জ্বালানি ব্যয় বেড়ে দ্বিগুণ, নজরদারি জোরদার

আপডেট : ২৯ মার্চ ২০২৬, ০৭:৪২ এএম

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি ব্যয় বেড়ে হয়েছে প্রায় দ্বিগুণ। ফিলিং স্টেশনগুলোতেও লাইন দীর্ঘ হচ্ছে। সরকার বারবার আশ্বস্ত করলেও ক্রেতাদের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েই চলেছে। জ্বালানি তেল নিয়ে চলমান অস্থিরতার মধ্যে বিভিন্ন এলাকায় তেল মজুদের খবর পাওয়া গেছে। এসব ঘটনায় ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে অপরাধীদের জরিমানার পাশাপাশি কারাদ-ও দিয়েছে। কোথাও কোথাও তেল না পেয়ে সড়কও অবরোধ করা হয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে দেশব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় নজরদারি ও সমন্বয় জোরদার করতে প্রতিটি পেট্রোল পাম্প তদারকিতে একজন করে সরকারি কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। পাশাপাশি সারা দেশে অভিযান জোরদার, ডিপো থেকে সরবরাহ সময় এগিয়ে আনা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানোর মতো একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

গতকাল শনিবার জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শুক্রবার সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক অনলাইন সভায় প্রতিটি পাম্পে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিয়োগের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ঢাকা ও চট্টগ্রামে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সরাসরি এই দায়িত্ব দেবে। অন্যদিকে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা সংশ্লিষ্ট পাম্প তদারকির জন্য কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেবেন।

জ্বালানি বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এবং বিপিসি নির্ধারিত পদ্ধতি অনুযায়ী কাজ করবেন। পাশাপাশি তারা প্রতিদিনের কার্যক্রম ও জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি সম্পর্কে নিয়মিত প্রতিবেদন দাখিল করবেন।

সরকারি এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, অনিয়ম প্রতিরোধ এবং মাঠপর্যায়ে তদারকি জোরদার করা। ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর ও সংস্থাকে দ্রুত এসব কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়ে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগে তথ্য পাঠানোর জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এদিকে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ডিপো থেকে তেল বিপণনের সময়সূচিও দুই ঘণ্টা এগিয়ে আনা হয়েছে। এখন সকাল ৭টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত ডিলাররা তেল সংগ্রহ করতে পারবেন। এর আগে সময় ছিল সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা। বিপিসির অধীনস্ত পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা তেল কোম্পানিকে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে জ্বালানি খাতে অনিয়ম রোধে দেশ জুড়ে অভিযান জোরদার করা হয়েছে। শুক্রবার ছুটির দিনে ৬২ জেলায় ২৯৩টি অভিযান ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। এতে ৭৮টি মামলা দায়ের করা ছাড়াও জরিমানা আদায় করা হয়েছে ৩ লাখ ১৫ হাজার ৫৫০ টাকা।

জ্বালানি তেলের মজুদদারদের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে গতকাল সরকারি দলের সংসদীয় সভায় আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি।

 বৈঠক শেষে বিকেলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, তেলের কোনো সংকট নেই। অবৈধ মজুদদারদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হবে। চোরাচালান রোধ করতে ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন।

আমদানি ব্যয় বেড়েছে : যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির ফলে সরকারের আমদানি ব্যয় বাড়ছে উদ্বেগজনক হারে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই-জানুয়ারি মাসে অপরিশোধিত তেল আমদানিতে ব্যয় ৭৪৬ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের ৩৯৩ মিলিয়ন ডলার থেকে ৮৯ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে।

মাসিক ভিত্তিতে আমদানির পরিমাণও প্রায় ১৯ শতাংশ বেড়েছে। তবে জুলাই-ডিসেম্বর মাসে ৬২৭ দশমিক ১ মিলিয়ন ডলার থেকে জানুয়ারিতে ৭৪৬ মিলিয়ন ডলার হয়েছে।

পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির জন্য ৪ হাজার ২২০ দশমিক ৮ মিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে, যা গত বছর ছিল ৩ হাজার ২০৬ দশমিক ৩ মিলিয়ন ডলার।

জ্বালানি তেল আমদানি করতে গিয়ে যুদ্ধের পর বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা বাড়তি ব্যয় হয়েছে। ঘাটতি সামাল দিতে গিয়ে সরকারকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৬৭ কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হচ্ছে।

 তেলের জন্য দীর্ঘ লাইন : প্রায় এক মাস ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে জ্বালানি তেলের জন্য চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। যদিও সরকারের তরফ থেকে বারবার বলা হচ্ছে হচ্ছে দেশে তেলের কোনো সংকট নেই। কিন্তু বাস্তবে ফিলিং স্টেশনগুলোতে লাইন ক্রমেই দীর্ঘ হচ্ছে। অনেক পাম্পে তেল মিলছে না। আবার কোথাও কোথাও দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও চাহিদামতো তেল পাওয়া যাচ্ছে না।

শুক্রবার বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের এক বিবৃতিতে শনিবার (আজ) থেকেই জ্বালানি পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আশা করা হলেও সরেজমিনে ঘুরে তার কোনো প্রমাণ মেলেনি।

গতকাল দুপুর ১২টার দিকে কল্যাণপুরে খালেক পাম্পে গিয়ে দেখা যায় সেখানে  তেল নেওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন কয়েকশ মানুষ। আসাদগেট এলাকায় অবস্থিত তালুকদার ফিলিং স্টেশনে তখন তেল সরবরাহ বন্ধ ছিল। কিন্তু সরবরাহ শুরুর আশায় আগে থেকেই সেখানে অপেক্ষা করছিলেন মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ির চালকরা। এর ঠিক উল্টোপাশে সোনারবাংলা ফিলিং স্টেশনে তখন তেল সরবরাহ করা হচ্ছিল। কিন্তু চোখে পড়ে দীর্ঘ লাইন।

সেখানে দাঁড়িয়ে কথা হয় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী সাইফুল আলমের সঙ্গে। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সরকারের কথায় আশ্বস্ত হয়ে এর আগে তেল নেননি। কিন্তু এখন আর কোনো উপায় নেই। তাই অফিস থেকে ছুটি নিয়ে তেলের লাইনে দাঁড়িয়েছি।’

ব্যক্তিগত গাড়িচালক লুৎফর রহমান জানান, ‘দৈনন্দিন কাজের ফাঁকে ফাঁকে তেলের জন্য বিভিন্ন পাম্পে গিয়ে কোথাও তেল সরবরাহ বন্ধ আবার কোথাও বিরাট লম্বা লাইন দেখে তেল নিতে পারেননি। কিন্তু আজ (গতকাল) তেল না নিলে গাড়ি গ্যারেজে রেখে দিতে হবে।’

ঢাকার বাইরেও বিভিন্ন এলাকায় জ্বালানি সংকট আরও প্রকট হয়ে উঠেছে। দিনাজপুরের ফুলবাড়ী ও হাকিমপুরসহ বিভিন্ন উপজেলায় অধিকাংশ ফিলিং স্টেশনে তেল সরবরাহ বন্ধ বা সীমিত থাকায় সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত মোটরসাইকেল ও অন্যান্য যানবাহনের দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। কোথাও কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করেও গ্রাহকরা তেল পাচ্ছেন না। হাকিমপুরে ছয় দিন পর ৩ হাজার লিটার পেট্রোল সরবরাহ পেলে তা কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শেষ হয়ে যায়। অনেকেই রাতভর লাইনে দাঁড়িয়ে মাত্র ২০০ টাকার তেল পেয়েছেন, আবার অনেকে খালি হাতে ফিরেছেন। ফুলবাড়ীতেও কিছু পাম্পে ১০০ থেকে ২০০ টাকার সীমায় তেল দেওয়া হলেও অধিকাংশ পাম্পে সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।

সাতক্ষীরা, রংপুর ও মেহেরপুরসহ বিভিন্ন জেলায় একই চিত্র দেখা গেছে। কোথাও কোথাও নির্ধারিত পাম্পে তেল না পেলেও খোলাবাজারে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। মফস্বলের অনেক এলাকায় প্রতি লিটার পেট্রোল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযানে ধরা পড়ছে মজুদ ও কারসাজি : মাঠপর্যায়ের অভিযানে মজুদ রেখে কৃত্রিম সংকট তৈরির একাধিক ঘটনা ধরা পড়ছে। জামালপুর সদর উপজেলার পিটিআই মোড়ে মেসার্স জুই এন্টারপ্রাইজে পেট্রোল নেই এমন ঘোষণা দেওয়ার পর জেলা প্রশাসনের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট বিএমএসআর আলিফ এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সোহেল মাহমুদ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পাম্পটি পরিদর্শন করেন। এ সময় দেখা যায় পাম্পটির ১২টি ড্রামে প্রায় ২ হাজার ৫০০ লিটার পেট্রোল মজুদ রয়েছে।

মজুদ থাকা সত্ত্বেও গ্রাহকদের কাছে তেল বিক্রি না করে কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগে পাম্পটির ম্যানেজারকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী ৫০ হাজার টাকা অর্থদ- করা হয়।

ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলায় ‘মেসার্স পপি ট্রেডার্স’ নামে পেট্রোল পাম্পে অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে মজুদ করা ২৪ হাজার লিটার জ্বালানি (পেট্রোল ও অকটেন) জব্দ করেছে প্রশাসন। এ ঘটনায় পাম্প মালিককে দুই লাখ টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

এর আগে শুক্রবার রাতে জেলার হালুয়াঘাটে অভিযান চালিয়ে ২৩০ লিটার জ্বালানি জব্দ করে উপজেলা প্রশাসন। গতকালও হালুয়াঘাট উপজেলার জামগড়া মোড় এলাকায় মুদি দোকানি শাহজালালের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ৩৭০ লিটার জ্বালানি তেল জব্দ করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় শাহজালালকে পাওয়া যায়নি। মজুদ করা জ্বালানি তেল পরবর্তী সময়ে বিক্রি করে সরকারি কোষাগারে টাকা জমা দেওয়ার ব্যবস্থা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

শুক্রবার সন্ধ্যায় নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার রামপুর বাজারে অভিযান চালিয়ে ৮০০ লিটার পেট্রোল জব্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে এসব তেল লাইসেন্স ছাড়া অতিরিক্ত মূল্যে খুচরা বিক্রি করার সত্যতা পাওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এনায়েতুর রহমান নামের এক ব্যবসায়ীকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

জব্দ করা এসব পেট্রোল গতকাল সকাল ১০টায় রামপুর বাজারে সরকার নির্ধারিত মূল্যে ও পরিমাণ অনুযায়ী প্রকাশ্যে বিক্রির জন্য কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেয় আদালত।

দিনাজপুরের বিরল উপজেলার ধর্মপুর নীরাবল এলাকায় রাতের অঁাঁধারে অতিরিক্ত দামে জ্বালানি তেল বিক্রি করায় শাহিনুর ইসলাম (১৯) নামের এক তরুণকে দুই হাজার টাকা জরিমানা ও পাঁচ দিনের কারাদ- দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

একই সময়ে অবৈধভাবে পেট্রোল বিক্রির দায়ে ধর্মজৈন কাতুলিয়াপাড়া গ্রামের আতাউর রহমানের ছেলে জাহাঙ্গীর আলমকে (৩৫) দুই হাজার টাকা এবং পার্বতীপুর উপজেলার পশ্চিম বাজিতপুর গ্রামের ইয়ানুস সিয়াম (১৭) নামের এক কিশোরকে এক হাজার টাকা অর্থদ- দেওয়া হয়েছে।

অর্থদন্ড পাওয়া শাহীনুর কয়েক দিন আগেও একই অপরাধে জরিমানা গুনেছেন দুই হাজার। শুক্রবার রাতে ওই তিনজনকে অর্থদন্ড ও একজনকে ৫ দিনের জন্য জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলায় একটি গোয়ালঘর থেকে ড্রামভর্তি পেট্রোল জব্দ করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ ঘটনায় অবৈধ মজুদ ও অতিরিক্ত দামে বিক্রির অভিযোগে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপজেলার দাঁতভাঙা ইউনিয়নে অভিযানটি পরিচালনা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাফিউর রহমান।

এছাড়া সিরাজগঞ্জ, চুয়াডাঙ্গা, গোপালগঞ্জ ও হালুয়াঘাটেও ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে অবৈধ মজুদ ও চড়া দামে বিক্রির প্রমাণ মিলেছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই জব্দ করা তেল সরকার নির্ধারিত মূল্যে তাৎক্ষণিকভাবে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিক্রি করা হয়েছে।

ডিপোতে বিজিবি মোতায়েন, নজরদারি জোরদার : মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশে অবৈধ মজুদ ও কৃত্রিম সংকট তৈরির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেল বিপণনে শৃঙ্খলা বজায় রাখা ও নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে দেশের বিভিন্ন জেলায় ডিপোগুলোতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে।

বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, গত ২৫ মার্চ থেকে ঢাকাসহ ৯টি জেলার মোট ১৯টি ডিপোতে এই মোতায়েন কার্যক্রম শুরু হয়। এর মধ্যে কুড়িগ্রাম, রংপুর, রাজশাহী, সিলেট, মৌলভীবাজার, কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও সুনামগঞ্জের ডিপোগুলো অন্তর্ভুক্ত। বিজিবি সদর দপ্তরের তত্ত্বাবধানে অস্থায়ী বেজ ক্যাম্প স্থাপন করে সদস্যরা নিয়মিত নিরাপত্তা ও তদারকি কার্যক্রম চালাচ্ছেন।

সংস্থাটি জানিয়েছে, অবৈধ মজুদ ও কালোবাজারি প্রতিরোধ, নাশকতা ঠেকানো এবং যে কোনো অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতি মোকাবিলায় গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় টহল বাড়ানো, নৌ টহল জোরদার, চেকপোস্টে তল্লাশি এবং আমদানি-রপ্তানির যানবাহনে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত