নড়বড়ে রক্ষণে বড় হার

আপডেট : ২৮ মার্চ ২০২৬, ০২:৩৫ পিএম

বড় দলের বিপক্ষে জয়ের অভ্যাসটা গড়ে উঠল না। উল্টো নড়বড়ে রক্ষণে চড়া মাশুল দিতে হলো বাংলাদেশকে। বৃহস্পতিবার হ্যানয়ের হ্যাং ডে স্টেডিয়ামে স্বাগতিক ভিয়েতনামের কাছে হামজাদের হার ৩-০ ব্যবধানে। প্রীতি ম্যাচে বড় প্রতিপক্ষকে হারানোর প্রত্যাশা নিয়ে মাঠে নামা বাংলাদেশের খেলায় ছিল না আগের সেই তেজ। যে দলটি গত নভেম্বরে ঘরের মাঠে ভারতকে হারিয়ে ১৩ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়েছিল, সেই বাংলাদেশই ভিয়েতনামের সামনে ধরা দিয়েছে ধূসর রূপে। তাই বড় হারের লজ্জা সঙ্গী করে সিঙ্গাপুর যেতে হচ্ছে তাদের। ৩১ মার্চ এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের শেষ ম্যাচে জন্য তেমন কোনো রসদ অন্তত এ ম্যাচ থেকে কুড়িয়ে নিতে পারেনি বাংলাদেশ।

প্রথমার্ধের ৩৮ মিনিটেই তিন গোল হজম করে বাংলাদেশ। তিনটি গোলেই আছে বাংলাদেশের অগোছালো ডিফেন্সের দায়। কার্ডের কারণে দলে নেই অন্যতম সেন্টারব্যাক তপু বর্মণ। একই কারণে নেই আক্রমণভাগের মূল অস্ত্র রাকিব হোসেনও। এই দুইয়ের অনুপস্থিতিতে এই বাংলাদেশকে বড্ড ম্রিয়মাণ মনে হয়েছে। চোট কাটিয়ে ফিরে হামজা চৌধুরী পুরো ম্যাচই খেলেছেন, তবে ছিলেন নিজের ছায়া হয়ে। শামিত সোম, ফাহামিদুল ইসলাম, জায়ান আহমেদরাও নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি। দীর্ঘ সময় খেলার বাইরে থেকেও একাদশে সুযোগ পাওয়া তারিক কাজীকে দলের লজ্জার হারের দায় নিতে হবে অনেকটা। তপুর অবর্তমানে তিনি পারেননি দলের রক্ষণভাগকে নিরেট রাখতে।

ভারতের ম্যাচের একাদশে চারটি পরিবর্তন করে খেলতে নেমেছিল বাংলাদেশ। তপু ও রাকিবের জায়গায় খেলেন শাকিল আহাদ তপু ও ফাহামিদুল। এছাড়া নিয়মিত গোলকিপার মিতুল মারমার জায়গায় মেহেদী হাসান শ্রাবণ ও ভারতের ম্যাচে জয়সূচক গোল করা শেখ মোরসালিনকে বসিয়ে হাভিয়ের কাবরেরা অভিষেকের সুযোগ করে দেন মিরাজুল ইসলামকে।

র‌্যাংকিংয়ে ৭৮ ধাপ এগিয়ে থাকা ভিয়েতনাম ঘরের মাঠে সুবিধা নিয়ে শুরু থেকেই ছিল আক্রমণাত্মক। দলটি এই ম্যাচে অভিষেক করায় এক ব্রাজিলিয়ান বংশোদ্ভূত স্ট্রাইকারকে। হোয়াং হেন নাম নিয়ে প্রথম ভিয়েতনামি জার্সিতে খেলতে নেমে পুরোটা সময়ই ভীতি ছড়িয়েছেন। গোল না পেলেও বারবার শ্রাবণকে পরীক্ষা নেন।

হোয়াং হেনের নেতৃত্ব ভিয়েতনামের ফরোয়ার্ড লাইনের কাজটা অনেক সহজ করে দিয়েছেন বাংলাদেশের ডিফেন্ডাররা। শুরুটা চতুর্থ মিনিটে। বকেয়া বেতন না পেয়ে বসুন্ধরা কিংস ছেড়ে যাওয়ার পর থেকেই খেলার মধ্যে না থাকা তারিক কাজী অবিশ্বাস্যভাবে একটি বল তুলে দেন হেনের পায়ে। তিনি ভয়ংকর হয়ে ওঠার আগেই অবশ্য সøাইড করে তার শট ব্লক করেন সাদ উদ্দিন। অষ্টম মিনিটে লিড নেয় ভিয়েতনাম। প্রথম কর্নার থেকে উড়ে আসা বল বাংলাদেশের ডিফেন্ডাররা ফাম তুয়ান হাইয়ের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ করে দেন। তার শট অবশ্য মার্কার জায়ান আহমেদের পায়ে লেগে পোস্টে জড়ায়। আত্মঘাতী গোলে পিছিয়ে পড়ার পর বাংলাদেশ যেন আরও তালগোল পাকিয়ে ফেলে। ১৬ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে হোয়াং হেনের কোনাকুনি শট ঝাঁপিয়ে রুখে দেন শ্রাবণ। পরের মুহূর্তে হোয়াং দু’র অসাধারণ ভলি ফিস্ট করে রক্ষা করেন বাংলাদেশ কিপার। তবে দুই মিনিট পর শ্রাবণ পারেননি দুর্দশা ঘোচাতে। এবারও ডিফেন্সের ভুলে গোল হজম করতে হয়। সতীর্থের লম্বা ফ্রি-কিকে ফাম জুয়ান মানের হেড জালে জড়ায়। বাংলাদেশের ডিফেন্ডাররা তা চেয়ে চেয়ে দেখেছেন কেবল। অফসাইড ফাঁদে ফেলার চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে গোল করেন ভিয়েতনাম ফরোয়ার্ড। ম্যাচের ২০ মিনিটে সুযোগ পেয়েছিলেন ফয়সাল আহমেদ ফাহিম। বক্সের বাইরে থেকে তার ডান পায়ের জোরালো ভলি অবশ্য ভিয়েতনাম কিপার ড্যাং ভ্যান দাম বাঁদিকে ঝাঁপিয়ে রুখে দেন। ম্যাচের ২৬ মিনিটে বক্সের ঠিক বাইরে ভালো জায়গায় বল পেয়েও এলোমেলো শটে সুযোগ নষ্ট করেন এ ম্যাচের অধিনায়ক সোহেল রানা। ৩২ মিনিটে শ্রাবণের আরেকটি সেভ ৩-০ হতে দেয়নি ভিয়েতনামকে। হাই লংয়ের শট এক হাতে রুখে দেন বাংলাদেশ কিপার। তবে ৩৮ মিনিটে ঠিকই ৩-০ করেন হাই লং। ডান দিক দিয়ে আক্রমণে উঠে বাংলাদেশের দুই ডিফেন্ডারকে বোকা বানিয়ে বক্সে ঢুকে তারিক কাজীর পায়ের ফাঁক দিয়ে দূরের পোস্টে বল জমা করেন ভিয়েতনাম মিডফিল্ডার। বিরতি থেকে ফিরেও বাংলাদেশ পারেনি হারের ব্যবধান কমাতে। এ সময় কাবরেরা বেশ কিছু পরিবর্তন করেও খেলার নিয়ন্ত্রণ নিতে ব্যর্থ হন। ভিয়েতনামের দুর্ভাগ্য, তাদের তিনটি প্রচেষ্টা পোস্ট ঠেকিয়ে দেওয়ায় জয়টা বড় হয়নি স্বাগতিকদের।

এটি ছিল দুই দলের চতুর্থ মুখোমুখি লড়াই। ১৯৭৩ সালে মারদেকা কাপে পূর্ব ভিয়েতনামের বিপক্ষে প্রথম খেলেছিল বাংলাদেশ। সে ম্যাচ ড্র হয়েছিল। এরপর ২০০১ সালে দাম্মামে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের দুবারের দেখায় এক ম্যাচ ড্র ও অপর ম্যাচে হারে তারা।

বাংলাদেশ একাদশ : মেহেদী হাসান শ্রাবণ, সাদউদ্দিন, তারিক কাজী, শাকিল আহাদ তপু, জায়ান আহমেদ, হামজা চৌধুরী, সোহেল রানা, শামিত সোম, ফাহামিদুল ইসলাম, ফয়সাল আহমেদ ফাহিম, মিরাজুল ইসলাম।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত