ইরান যুদ্ধে ২০ হাজার কোটি ডলার ক্ষতির মুখে আরব বিশ্ব

আপডেট : ৩১ মার্চ ২০২৬, ০৯:১৩ পিএম

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলার জেরে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত আরব দেশগুলোর ওপর গভীর অর্থনৈতিক সংকট ডেকে আনতে পারে। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ সংঘাতের কারণে আরব অঞ্চলটি প্রায় ২০ হাজার কোটি মার্কিন ডলার ক্ষতির মুখে পড়তে পারে, যা অঞ্চলটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে গুরুতর আঘাত হানবে। 

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) ইউএনডিপি-র ওই প্রতিবেদনের বরাতে এ খবর প্রকাশ করেছে ব্লুমবার্গ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে স্বল্পমেয়াদি সামরিক উত্তেজনাও আরব অঞ্চলে গভীর ও ব্যাপক সামাজিক-অর্থনৈতিক প্রভাব ফেলতে পারে। তাদের হিসাব অনুযায়ী, এ ক্ষতির ফলে অঞ্চলে বেকারত্বের হার প্রায় ৪ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। এতে প্রায় ৩৬ লাখ মানুষ চাকরি হারাতে পারে এবং আরও প্রায় ৪০ লাখ মানুষ দারিদ্র্যের মধ্যে পতিত হতে পারে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (জিসিসি)-ভুক্ত দেশগুলো-বাহরাইন, কাতার, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান ও সৌদি আরব-সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে। এসব দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৫ দশমিক ২ শতাংশের বেশি ক্ষতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ সামরিক অভিযান শুরু করে। এ অভিযানে রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহরে হামলা চালানো হয়। এর জবাবে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) ইসরায়েল এবং বাহরাইন, জর্ডান, ইরাক, কাতার, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালায়।

এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও তাদের সমর্থনকারী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কিত জাহাজগুলোর জন্য হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয় ইরান। সংঘাত চলাকালে তেহরানের অনুমতি ছাড়া প্রণালি অতিক্রম করায় কয়েকটি তেলবাহী জাহাজে হামলার ঘটনাও ঘটে।

এদিকে ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধের ব্যয় বহনে আরব দেশগুলোর কাছে আহ্বান জানাতে পারেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার (৩০ মার্চ) হোয়াইট হাউস এমন ইঙ্গিত দিয়েছে। যুদ্ধের ব্যয় দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় এমন সম্ভাবনা সামনে এসেছে।

১৯৯০ সালে উপসাগরীয় যুদ্ধের সময় যেভাবে মার্কিন মিত্ররা সামরিক ব্যয়ের অংশ বহন করেছিল, এবারও কি আরব রাষ্ট্রগুলোকে খরচ বহনের আহ্বান জানানো হবে? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লিভিট বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এ বিষয়ে তাদের আহ্বান জানাতে পারেন। এমন পরিকল্পনা তার মাথায় রয়েছে। শিগগিরই এ বিষয়ে ঘোষণা আসবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত