মানুষের হয়ে কাজ করব, তাদের কণ্ঠস্বর তুলে ধরব: মীর হেলাল

আপডেট : ০২ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৩২ পিএম

১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল, বিএনপি। তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পেয়েছেন ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী- বায়েজীদ আংশিক) থেকে প্রথমবার তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন। জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে সংসদে নিজের আসন নিশ্চিতের পরে প্রথমবারেই ব্যারিস্টার হেলাল মন্ত্রীসভায় স্থান পেলেন। একসঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং ভূমি প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।

রাজনৈতিক পরিবার থেকে উঠে আসা এই নেতার জন্ম ১৯৮২ সালের ১২ আগস্ট চট্টগ্রামের হাটহাজারীর মীরেরখিল এলাকার মীরবাড়িতে। তিনি যুক্তরাজ্য থেকে এলএলবি (অনার্স), বার ভোকেশনাল কোর্স (ইউনিভার্সিটি অফ লন্ডন, যুক্তরাজ্য) ব্যারিস্টার এট ল (লিংকনস ইন, যুক্তরাজ্য) সম্পন্ন করেছেন। আইন পেশায় যুক্ত মীর হেলাল বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের তালিকাভুক্ত আইনজীবী। তিনি ল ফার্ম ‘দ্য লয়ার্স কাউন্সিল’র হেড অব চেম্বার্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

তরুণ নেতা হিসেবে ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন এমপি নির্বাচিত হয়ে প্রথমবারই মন্ত্রিসভায় স্থান পাওয়ায় একগুচ্ছ পরিকল্পনা সাজিয়েছেন হাটহাজারীর মানুষের কল্যাণে। এসব বিষয় নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন দেশ রূপান্তরের সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন দেশ রূপান্তরের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আজিম সাগর। আজ থাকছে প্রথম পর্ব।

দেশ রূপান্তর: প্রথমবারের মতো সংসদে গেলেন, এরপর মন্ত্রিসভায়। কেমন লাগছে আপনার? 

ব্যারিস্টার হেলাল: আলহামদুলিল্লাহ, প্রথমবারের মতো আমি সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছি এবং মন্ত্রণালয় দায়িত্ব পেয়েছি। আমার আসনের জনগণের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা যে তারা তাদের মূল্যবান ভোট দিয়ে আমাকে নির্বাচিত করেছে। আমি তাদের হয়ে কাজ করব। সংসদে তাদের কন্ঠস্বর তুলে ধরব। 

দেশ রূপান্তর: আপনার আসনের জনগণের জীবনমান উন্নয়নে কোন কাজগুলো অগ্রাধিকার পাবে? 

ব্যারিস্টার হেলাল: হাটহাজারীতে বিগত সময়ে অবকাঠামোগত উন্নয়ন খুব একটা হয়নি। রাস্তাঘাট, কালভার্টসহ মৌলিক অবকাঠামো এখানে ঠিক নেই। এ বিষয়টি আমি অগ্রাধিকারে রাখব। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমাদের ১৮০ দিনের একটি পরিকল্পনা ইতিমধ্যে দিয়েছেন। আমরা কাজ শুরু করেছি।

দেশ রূপান্তর: এক্ষেত্রে কোনও চ্যালেঞ্জ দেখছেন কি না?

ব্যারিস্টার হেলাল: এ কাজের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো এখানে কোন অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়নি গত ১৬-১৭ বছরে। সবার আগে মানুষের যাতায়াতের ব্যবস্থা ঠিক করতে হবে। খাল খননসহ আমরা দৃশ্যমান অনেকগুলো কাজ শুরু করতে পেরেছি।

দেশ রূপান্তর: হাটহাজারী নিয়ে আপনার বিশেষ কোনও চিন্তা-ভাবনা আছে?

মীর হেলাল: হাটহাজারী নিয়ে আমাদের বৃহৎ পরিকল্পনা আছে, কিছু দীর্ঘ মেয়াদী এবং কিছু স্বল্পমেয়াদী। হাটহাজারীতে দীর্ঘদিন ধরে একটা সম্প্রীতির বন্ধন ও সুন্দর পরিবেশ বিরাজ করছে। দেশ বিখ্যাত একটি মাদরাসা রয়েছে এখানে। হাটহাজারীতে এই শান্তিপূর্ণ পরিবেশ আগামীতেও অব্যাহত রাখার আপ্রাণ প্রচেষ্টা থাকবে।

দেশ রূপান্তর: হাটহাজারীতে শিক্ষার মানোন্নয়নে আপনার গৃহীত পদক্ষেপ কেমন হবে?

ব্যারিস্টার হেলাল: শিক্ষা ক্ষেত্রে আমাদের স্বল্পমেয়াদী লক্ষ্য নিয়ে ইতিমধ্যেই শিক্ষা মন্ত্রণালয় কাজ করছে। আমার স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে এক্সট্রা কারিকুলার অ্যাক্টিভিটিস বৃদ্ধির জন্য কাজ করব। এক্ষেত্রে প্রতিটি পর্যায়ের পাঠ্যসূচি রিভিউ করে যুগোপযোগী ও আধুনিক শিক্ষা প্রবর্তন করব। আমরা দক্ষতা ভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থার ওপরে জোর দেব, যাতে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার পাশাপাশি দক্ষতা অর্জন করতে পারে।

দেশ রূপান্তর: হাটহাজারীর আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নের জন্য পরিকল্পনা আছে কি না? 

ব্যারিস্টার হেলাল: হাটহাজারীসহ পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে আমাদের নিরলস প্রচেষ্টা রয়েছে। ইতিমধ্যে এসব এলাকায় অনেক সন্ত্রাসী ধরা পড়েছে। তাদের পুলিশ ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা নিয়ে ধরা হয়েছে। তারা ছিল মূলত স্থানীয় আওমী সন্ত্রাসী। হাটহাজারীসহ এই অঞ্চলে মাদক, অস্ত্র, চোরাচালান ও সামাজিক অপরাধের বিষয়ে আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়ন করা হবে। অপরাধ যেই হোক না কেন তাকে কোনও ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত