চট্টগ্রামে পুলিশের হাত থেকে রেহাই পেতে তুলকালাম কাণ্ড ঘটিয়েছে রুবেল নামে এক যুবক। তার বিরুদ্ধে চুরি, ছিনতাইসহ নানা অপরাধ সংঘঠনের অভিযোগে ১৪টি মামলা রয়েছে বলে তথ্য দিয়েছে পুলিশ।
গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় গ্রেপ্তার এড়াতে ডোবায় লাফ দেন রুবেল। ছয় ঘণ্টা ধরে কাদায় গড়াগড়ি করেন। এ সময় কোনও এক ফাঁকে স্ত্রীর দেওয়া রামদা নিয়ে পুলিশকে আত্মহননের ভয়ও দেখান তিনি। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি তার। দীর্ঘ ছয় ঘণ্টা পর তীরে উঠে এলে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার সন্ধ্যায় নগরের হালিশহর এলাকায়।
পুলিশ বলছে, রুবেল মাদক ব্যবসায়ী ও ছিনতাইকারী। একটি মামলায় গ্রেপ্তার অভিযানে গেলে এমন কাণ্ড ঘটান রুবেল। গ্রেপ্তার রুবেল হালিশহরের একটি এলাকার ফকিরগলির আবু সৈয়দ ড্রাইভারের ছেলে ও নগরের চিহ্নিত ছিনতাইকারী দলের প্রধান। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হালিশহর থানার ওসি কাজী মুহাম্মদ সুলতান আহসান উদ্দিন।
ওসি বলেন, রুবেলের বিরুদ্ধে চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি, মারধরসহ ১৪টি মামলা পাওয়া গেছে। শনিবার (২৮ মার্চ) আদালতে পাঠালে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক। সম্প্রতি হানিট্রাপে ফেলে নারীদের ব্যবহার করে মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও ওঠে তার বিরুদ্ধে। আমরা তাকে গ্রেপ্তারে গেলে সে লাফিয়ে কাদায় পড়ে যায়। ছয় ঘণ্টার বেশি কষ্টে সাদা পোশাকে আমরা অবস্থান পরিবর্তন করে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি।
জানা গেছে, শুক্রবার দুপুর ১২টায় রুবেলকে গ্রেপ্তার করতে গেলে দৌড়ে একটি ভবনের ওপর থেকে পার্শ্ববর্তী ডোবায় লাফ দেন রুবেল। এরপর সেখানে গলা পর্যন্ত তার শরীর আটকে যায়। পরে তার স্ত্রী রোদের অজুহাত দেখিয়ে ছাতার আড়ালে তাকে একটি রামদা দিয়ে যান। এ সময় রামদাটি দিয়ে আত্মহত্যা ও পুলিশ সদস্যদের আঘাত করার হুমকি দিতে থাকেন রুবেল। একপর্যায়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি টিমও ঘটনাস্থলে যায়। কিন্তু রুবেলের হুমকির সামনে কেউ তার ধারেকাছে ঘেষতে পারেননি। পরে পুলিশ ছয় ঘণ্টা ধরে অভিযান চালিয়ে কৌশলে এলাকা ত্যাগ করে একটি নির্জন স্থানে সাদা পোশাকে অবস্থান নেয়। পরবর্তীতে কাদা থেকে উঠলে পুনরায় তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
