সেঞ্চুরির পথে ‘খনা’

আপডেট : ০৩ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০৩ এএম

নন্দিত নাট্য প্রযোজনা বটতলা’র আলোচিত নাটক ‘খনা’র ১০০তম মঞ্চায়ন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১১ এপ্রিল, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে। মোহাম্মদ আলী হায়দারের নির্দেশনায় খনা নাটকটি এমন এক আখ্যানের মঞ্চকৃতি; যা নারী ও শ্রেণির প্রশ্নকে সামনে আনে। গল্পটা দেড় হাজার বছর আগের হলেও আজও সমান প্রাসঙ্গিক। প্রজন্মান্তরে চলা যে কৃষিজ্ঞান ও প্রজ্ঞা খনা নামে বহমান, তার ঠিকুজি কুষ্ঠির খোঁজে নাটক ‘খনা’ এগিয়ে চলে চাষিদের বেগুন ক্ষেত, কলা বাগান মাড়িয়ে ছোট্ট উঠানে। আর খনা তার জীবনের নানা প্রশ্নের ঊর্ধ্বে এক অন্য সত্যের মুখে দাঁড় করান দর্শকদের। নারী প্রশ্নে, সমতার প্রশ্নে, শ্রেণির প্রশ্নে ক্ষমতা কাঠামোর নানান সমীকরণের নিবিড় ও বহুমাত্রিক পাঠের প্রস্তাবনা নিয়ে ‘খনা’ এমনই মঞ্চকৃতি, যা এই সময়ের কথাই বলে দূর অতীতের ইশারাসমেত।

২০১০ সালের ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবসের শততম বর্ষপূর্তিতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সহস্র সাধারণের সামনে মঞ্চায়নের মধ্য দিয়ে নাটকটির যাত্রা শুরু করেছিল। দীর্ঘ ১৬ বছরে দেশ-বিদেশে দর্শকনন্দিত হয়েছে এই নাটক; আলোচিত থেকেছে নাট্যাঙ্গন ও বিদ্যায়তনিক পরিমণ্ডলে; আর বটতলার কাছে হয়ে উঠেছে প্রাণ-স্পন্দনের সমার্থক এক সত্তা। নির্দেশক মোহাম্মদ আলী হায়দার বলেন, ‘খনার শততম মঞ্চায়নের প্রহরে অতীত আর বর্তমানকে এক সুতোয় গেঁথে নেওয়ার প্রচেষ্টা হিসেবে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারেই দানা বাঁধছি আবার। আগামী ১০ এবং ১১ এপ্রিল আয়োজিত হতে যাচ্ছে দুই দিনব্যাপী ‘খনার ১০০তম মঞ্চায়ন উৎসব’। লীলাবতীর প্রকৃতিজ জ্ঞানকাণ্ডের সূত্র ধরে আমরা আসর সাজিয়েছি বিভিন্ন সাংস্কৃতিক উপস্থাপনা নিয়ে।’

এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বটতলার পরিচালক হুমায়ূন আজম রেওয়াজ জানান, ১০  এপ্রিল সকালে শিল্পী ও অ্যাক্টিভিস্ট অরূপ রাহীর পরিচালনায় ‘উদয়ভানু সঙ্গ’ অধিবেশনের মধ্য দিয়ে উৎসবের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হবে। এরপর থাকবে আমন্ত্রিত শিল্পীদের যন্ত্রসংগীতের (সরোদ, বেহালা) পরিবেশনা ও গান। ১১ এপ্রিল উৎসবের দ্বিতীয় দিন যথারীতি ‘দেশীয় পণ্যের মেলা’ চলমান থাকবে। সন্ধ্যায় প্রদর্শিত হবে বহুল প্রতীক্ষিত ‘খনা’র শততম মঞ্চায়ন। এই সাংস্কৃতিক উৎসবে উপস্থিত থাকছেন সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম এবং পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত