ভারতে আদমশুমারি শুরু মাঠে থাকবে ৩০ লাখ কর্মী

আপডেট : ০১ এপ্রিল ২০২৬, ০১:২৫ এএম

বিশ্বের সর্বোচ্চ জনসংখ্যার দেশ ভারতে আদমশুমারি শুরু হয়েছে। আজ বুধবার থেকে শুরু হওয়া এই গণনা কার্যক্রম এক বছর ধরে চলবে এবং ৩০ লাখের বেশি কর্মকর্তা এতে অংশ নেবেন। ভারত সরকার এই আদমশুমারিকে ১.২৪ বিলিয়ন ডলারের একটি ‘জাতীয় গুরুত্বের বিশাল উদ্যোগ’ বলে ঘোষণা করেছে। সরকার আশা করছে, এটি শাসনব্যবস্থাকে আরও পূর্ণাঙ্গ করবে এবং নীতি প্রণয়নে সঠিক তথ্য দেবে। এই গণনায় রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল বিষয়ও থাকবে, যেমন জাতিভেদ। ভারতীয় সমাজে এই প্রথা মানুষের কাজ এবং সামাজিক অবস্থান নির্ধারণ করে। ২০২৩ সালে চীনকে ছাড়িয়ে বিশ্বের সর্বোচ্চ জনসংখ্যার দেশে পরিণত হয় ১৪০ কোটির বেশি মানুষের দেশ ভারত। দশ বছর পরপর অনুষ্ঠিত জনগণনাটি মূলত হওয়ার কথা ছিল ২০২১ সালে। কিন্তু বাদ সাধে কোভিড-১৯ মহামারী।

এবারের আদমশুমারিটি হবে দুটি ধাপে। প্রথম ধাপে- বুধবার থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত, বাড়ি বাড়ি গিয়ে আবাসন ও সুবিধার তথ্য সংগ্রহ করা হবে। অনলাইনের মাধ্যমে স্ব-গণনারও ব্যবস্থা থাকবে, যা স্যাটেলাইট চিত্রের ওপর ভিত্তি করে তৈরি একটি অ্যাপে করা যাবে এবং এটি ১৬টি ভাষায় উপলব্ধ হবে। দ্বিতীয় ধাপে- জনসংখ্যার তথ্য নেওয়া হবে, যার মধ্যে সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং বিতর্কিত বর্ণ সম্পর্কিত প্রশ্নও থাকবে। ভারতে বর্ণ এখনো মানুষের শিক্ষা, সম্পদ ও সুযোগপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। ভারতের রেজিস্ট্রার জেনারেল ও সেনসাস কমিশনার মৃত্যুঞ্জয় কুমার নারায়ণ জানান, প্রথম ধাপে বাড়িঘর ও আবাসন পরিস্থিতির তালিকা করা হবে এবং দ্বিতীয় ধাপে বাসিন্দাদের তথ্য, পাশাপাশি তাদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সূচক সংগ্রহ করা হবে। ২০১১ সালে ৮০ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো বর্ণসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করেছিল ভারত। তবে এর যথার্থতা নিয়ে উদ্বেগ থাকায় সেই তথ্য পুরোপুরি প্রকাশ করা হয়নি।

এর আগে সর্বশেষ ১৯৩১ সালে ব্রিটিশ শাসনের সময় বিস্তৃত বর্ণ তথ্য নেওয়া হয়েছিল। ২০২৭ সালের ১ মার্চের আগে দেশব্যাপী গণনা শেষ করা হবে; যাতে উচ্চ হিমালয় ও বিতর্কিত জম্মু-কাশ্মীর অঞ্চলেও তুষারপাতের আগে কাজ শেষ হয়। নারায়ণ আরও বলেন এবারই প্রথমবারের মতো ডিজিটাল পদ্ধতিতে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে, ফলে শুমারি শেষ হওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই এর বিভিন্ন তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব হবে। প্রায় ১৪০ কোটি মানুষের দেশ ভারতে বিদ্যুৎ, খাদ্য ও আবাসনের চাহিদা পূরণ করা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। বড় শহরগুলোতে পানি ঘাটতি, বায়ু ও জল দূষণ এবং জনাকীর্ণতার সমস্যা বেশি দেখা দিচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত