বন্ধ হয়ে যাচ্ছে পোশাক কারখানার জেনারেটর

আপডেট : ২৯ মার্চ ২০২৬, ০৩:০১ এএম

জ্বালনি তেলের অভাবে দেশের তৈরি পোশাক কারখানার জেনারেটর চলছে না, ব্যাহত হচ্ছে উৎপাদন। ফলে নির্ধারিত সময়ে ক্রেতাদের পণ্য সরবরাহে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। গতকাল শনিবার দেশ রূপান্তরকে এ তথ্য জানিয়েছেন, বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম।

জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের কারণে বিশ্ব বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি কার্যত প্রায় একমাস ধরে বন্ধ রয়েছে। প্রণালি বন্ধ হওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের দাম দ্রুত বেড়ে গেছে। এর প্রভাব বিশ্ব বাণিজ্যে ব্যাপকভাবে পড়তে শুরু করেছে। হরমুজ প্রণালির আশপাশে প্রায় ২ হাজার জাহাজ আটকা পড়েছে। সংকীর্ণ এই নৌপথটির উত্তরে ইরান এবং দক্ষিণে ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের অবস্থান।

পরিস্থিতি সম্পর্কে মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ঈদ শেষে মালিক শ্রমিকরা কারখানায় ফিরেছেন। এখন জ্বালানির অভাবে উৎপাদন করা যাচ্ছে না। আগে বিকল্প হিসেবে জেনারেটর দিয়ে কারখানা চালানো হতো, এখন জ্বালনি তেলের অভাবে সেটিও সম্ভব হচ্ছে না। অনেক মালিক আমাকে ফোন দিচ্ছেন, করনিয় জানতে চাচ্ছেন। বিকেএমইএ সদস্যদের জ্বালানি পরিস্থিতি বিষয়ে অবহিত করেছি। সরকারও সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছে। বিশ্ব বাজারে জ্বালানি তেলের চরম সংকট তৈরি হয়েছে। যেজন্য সরকারের অবহেলা রয়েছে, এমনটি বলা যাচ্ছে না।

যুদ্ধের শুরুতে অনেকে মনে করেছে, ২০২৫ সালের মতো দুই এক সপ্তাহের মধ্যে সংঘাত থেমে যাবে। কিন্তু এবার পরিস্থিতি ভিন্ন হওয়ায় ক্রেতারা সতর্কতা অভলম্বন করছেন। তারা ক্রয় আদেশ কমিয়ে দিচ্ছেন। এর ফলে কারখানা মালিকরা উভয় সংকটে পড়েছেন। একদিকে কারখানা পরিচালনা ব্যয়, অন্যদিকে মাস শেষে শ্রমিকদের বেতন। এখন ক্রয় আদেশ না থাকলে টাকা আসবে কীভাবে।

যাই হোক চলমান সংকটকে জাতীয় সংকট হিসেবে বিবেচনা করে সমাধানে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। বিকল্প ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। না হলে দেশের দুর্বল অর্থনীতি আরও দুর্বল হয়ে পড়বে।

জানা গেছে, হরমুজ প্রণালি বিশ্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ। এই পথ দিয়ে প্রতিদিন বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস সরবরাহ করা হয়। যুদ্ধের মধ্যে তেহরান এটিকে কূটনৈতিক চাপ তৈরির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করায়, এ নিয়ে বেশ আলোচনা হচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত