চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটকে কেন্দ্র করে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ ভোক্তা ও যানবাহন চালকেরা। অভিযোগ উঠেছে, অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের কারণে ঈদের পরদিন থেকেই পেট্রোল ও অকটেনের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে প্রতি লিটার ২০০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। তাও আবার দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে তেল সংগ্রহ করতে হচ্ছে ক্রেতাদের।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাড়তি দামে ডিজেল ও পেট্রোল কিছুটা পাওয়া গেলেও রবিবার থেকে উপজেলার ডিলারদের কাছে অকটেন সরবরাহ বন্ধ থাকায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকার ব্যবহারকারীরা। কাঙ্ক্ষিত জ্বালানি পেতে এক বাজার থেকে অন্য বাজারে ঘুরে বেড়াতে হচ্ছে ভোক্তাদের।
এ পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন পেট্রোলচালিত বেবি ট্যাক্সি চালকরা। রিয়াদ নামে এক চালক বলেন, আমাদের প্রতিদিন অন্তত ৫ লিটার পেট্রোল লাগে। অথচ দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ২ লিটারের বেশি তেল পাওয়া যায় না। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের না খেয়ে থাকতে হবে।
এদিকে অনেক ক্ষেত্রে তেল কিনতে গিয়ে ভোক্তাদের বাধ্য করা হচ্ছে অতিরিক্ত পণ্য কিনতে। উপজেলার শিবেরহাট বাজারে ‘সোহাগ ট্রেডার্স’র বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে—এক লিটার তেল কিনতে হলে ক্রেতাদের একটি প্যাকেট সেমাই কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, উপজেলার বিভিন্ন বাজারে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অতিরিক্ত দামে বিক্রি করা হচ্ছে। অসাধু ব্যবসায়ীরা তেল মজুদ করে বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে বলেও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
অপরদিকে পুরো উপজেলায় লাইসেন্সবিহীন অসংখ্য অবৈধ খুচরা তেল বিক্রির দোকান গড়ে উঠেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। স্থানীয় প্রশাসন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে।
রবিবার রাতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বৈধভাবে নিয়োজিত নয়টি প্রতিষ্ঠানে তদারকির জন্য ট্যাগ অফিসার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে পুরো উপজেলায় ছড়িয়ে থাকা অসংখ্য অননুমোদিত বিক্রয়কেন্দ্র নিয়ন্ত্রণ করা কতটা সম্ভব—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
ট্যাগ অফিসার আখতারুজ্জামান সুজন বলেন, আমার দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠানটি শুধু ডিজেল বিপণনের অনুমোদনপ্রাপ্ত এবং সেখানে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ রয়েছে। তবে পুরো সন্দ্বীপে গড়ে ওঠা অননুমোদিত বিক্রয়কেন্দ্র নিয়ন্ত্রণে উপজেলা প্রশাসন কাজ করছে।
এদিকে উপজেলা প্রশাসনের চাপের মুখে সেনেরহাট এলাকার ‘সেলিম অ্যান্ড সন্স’ নামের একটি ডিলার রবিবার রাতে প্রতি লিটার পেট্রোল ১৩০ টাকায় বিক্রি করেছেন বলে জানা গেছে। সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত এ বিক্রি চলেছে।
প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী এডিএম সেলিম জানান, আগে তিনি মেঘনা পেট্রোলিয়াম থেকে তেল এনে সাব-ডিলারদের সরবরাহ করতেন। কিন্তু সাব-ডিলারদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত দামে বিক্রির অভিযোগ ওঠায় তিনি নিজেই খুচরা পর্যায়ে ১৩০ টাকা দরে প্রায় এক হাজার লিটার পেট্রোল বিক্রি করেছেন।
হাছান নামে এক মোটরসাইকেল চালক অভিযোগ করেন, কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে বিভিন্ন স্থানে তেল মজুদ করা হচ্ছে। ফলে এক লিটার ডিজেল বা অকটেনের জন্য চালকদের এক বাজার থেকে অন্য বাজারে ছুটতে হচ্ছে।
অন্যদিকে, জ্বালানি তেলের ডিও (ডেলিভারি অর্ডার) নিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সুপারিশ বাধ্যতামূলক হওয়ায় প্রতি ডিওর বিপরীতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে ১০ হাজার টাকা উৎকোচ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মংচিংনু মারমার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরে তার কার্যালয়ে দায়িত্বরত সিএ সাখাওয়াত হোসেন বলেন, এ অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
