জ্বালানি তেলে বিশৃঙ্খলা

সিন্ডিকেট ও মজুদে ভোগান্তির চূড়ান্ত

আপডেট : ৩১ মার্চ ২০২৬, ০৭:৩৫ এএম

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের আঁচ ভালোভাবেই লেগেছে দেশের জ্বালানি তেলের বাজারে। দিন যত যাচ্ছে তেলের সংকট ক্রমেই তত ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। তেলের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে যানবাহনের চালকদের। বিভিন্ন স্থানে হচ্ছে সংঘাত-হট্টগোল। তেল নেওয়াকে কেন্দ্র করে সংঘাত ঘটেছে হতাহতের ঘটনাও। 

সরকারের পক্ষ থেকে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হলেও গ্রাহক পর্যায়ে স্বাভাবিক করা যাচ্ছে না তেলের সরবরাহ। নিয়মিত অভিযান চালিয়ে, জেল-জরিমানা করেও নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না অবৈধ মজুদকারী ও কালোবাজারিদের। সংকট পুঁজি করে কয়েকগুণ বেশি দামে কারবার জারি রেখেছে বিভিন্ন সিন্ডিকেট। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আমাদের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন জ্বালানি তেল নিয়ে স্থানীয় পরিস্থিতি। আমাদের সন্দ্বীপ প্রতিনিধি জানান, চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটকে কেন্দ্র করে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ ভোক্তা ও যানবাহন চালকরা। সেখানে অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের কারণে ঈদের পরদিন থেকেই পেট্রোল ও অকটেনের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে প্রতি লিটার ২০০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। তাও আবার দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে তেল সংগ্রহ করতে হচ্ছে ক্রেতাদের।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাড়তি দামে ডিজেল ও পেট্রোল কিছুটা পাওয়া গেলেও রবিবার থেকে উপজেলার ডিলারদের কাছে অকটেন সরবরাহ বন্ধ থাকায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন মোটরসাইকেল ও প্রাইভেট কার ব্যবহারকারীরা। কাক্সিক্ষত জ্বালানি পেতে এক বাজার থেকে অন্য বাজারে ঘুরে বেড়াতে হচ্ছে ভোক্তাদের। এ পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন পেট্রোলচালিত বেবিট্যাক্সি চালকরা। রিয়াদ নামে এক চালক বলেন, ‘আমাদের প্রতিদিন অন্তত ৫ লিটার পেট্রোল লাগে। অথচ দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ২ লিটারের বেশি তেল পাওয়া যায় না। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের না খেয়ে থাকতে হবে।’

এদিকে অনেক ক্ষেত্রে তেল কিনতে গিয়ে ভোক্তাদের বাধ্য করা হচ্ছে অতিরিক্ত পণ্য কিনতে। উপজেলার শিবেরহাট বাজারে ‘সোহাগ ট্রেডার্স’-এর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে এক লিটার তেল কিনতে হলে ক্রেতাদের এক প্যাকেট সেমাই কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে।

পুরো উপজেলায় লাইসেন্সবিহীন অসংখ্য অবৈধ খুচরা তেল বিক্রির দোকান গড়ে উঠেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। স্থানীয় প্রশাসন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে।

রবিবার রাতেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে বৈধভাবে নিয়োজিত ৯টি প্রতিষ্ঠানে তদারকির জন্য ট্যাগ অফিসার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে পুরো উপজেলায় ছড়িয়ে থাকা অসংখ্য অননুমোদিত বিক্রয়কেন্দ্র নিয়ন্ত্রণ করা কতটা সম্ভব তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ট্যাগ অফিসার আখতারুজ্জামান সুজন বলেন, ‘আমার দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠানটি শুধু ডিজেল বিপণনের অনুমোদনপ্রাপ্ত এবং সেখানে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ রয়েছে। তবে পুরো সন্দ্বীপে গড়ে ওঠা অননুমোদিত বিক্রয়কেন্দ্র নিয়ন্ত্রণে উপজেলা প্রশাসন কাজ করছে।’

অন্যদিকে জ্বালানি তেলের ডিও (ডেলিভারি অর্ডার) নিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সুপারিশ বাধ্যতামূলক হওয়ায় প্রতি ডিওর বিপরীতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে ১০ হাজার টাকা উৎকোচ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মংচিংনু মারমার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরে তার কার্যালয়ে দায়িত্বরত সিএ সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘এ অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।’

দিনাজপুরের হাকিমপুর প্রতিনিধি জানান, হিলিতে একমাত্র পেট্রোল পাম্প হিলি ফিলিং স্টেশনে গত দুদিন ধরে মিলছে না তেল। দুদিন ধরে বন্ধ পেট্রোল ও অকটেন তেল বিক্রি তবে ডিজেল বিক্রি স্বাভাবিক রয়েছে। তেল নিতে গিয়ে তেল না পেয়ে বিপাকে পড়েছেন বিভিন্ন যানবাহন চালকরা।

অবশ্য খোলাবাজারে বাড়তি দামে তেল পাওয়া যাচ্ছে। চালকদের ভাষ্য, সিন্ডিকেট করে তেল বাইরে বিক্রি করা হচ্ছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার বলেন, পাম্প কর্তৃপক্ষ বলছে ডিপো থেকে চাহিদামতো তেল না পাওয়ায় ও তেল না থাকায় বিক্রি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া আমাদের চট্টগ্রাম ব্যুরো এবং নাটোর, ফেনী, বগুড়া প্রতিনিধি জানিয়েছেন ওইসব এলাকায় প্রশাসনের অভিযান ও মজুদ করা তেল উদ্ধারের তথ্য।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত