চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের ব্রাহ্মণচক গ্রামে সম্পূর্ণ অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে তৈরি হচ্ছে আইসক্রিম। বিএসটিআই-এর অনুমোদনহীন এই কারখানায় বিষাক্ত রং ও ঘনচিনি ব্যবহার করে তৈরি করা এসব নিম্নমানের আইসক্রিম ছড়িয়ে পড়ছে স্থানীয় বিভিন্ন হাট-বাজার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে। ফলে মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ছে কোমলমতি শিশুরা।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আইসক্রিম ফ্যাক্টরির বাহিরের দিকে দেখে বুঝা যায় এটি একটি ভাঙারি গোডাউন এর ভিতর ভাঙারি ব্যবসার আড়ালে তৈরি হচ্ছে আইসক্রিম। স্যাঁতস্যাঁতে মেঝেতে যত্রতত্র ছড়িয়ে আছে আইসক্রিম তৈরির সরঞ্জাম। মাছি ও পোকামাকড় কারখানার ভেতর অবাধে বিচরণ করছে। শ্রমিকরা কোনো প্রকার গ্লাভস বা মাস্ক ছাড়াই খালি হাতে আইসক্রিম কাঠি ঢোকাচ্ছে এবং প্যাকিং করছে। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে ব্যবহৃত পানিও অনিরাপদ উৎস থেকে সংগ্রহ করা হচ্ছে। আইসক্রিমের মোরকের মধ্যে নেই কোন উৎপাদনের তারিখ ও মেয়াদ উত্তীর্ণ তারিখ।
মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার মোবারক হোসেন বলেন, এসব আইসক্রিমে ব্যবহৃত কেমিক্যাল ও অস্বাস্থ্যকর পানি শিশুদের লিভার, কিডনি এবং পাকস্থলীর মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। দীর্ঘমেয়াদী এসব খাবারে টাইফয়েড, জন্ডিস ও ডায়রিয়ার মতো পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি থাকে শতভাগ।
এ বিষয়ে আইসক্রিম ফ্যাক্টরির মালিক খোরশেদ আলম বলেন, পরিবেশ পুরোপুরি নোংরা এ কথা সঠিক নয়, তবে কিছু কাজ হাতে করতে হয় বলে হয়তো দেখতে একটু অগোছালো মনে হতে পারে। আমরা চেষ্টা করি ভালো মানের উপকরণ ব্যবহার করতে। বিএসটিআই (BSTI) অনুমোদনের প্রক্রিয়াটি চলমান রয়েছে, খুব শীঘ্রই আমরা সব কাগজ গুছিয়ে নেব।
এই বিষয়ে মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, অবৈধভাবে শিশু খাদ্য ও আইসক্রিম তৈরি এবং বাজারজাত করা সম্পূর্ণ অনিয়ম। এ ধরনের কার্যক্রম শুধু আইন ভঙ্গই নয়, শিশুদের স্বাস্থ্যের জন্যও মারাত্মক হুমকি। এদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জ্বালানি সাশ্রয়ে স্কুলে অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার কথা চলছে