবে যাওয়া বাসের মধ্যে আটকা পড়ে থাকতে পারে’।
দুর্ঘটনা কবলিত বাসের কুমারখালী ও খোকসা কাউন্টার সূত্রে জানা যায়, ‘বুধবার বেলা আড়াইটায় কুমারখালী হতে ছেড়ে রাজবাড়ী হয়ে ঢাকাগামী সৌহার্দ্য পরিবহন (রাজবাড়ী ব ১১-০০২৪) যাত্রীবাহী বাসটি দুপুর আড়াই টায় কুমারখালী থেকে ছেড়ে খোকসা বাসস্ট্যান্ড কাউন্টার থেকে আরও দু’জন যাত্রী উঠেন। পরে বেলা ২টা ৪২ মিনিটে বাসটি খোকসা বাসষ্ট্যান্ড ছেড়ে রাজবাড়ি অভিমুখে যাত্রা করে।
বাসটির খোকসা কাউন্টার মাস্টার রাকিব জানায়, ‘ওই বাসের বি-১ ও ২ নম্বর আসনের যাত্রীরা খোকসা স্ট্যান্ডের কাউন্টারের যাত্রী ছিলেন। তাদের মধ্যে খাইরুল নামে এক যাত্রী বেঁচে ফিরেছেন। তবে অজ্ঞাত পরিচয়ের আরও এক বৃদ্ধ যাত্রী উঠেছিলেন তার কোন সংবাদ এখনও পায়নি’।
তিনি দাবি করেন, ‘ঘটনার সময় বাসটির প্রকৃত চালক ছিলো না। একথা একটা বানোয়াটি মিথ্যা কথা। ঘটনার সময় প্রকৃত চালকই গাড়ি চালাচ্ছিলেন। বেঁচে ফেরা খাইরুলের সঙ্গে কথা বলে আমি জানতে পেরেছি। চালক আরমানের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে বাসটি ফেরিতে ওঠার পূর্ব মুহুর্তে সুপারভাইজার সিরিয়ালের জন্য ফেরি কাউন্টারে নেমেছিলো আর হেলপার বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলো। বাসটি রাজবাড়ীর মালিকানাধীন হওয়ায় এর চালক সুপারভাইজার এবং হেলপার সকলের বাড়িই রাজবাড়ী জেলায়’।
সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, ‘‘দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে যাত্রীবাহী বাস নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনায় কুষ্টিয়া শহরের মজমপুর এলাকার আবু বক্কর সিদ্দিকের স্ত্রী মর্জিনা খাতুন (৫৬), খোকসা উপজেলার জানিপুর ইউনিয়নের খাগড়বাড়ীয়া গ্রামের হিমাংশু বিশ্বাসের ছেলে রাজীব বিশ্বাস (২৮), ধুশুন্দু গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের ছেলে ইস্রাফিল (৩) ও শমসপুর গ্রামের গিয়াসউদ্দিন রিপনের মেয়ে আয়েশা সিদ্দিকা (১৩)র লাশ উদ্ধার হয়েছে বলে জানা গেছে।
আ. লীগ মুক্তিযুদ্ধ-স্বাধীনতাকে তাদের একক অর্জন বলে মনে করে
মহান স্বাধীনতা দিবসে একাত্তরের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা