মালয়েশিয়ায় দুই লাখ কর্মী পাঠাবে বাংলাদেশ, বিনিয়োগ আসছে ২০০ কোটি ডলার

তিনি জানান, দ্রুতই ব্যাটারিচালিত যানবাহনের জন্য একটি যুগোপযোগী বিধিমালা চূড়ান্ত হতে যাচ্ছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী ঢাকার প্রধান সড়কগুলোতে কোনো ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল করতে দেওয়া হবে না।
 
আপডেট : ৩০ আগস্ট ২০২৬, ১২:৫৩ পিএম
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে উন্মুক্ত হতে যাচ্ছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। আগামী সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ বাংলাদেশ থেকে প্রায় দুই লাখ কর্মী নেওয়ার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু করবে দেশটি।
 
এই পুরো প্রক্রিয়া পরবর্তী ছয় মাসের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে। এর মধ্যে সরকারের বিশেষ কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় প্রথমবারের মতো ১০ হাজার শ্রমিক সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বা ‘জিরো কস্টে’ মালয়েশিয়া যাওয়ার সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় বিভিন্ন খাতে প্রায় ২০০ কোটি ডলার (দুই বিলিয়ন) বিনিয়োগের রূপরেখা ও আগ্রহ প্রকাশ করেছে মালয়েশিয়া সরকার।
 
রোববার (৩০ আগস্ট) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের সঙ্গে বৈঠক করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার মোহাম্মদ সুহাদা ওসমান। বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
 
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। ফাইল ফটো  
প্রতিমন্ত্রী জানান, সেপ্টেম্বরের শেষ থেকে শুরু হয়ে ছয় মাসের মধ্যে দুই লাখ কর্মীর মালয়েশিয়া গমন প্রক্রিয়া শেষ হবে। ২০২২ সালে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী কর্মী নির্বাচনের পূর্ণ এখতিয়ার মালয়েশিয়ার হাতে থাকলেও, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় এসেছে বড় পরিবর্তন। দেশের স্বার্থ রক্ষায় বিতর্কিত সিন্ডিকেট বাদ দিয়ে পরিচ্ছন্ন রিক্রুটিং এজেন্সিকে সুযোগ দেওয়া হয়েছে। মালয়েশিয়ার মন্ত্রিসভা অনুমোদিত ২৫টি মূল এজেন্সির পাশাপাশি অন্তর্বর্তী সরকারের সুপারিশকৃত তালিকা থেকে অতিরিক্ত ৩১২টি সহযোগী এজেন্সি এবং সরকারের একমাত্র সরকারি রিক্রুটিং প্রতিষ্ঠান 'বোয়েসেল' (BOESL)-সহ মোট ৩৩৮টি এজেন্সিকে এই কার্যক্রমে যুক্ত করা হয়েছে।

বিশেষ করে 'জিরো কস্টে' যাওয়া ১০ হাজার কর্মীর বিমান ভাড়াসহ যাবতীয় অভিবাসন ব্যয় বহন করবে নিয়োগকারী পক্ষ। বোয়েসেলের ব্যবস্থাপনায় বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইটে এই কর্মীদের মালয়েশিয়ায় পাঠানো হবে।

কেবল জনশক্তি রফতানিই নয়, বাংলাদেশে বিভিন্ন অবকাঠামোগত ও পরিবেশবান্ধব খাতে নতুন উন্মোচন হতে যাচ্ছে। প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম উল্লেখ করেন, মালয়েশিয়া বাংলাদেশে প্রায় দুই বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে। বিশেষ করে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন এবং সড়ক নির্মাণে বিটুমিনের সঙ্গে রাবারের উদ্ভাবনী ব্যবহারের মতো বৃহৎ প্রকল্পগুলোতে এই বিনিয়োগের জোর সম্ভাবনা রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে দেশের অভ্যন্তরীণ পরিবহন ব্যবস্থাপনা ও ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচলের বিষয়েও সরকারের শক্ত অবস্থানের কথা তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, দ্রুতই ব্যাটারিচালিত যানবাহনের জন্য একটি যুগোপযোগী বিধিমালা চূড়ান্ত হতে যাচ্ছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী ঢাকার প্রধান সড়কগুলোতে কোনো ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল করতে দেওয়া হবে না।
 
আরও বলেন, একই সঙ্গে রাজধানীতে দুই ও চার সিটের পরিবেশবান্ধব ই-রিকশা নিবন্ধনের আওতায় আনা হলেও, ঝুঁকিপূর্ণ ছয় সিটের রিকশার কোনো লাইসেন্স দেওয়া হবে না। শহরের শৃঙ্খলা ফেরাতে এলাকাভেদে রিকশার রঙ আলাদা করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। পরিবেশ রক্ষার খাতিরে এসব ব্যাটারিচালিত যান চার্জের জন্য সৌরবিদ্যুৎ চালিত চার্জিং স্টেশন স্থাপনের পরিকল্পনাও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত